"পুরনো বন্ধু" এই শব্দটার সাথেই এক ধরনের মায়া জড়িয়ে থাকে। আমরা মাঝেমধ্যেই নতুনত্বের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে পুরোনো সেই বন্ধুদের ভুলে যাই। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া মানে নিজের প্রাণের একটি সংযোগ হারানোর মতো। সেই সময়ে বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। হয়তো ভেঙ্গে যায় না একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলের অনেক ভালো বন্ধু ছিল, যাদের সাথে এখন আর যোগাযোগ হয় না। যার কারণে তারা আমার নাগালের বাইরে চলে গেছে। আমাদের সবারই নিজেদের জীবনে নিজস্ব কিছু মাধ্যম রয়েছে, যে মাধ্যম গুলো অনুসরণ করে আমরা জীবন যাপন করে। আমি বেশ অলস মানুষ, কিন্তু তার পরেও আমার প্রতিদিনের রুটিন অনুসারে আমি আমার প্রতিটা দিন অনুসরণ করে থাকি।
শুধু আমি যে তাদের হারিয়ে ফেলি এমনটাও ঠিক না, তারাও অনেকের ভিড়ে আমাকে হারিয়ে ফেলে। মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে মেসেঞ্জারে স্ক্রোল করে নিচে গিয়ে তাদেরকে খুঁজে বের করি। কিন্তু কোন এক অজানা অহংকার নিজের মধ্যে কাজ করে, যেটা আমাকে বারবার বাধা দেয়। আমি কখনোই অনেক বন্ধুর আশা করিনি, কিন্তু সব সময় একটি ভালো বন্ধুর আশা করেছি। যেটা শুধুমাত্র আমি আমার স্কুল জীবনে খুঁজে পেয়েছিলাম। আবার সময়ের ব্যবধানে সেটা হারিয়ে ফেলেছি। হয়তো এটা ভেবেই হারিয়ে ফেলার সাহস পেয়েছিলাম যে, এই জীবনে আরো অনেক বন্ধু খুজে পাব। আমি সবসময় এটা বিশ্বাস করি একজনের অনেক বন্ধু থাকার থেকে একজন ভালো বন্ধু থাকা প্রয়োজন। সেই একজন ভালো বন্ধুর সাথে আমার প্রতিটি দিন ভালো কেটে যাবে।
আমার বর্তমান বন্ধুদের সাথে আমি প্রায়ই ভালো সময় কাটাই। সন্ধ্যার পরে যখন ভার্সিটির ক্লাস শেষ হয়, তখন ভার্সিটির সামনে বসে ছোট চায়ের দোকানে জম্পেশ আড্ডা দেওয়া হয়।তখন শহরের লাইট গুলো জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকে। মনে হয় আকাশের ছোট ছোট তাঁরা গুলো নিচে নেমে এসেছে। ধীরে ধীরে মানুষের যাতায়াত কমতে থাকে। কিন্তু আমাদের আড্ডার গভীরতা বাড়তে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা চলে এক কাপ চায়ের আড্ডা। রাত যত গভীর হতে থাকে আড্ডার মুহূর্তগুলো ততটাই রঙিন হয়। তারপরেও একটা সময় আমাদের বিদায় নিতে হয়। পরক্ষণেই সেই আনন্দের মুহূর্তটাকে শুধুমাত্র স্মৃতি হিসেবেই বাড়ি নিয়ে যাই।
স্কুলের বন্ধু গুলো কে বেশি অনুভব করার কারণ রয়েছে।কারণ তাদের মত প্রাণখুলে এখন আর কেউ হাসে না। কেউ আলাদা করে বসার জন্য, নিজের বই রেখে জায়গা রাখে না। আমি যখনই স্কুলে যেতে দেরি করতাম, তখন আমার প্রিয় বন্ধুটি নিজের পাশের জায়গাতে নিজের স্কুল ব্যাগ অথবা বই রেখে দিত। যাতে অন্য কেউ এসে সেই স্থানটি দখল করতে না পারে। তার সাথে থাকা প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়েছিল সে আমার বোনের মতো। আমরা কখনই আলাদা হওয়ার কথা চিন্তা করতাম না। আমরা যখনই স্কুলে একসাথে হতাম, বাড়িতে সময় কাটানোর সকল মুহূর্তের কথা একে অপরের সাথে শেয়ার করতাম।
স্মৃতিচারণের জন্য এখনো আমি তাকে মনে করি। আমার প্রিয় বন্ধুর বাবা অন্য জায়গায় ট্রান্সফার হওয়ার পর থেকে তার সাথে আমার একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন কষ্টটা উপলব্ধি করতে না পারলেও, এখন উপলব্ধি করতে পারি। আমি তাকে হারিয়ে ফেলছি তখনই এটা বুঝতে পারিনি। স্কুল বন্ধের মধ্যে যখন তারা আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যায় তারপর আর তাকে কোথাও খুঁজে পাইনি। আর তখন মুঠোফোনের কোন ব্যবস্থা ছিল না। সেই থেকেই সে এখন শুধুমাত্র আমার পুরনো স্মৃতি।