আমরা সব সময় অন্যকে নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। অন্যের যত্ন নেওয়া, অন্যের ভালো, থাকা খারাপ থাকা সব কিছু নিয়েই আমাদের বেশ মাথা ব্যথা থাকে। অন্যের ভাবনায় এতটাই মগ্ন থাকি কখনো নিজের দিকে ফিরে তাকানোর সময় হয়না। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমি নিজেকে ভীষণ ভালোবাসি। শুধু যে আমার ভালো দিকগুলোকে ভালোবাসি তা নয়, নিজের খারাপ দিকগুলো কেউ ভালোবাসি। আমি সব সময় আমার ভালোলাগার দিকগুলোকে সযত্নে গ্রহণ করি। চেষ্টা করি নিজের জন্য, কখনো নিজের যাতে ক্ষতি না হয়। আমি সব সময় বিশ্বাস করি একটা মানুষ আরেকজনকে তখনই সম্মান করতে পারে, যখন সে নিজেকে সম্মান করতে পারে। একজন মানুষ তখনই আরেকজনকে মন ভরে ভালোবাসতে পারে, যখন নিজেকে সে ভালোবাসে। আমরা অনেক ক্ষেত্রে কিছু মানুষের ভুল পদক্ষেপ দেখতে পাই। যেটাকে আমরা হয়তো সবাই সাধারণ জিনিস হিসেবে এড়িয়ে চলি।
ধরুন আজ কালের প্রেমের সংজ্ঞা যদি দিতে হয় তাহলে মানুষ বেদনার সাথেই সংজ্ঞা দেয়। আবার অনেকে রয়েছে ভালোবাসা প্রমান করতে গিয়ে নিজের প্রাণ ত্যাগ করে। আবার অনেকের হাতেই ভালোবাসার কিছু ছাপ দেখতে পাবেন। সেই মানুষগুলো এই কাজগুলো করে শুধুমাত্র নিজেকে কষ্ট দেয়। তাহলে বলুন তারা কিভাবে নিজেকে ভালবাসতে পারে? চোখের নিচে কালো দাগ গুলো বারবার প্রমাণ করে দেয় আমরা কতটা নিজেকে নিয়ে ভাবি। আপনি যখন নিজে সুস্থ মত বাঁচবেন তখনই হয়তো আপনি আরেকজনকে সুস্থ জীবন দিতে পারেন। আমি যতবারই হেরেছি, জিতেছি, ব্যর্থ হয়েছি, তবুও আমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শক্তভাবে নিজেকে বলেছি আমি আমার আমিকে ভালোবাসি। মাঝেমধ্যে যখন নিজেকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে হাজারের মধ্যে আমি একজন সাধারন মানুষ। নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় নিজেকে কতটা পরিবর্তন করতে পেরেছি।
যখন অনেকগুলো চিন্তা আমার সামনে ব্যর্থতার লিস্ট টেনে ধরেছে, তার পরেও আমি নিজেকে বলেছি এর মানে তো হেরে যাওয়া না। এর মানে নিজেকে কষ্ট দেওয়া না। নিজেকে আরেকটু শক্ত করেই বলেছি যত যাই হোক ভালোবাসি নিজেকেই। যে মানুষ গুলো আমার ভেতরটাকে ভাঙতে চেয়েছিল বারবার, তার বিপরীতে আমি নিজেকে গড়ে তুলেছি আরো শক্ত করে। যে মানুষগুলো বারবার আমার ব্যর্থতার লিপি আমাকে বলে আনন্দ পেত, সেই মানুষগুলো কেউ আমি বলেছি এই ব্যর্থ আমিকেই আমি ভীষণ ভালোবাসি। আমি কখনো আমার হেরে যাওয়া বা জিতে যাওয়ার জন্য অন্যকে দায়ী করি না। কারন আমি এটা ভালো করেই জানি আমি যেটাই হই না কেন তার পিছনে শুধু আমি থাকবো।
খুব করে যদি ভাবেন, তাহলে দেখবেন যখন আপনি সফল হবেন এর ক্রেডিট নেওয়ার জন্য মানুষের অভাব হবে না। কিন্তু যখনই দেখবেন আপনি ব্যর্থতার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন, তখন এর দায়ভার শুধু আপনার একার। তাহলে কেনইবা অযথা সফলতার ভাগটা আরেকজনকে দিতে যাবেন। এই ব্যস্ত শহরে আপনি শুধু আপনার জন্যই শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন। কেউ আপনার পাশে এক মুহূর্তের জন্য দাঁড়ালেও আরেক মুহূর্তে আপনি তাকে আর খুঁজে পাবেন না। তাই হয়তো আমার আমিকেই আমি ভালোবাসি। কিছু কঠিন পদক্ষেপেও যদি নিজেকে খুঁজে পান, তাও সেই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন নিজের জন্য। কারণ নিজেকে খুঁজে পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ ।আপনি যতদিন না পর্যন্ত নিজের গুরুত্ব বুঝবেন, ততদিন আপনি ভালো পথ খুঁজে পাবেন না। তখন শুধু অন্যের পথকেই নিজের মনে করবেন। অন্যের ভালোলাগা, ভালোবাসা নিজের মনে করবেন। অন্যের সফলতায় নিজের হাসি খুঁজে পাবেন। কিন্তু কখন নিজের জন্য কিছু করবেন?
হয়তো ভাবছেন, আজ খুব স্বার্থপর এর মতো কথা বলছি। নিজের জন্য যদি একটু স্বার্থপর হয়ে যান, তাহলে খুব কি বেশি ক্ষতি হবে? নিজেকে ভালোবাসা যদি স্বার্থপরতা হয় তাহলে এই স্বার্থপরতায় কোন দোষ নেই। কারণ আপনি আজ যদি অন্যের জন্য সময় ব্যয় করেন, এই একই সময় একদিন আপনাকে নিজের জন্য ব্যয় করতেই হবে। কারন মানুষ একদিন না একদিন নিজের দিকে ফিরে ঠিকই তাকায়। হয়তো অনেকটা সময় খরচ করে, কিন্তু তার পরেও ফিরে তাকায়। ভিন্ন অনুভূতি, ভিন্ন গন্তব্য কিন্তু সবটাই হোক নিজের জন্য। যাতে অন্তত দিন শেষে নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারেন, "আমি আমার আমিকে ভালোবাসি।"