বিশাল-বিথীঃঅসহ্য থেকে প্রিয়া

Words
443
Reading
2 min
Listen
Play
5y

গ্রামের প্রাইমারি স্কুল মাঠে ক্রিকেট ম্যাচ চলছে।পারার ছেলেরা ছয়-সাত জন মিলে ক্রিকেট খেলছে।বিশাল বোলিং প্রান্ত থেকে বল করছে,আর ব্যাট করছে তারই খালাতো ভাই জিহাদ।জিহাদ বলে বলে ছয় মারছিল।বিশাল যেভাবেই বল দিচ্ছিল ব্যাটের কাছে বল যেতেই কিভাবে না জানি জিহাদ সেটাকে এমন জোরে আঘাত করে যে বল মাঠ পেরিয়ে পাশের বাড়ির ছাদে গিয়ে পড়ে।
বিশালের তাই নিজের উপর খুব রাগ পাচ্ছে।তার রাগ আরো বাড়িয়ে দিলো,মাঠের এক কোণায় দাঁড়ানো একটা ছোট্ট মেয়ে।জিহাদ যখন বলে বলে চার-ছক্কা হাঁকাচ্ছে,মেয়েটা তখন প্রতিবারি জোরে জোরে হাত তালি দিচ্ছে,আর জিহাদের পক্ষ হয়ে চিল্লাচ্ছে।
এমনিতেই বিশাল কিছুতেই পেরে উঠছিলো না,তার উপর এই মেয়ের এইরকম হাত তালি,চিল্লাপাল্লা বিশালের কানে বিশের মতো ঠেকছিল।তার মনে হচ্ছে,কেউ তার কানের উপর জোরে জোরে চপেটাঘাত করছে।
খেলা শেষ হওয়ার পর,বিশাল জিহাদকে জিজ্ঞেস করলো, এ মেয়েটা কেরে?আগেতো দেখিনি।

PicsArt_03-12-04.25.41.jpg

তুই দেখবি কিভাবে,সেও তোর মতো বেড়াতে এসেছে,পাশের বাড়ির বাবলু চাচাদের বাড়িতে।

ওহ্ আচ্ছা।নাম কি ওর?

কেনো তোর কি দরকার,পছন্দ হইছে নাকিরে?এই বলে জিহাদ বিশালকে ধাক্কা দিলো আস্তে করে।

আরে নাহ্,পছন্দ হওয়া দূরে থাক,আমার কি যে রাগ পাচ্ছিল খেলার সময়,মেয়ে না হয়ে কোনো ছেলে হলে ঐসময় গিয়ে এক থাপ্পড়ে তার দাঁত কয়েকটা ফেলে দিতাম।

"থাক আর দাঁত ফেলতে হবে না।ওর নাম বিথী।তোর নামের সাথে মিল আছে।"বলে জিহাদ হাসলো।

এর পর থেকে বিশাল যখনই বিথীকে দেখে তার কেনো জানি শুধু রাগ উঠে মেয়েটার উপর।

আরেকদিন বিশাল কানে এয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে,হঠাৎ পিছন থেকে একটা বাইক এসে পড়লো,কানে এয়ারফোনের কারণে বিশাল বুঝতে পারেনি।বিথী এই দিক দিয়ে যাচ্ছিল,বিশালের দিকে তাকিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে বললো,এই ছেলে দেখিস না,পিছনে বাইক,বাইকের নিচে চাপা পড়বিতো।

বিশাল দৌড়ে রাস্তা পাড় হয়ে গেলো,বাইক চলে গেলো,বিথীও চলে গেলো।বিশালের রাগতো আরো বেড়ে গেলো,আমার থেকে ছোট মেয়ে আমাকে তুই-তুকারি করলো,সাহস কতো বড়।ইহ্, আমাকে বাঁচাতে আসছে,এর থেকে বাইকের নিচে চাপা পড়া ভালো ছিলো।

এইসব ছোট-খাটো আরো কিছু ঘটনা ঘটলো,যা বিথীর প্রতি বিশালের রাগ আরো বাড়িয়ে দিল।এক সময় এমন হলো যে বিশাল সারাক্ষণ বিথীকে নিয়ে ভাবতে থাকলো,যাই করুক না কেনো,সারাক্ষণ মনে হয়,হ্যাঁ এই মেয়েটা আমার সাথে এমন করতে পারলো!এটা করলো কেনো!ওটা না করলেও পারতো!

এরপর বিশালের ছুটি শেষ হয়ে আসলো,সে খালার বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি চলে গেলো।বিথীও বাড়িতে চলে গেলো।
বিশাল বাড়িতে গেলো ঠিকই কিন্তু বিথীকে ভুলতে পারলো না।বিথীকে দেখলেই যে রাগ উঠতো,মন চাইতো গিয়ে দেই একটা থাপ্পড়,এই মূহুর্তগুলো সে ভীষণভাবে মিস করতে লাগলো।তারপর কিছুদিন যাওয়ার পর বিশাল একবার খালার বাড়ি গিয়ে বিথীকে খুঁজলো কিন্তু পেলো না,বিথী আসেনি।জিহাদকে জিজ্ঞেস করলো,জিহাদ বললো ও জানে না,কখন কবে আবার বেড়াতে আসে তার ঠিক নেই।
বিশাল জিহাদকে বললো যখনি বিথী আসে তাকে যেনো জানানো হয়।জিহাদ খুঁচা দিয়ে বললো,তুইতো ওরে সহ্যই করতে পারিস না,এখন এইরকম হন্যে হয়ে খুঁজার মানে কি।বিশাল কিছু না বলে চুপ করে রইলো।

বিশাল মনে মনে চিন্তা করে,বিথীর প্রতি রাগগুলো,বা বিথীর করা আচরণ বা ব্যবহার যা তার কাছে খারাপ লেগেছিলো,সেগুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে খারাপ লাগাগুলো ভালো লাগায় পরিণত হয়েছে।বিথীকে বোধহয় সে ভালোবেসে ফেলেছে...

বিশাল-বিথীঃঅসহ্য থেকে প্রিয়া | Ecency