মৃধা বনাম মৃধা

Words
583
Reading
3 min
Listen
Play
4y

​বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কথা শুনলেই অনেকের মুখে হাসি চলে আসে। ভাববেন না এটা কোন আনন্দের হাসি বা গর্বের হাসি। এই হাসির মাধ্যমে তুচ্ছ করা বোঝায়। কেউ যদি আমার এই কথাকে প্রত্যাখ্যান করতে চায় আমি বিশ্বাস করবো না। কারণ আমি নিজেও এই দলের মধ্যেই পড়ি। কিছুদিন ধরেই আমার বড় বোনের কাছে একটা চলচ্চিত্রের নাম শুনছি সেটা হলো "মৃধা বনাম মৃধা"। ইচ্ছে ছিল মুক্তি পাওয়ার পর পরই দেখার কিন্তু এটা শুধুমাত্র একটি অ্যাপস এর মাধ্যমে মোবাইলে দেখা যায়, যার কারণেই দেখতে দেখতে অনেক দেরি হয়ে গেল। চলচ্চিত্র বলতে সবসময় নিজের মধ্যে এক ধরনের অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি হয়। নিজের মধ্যে বেশ উত্তেজনা কাজ করে যে মুভিটা মন ছুঁতে পারবে কিনা। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজকে দুপুরের দিকে দেখে ফেললাম। দেখার ইচ্ছাটা জাগে প্রথমত অভিনেতাদের জন্য। কিছু প্রিয় মানুষ এখানে রয়েছে যাদের অভিনয় বরাবরই সবথেকে পছন্দের ছিল।

অভিনয়ে ছিলেন নোভা ফিরোজ, তারেক আনাম এবং সিয়াম আহমেদ। বিশেষ করে তারেক আনাম এর অভিনয় আমার সবসময়ই ভালো লাগতো। উনাকে নিয়ে হয়তো যত বলব ততই কম হবে কারণ উনার অভিনয় দক্ষতা আপনার মন কেরে নিবে। সবচেয়ে ভালো লাগে উনার নেচারাল অভিনয় এবং পার্সোনালিটি সবসময়ই আমাকে মুগ্ধ করেছে। বজ্র কন্ঠের সংলাপগুলো যেন চলচ্চিত্র সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। পারিবারিকভাবে চলচ্চিত্র দেখার অভ্যেসটা আমাদের ধীরে ধীরে অনেকটাই হারিয়ে গেছে। কিন্তু এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আরেকটা নতুন সময় শুরু হলো। আপনারা হয়তো বেলাশেষে চলচ্চিত্রটা অনেকেই দেখেছেন। আমি বিশ্বাস করি মৃধা বনাম মৃধা তার থেকে অনেক বেশি ভালো লাগবে। কারণ তারা পারিবারিক ছোট ছোট গল্প গুলো এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অনেক সুন্দর ভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেছে। আমার সব সময়ই সামাজিক জীবন এবং বাস্তব জীবনের ফুটে ওঠা গল্পগুলো চলচ্চিত্রে বেশি দেখতে ভালো লাগে।

চলচ্চিত্রটা দেখতে দেখতে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমি সবসময় মায়ের আদুরী ছিলাম। সব সময় বাবাকে ভয় পেতাম। যখন যা প্রয়োজন ছিল মায়ের কাছে চাইতাম, ঠিক এখনো তাই করি। কিন্তু তার মানে এটা না, বাবা আদর করত না। বাবা কখনো কিছুতে না করত না, বাবা কখনো মারেননি। কিন্তু তার পরেও বাবা কে কিছু বলতে, কিছু চাইতে খুব ভয় পেতাম। আমার মনে হয় পরিবারের প্রতিটি সন্তান সব সময় মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে। যখন যা কিছু প্রয়োজন নিজের মাকে বলে। কিন্তু আমরাও নিজের বাবাকে অনেক ভালোবাসি। তার প্রতি ভয়টা আসে হয়ত তার প্রতি বেশি শ্রদ্ধা থাকে তাই। পরিবারের এই সাধারণ গল্পটাই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে খুব সুন্দর ভাবে দর্শকদের কাছে তুলে ধরেছে পরিচালক। আমি কিন্তু এই চলচ্চিত্র টা দেখার আগেই খুব বেশি ভালো কিছু দেখতে পাবো সেটা আশা করিনি। আমি আগেই বলেছিলাম যে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের উপর আমাদের এক ধরনের অনীহা কাজ করে। ঠিক সেই মনোভাব নিয়েই দেখতে বসে ছিলাম।

আপনি এই মুভিতে না কোন খারাপ দৃশ্য দেখতে পাবেন না কোন একশন। এই সবকিছু ছাড়াই আপনাকে এই চলচ্চিত্র সর্বোচ্চ ভালো লাগা দিবে। চলচ্চিত্রের প্রতিটি দৃশ্য মন ভাল করার মত। আমি যখন দেখছিলাম আমার মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল পরবর্তীতে কি হতে চলেছে অথবা বাবা, ছেলের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে থামবে। গল্পের মধ্যে যেভাবে নতুন মোর নিয়েছিল আমি একদমই আশা করিনি। খুব সুন্দর ভাবে বাবার লুকোনো ভালবাসা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল এবং একজন সন্তানের দায়িত্ব তুলে ধরা হয়েছিল। যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করে এই চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমি কাকে দিতে চাই? তাহলে আমি বলব লেখক কে। এত সুন্দর একটি গল্প লেখার জন্য আমি তাকেই সম্পূর্ণ ক্রেডিট দিতে চাই এবং পরিচালক খুব সুন্দরভাবে গল্পটি পরিচালনা করেছেন। তা নাহলে হয়তো এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হতো না। চলচ্চিত্রে শুধু যে হাসি ছিল ঠিক তেমন না। চলচ্চিত্রের প্রথম দিকে আনন্দ থাকলেও শেষটাতে আপনার চোখে পানি চলে আসবে। সবটা বলে আমি আপনার ইমোশন নষ্ট করতে চাই না। যদি সময় হয় দেখে ফেলবেন। বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্র যদি আপনার মনে জায়গা করতে পারে আমি বলব এটা হল সেই চলচ্চিত্র মৃধা বনাম মৃধা

images (15).jpeg

Image

মৃধা বনাম মৃধা | Ecency