একজন মানুষকে আমাদের চিনতে কতটা সময় লাগে? আমরা কিভাবে একজন মানুষ কে বিচার করি? প্রশ্নগুলো আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবন তখনই সুন্দর হয় যখন সঠিক মানুষগুলো আমাদের জীবনে প্রবেশ করে। ঠিক উল্টো ভাবে একটি জীবনকে নষ্ট করার জন্য মুখোশ পরা একজন মানুষই যথেষ্ট। আমি এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য শেষে অপেক্ষা করব। আমাদের চিন্তা ধারণা ভিন্ন হওয়ার কারণে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো একে অপরের সাথে মিলবে না। কিন্তু আমাদের সবার ইচ্ছা একই দিকে নির্দেশ করবে সেটা হলো, আমাদের পাশের মানুষটা যেন মুখোশধারী না হয়। একজন মানুষের ভেতরটা যদি ভাল হয় সেই মানুষটাকে চিনতে আমাদের বেশি সময় লাগে না।
একজন মানুষকে চেনার জন্য হয়তো একদিনই যথেষ্ট অথবা এক ঘন্টা। আমাদের জন্য কঠিন হয় কারণ ভালো মানুষ এবং খারাপ মানুষের মুখ দেখতে একই রকম। তাদের মধ্যে বিন্দু পরিমাণ কোন পার্থক্য নেই। আমরা যেভাবে চলাফেরা করি, তারাও ঠিক একই ভাবে চলাফেরা করে। আমরা যেভাবে একজন মানুষের সাথে হেসে কথা বলি, তারাও ঠিক একই ভাবে হেসে কথা বলে। এই সাধারণ কারণ গুলোর জন্যই একজন মুখোশধারী মানুষকে আমাদের চিনতে অসুবিধে হয়। কিছু মানুষ সাধারণত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার মত হয়। সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটা জায়গা যেখানে আমরা কারো প্রোফাইলে গিয়ে তার জীবন বৃত্তান্ত দেখতে পাই। সে যদি নিজের প্রোফাইলে মন খারাপের কথা উল্লেখ করে, তাহলে আমরা নিজের মতো করে মন্তব্য করি।
আমরা বেশিরভাগই ভেবে নেই হয়তো তার প্রিয়তমার সাথে বিচ্ছেদ ঘটেছে। আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে যদি মন ভালোর বার্তা আমাদের সাথে ভাগ করে তাহলে আমরা নতুন করে আবার মন্তব্য করতে পছন্দ করি। এমন অনেকেই আছে যারা সারাদিনের নিজের সম্পর্কে সকল তথ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাগ করে থাকে। সে যখন যেটা ভাগ করে থাকে সেটাকেই আমরা বাস্তব বলে মনে করি। কিন্তু আমরা কখনো চিন্তা করি না এর বিপরীত অর্থ তৈরি হতে পারে। কারণ আমার অনেক সময়ই মন ভাল থাকলেও কোন মন খারাপের লাইন পছন্দ হয়। যেটা আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাগ করতে পছন্দ করি। এর মানে এটা দাঁড়ায় না যে আমার বাস্তব ক্ষেত্রেও মন খারাপ।
এটা শুধুমাত্র একটি নকল চিন্তাভাবনা। আমরা বিভিন্ন অভিনেত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইলে সারাক্ষণ নজর রাখতে পছন্দ করি। তারা কিভাবে মেকআপ করছে, কি পোশাক পরিধান করছে, কি খাওয়া দাওয়া করছে। সবগুলোই আমাদের চোখে লাগে। আমরা নিজেরাও তাদের মত হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল এত চাকচিক্য তার মধ্যেও কেন তাদের আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়? অনেকেই রয়েছে যারা বিচ্ছেদের পর বিভিন্ন ধরনের মন খারাপের তথ্য ভাগ করে থাকে। যদিও সেই বিচ্ছেদের কারণ তারা নিজেরাই। এই তথ্যের মাধ্যমে কখনোই আমরা সেই মানুষটাকে বিচার করতে পারি না যে, তিনি সঠিক। আমরা এটাও বিচার করতে পারি না তিনি কাউকে সত্যিই ভালবাসে। তিনি শুধুমাত্র একটি মন খারাপের মুখোশ পরে থাকে। আপনি খারাপ ভালো যেমনই হন না কেন অন্তত মুখোশধারী সেই মানুষগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সেই মানুষগুলোর তথ্য কখনো বিশ্বাস করতে নেই। একজন মানুষ কখনো কথায় নিজেকে প্রমাণ করতে চাইবে না। সব সময় চেষ্টা করবে নিজের কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার। মুখোশধারী মানুষগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করে। কিন্তু কখন তারা আপনার পিঠে ছুরির আঘাত করবে সেটা আপনি কখনো বুঝতে পারবেন না। কিন্তু সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো এই নাটকীয়তা দীর্ঘ সময় ধরে চলে না। খুব সহজেই একটা দিন মুখোশের আড়ালে আসল মানুষটাকে আপনি খুঁজে পাবেন। আপনার কষ্ট হলেও অন্তত সেই একটা সময় আপনি মানুষ চিনতে শিখে যাবেন।