যে কোন খামারে পরিকল্পনা অর্থনৈতিক লাভের জন্য করা হয়। লেয়ার খামারে ২০ সপ্তাহ পরে মুরগি ডিম উৎপাদনে আসে এবং এক বছর ব্যাপী ডিম দেয়। লেয়ার মুরগি ১ বছর ৬ মাস খামারে থাকে। তাই লাভজনক ডিম পাড়া মুরগির খামার পরিকল্পনার বেলায় নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ চিন্তা করতে হবে।
১। মুলধনের পরিমাণ ও উৎস: খামারের আয়তনের উপর মূলধনের পরিমাণ নির্ভর করে। মূলধন নিজের টাকা না ব্যাংক ঋণের টাকা বিবেচনা করে খামার স্থাপন করতে হবে।
২। উপযুক্ত স্থান ও জমি নির্বাচন: খামার স্থাপনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ বিবেচনায় রেখে খোলামেলা ও বড় রাস্তার ধারে এটি স্থাপন করতে হবে।
৩। বাসস্থান তৈরি: বিজ্ঞামসম্মত ও পরিবেশ বান্ধব বাসস্থান গড়ে তুলতে হবে।
৪। উন্নত হাইব্রিড বাচ্চার প্রাপ্যতা: খামার লাভজনক করতে হলে এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
৫। সুষম খাদ্যের প্রাপ্যতা ও মূল্য: লেয়ার খামারের জন্য মুরগির খাদ্য সহজলভ্য, সহজ প্রাপ্য ও কম দামে প্রাপ্য হতে হবে।
৬। খামারের আকার-আয়তন: লেয়ার খামার ছোট বড় হলে অর্থের সংকুলানও কম বেশি লাগবে।
৭। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ: মুরগির খাদ্য প্রাপ্তির জন্য, প্রাপ্য ডিম বাজারজাকরণের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়া প্রয়োজন। সঠিক পরিমাণে ডিম প্রাপ্তিসহ খামারের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
৮। ডিমের চাহিদা, বাজার দর ও পরিবহন: এলাকার চাহিদা বিবেচনা করে ডিম বিক্রয় ও পরিবহনের সহজতর উপায় গ্রহণ করতে হবে।
৯। খামারের প্রকার: ডিমের ব্যবহার অনুযায়ী লেয়ার মুরগির খামার দু'প্রকার। (ক) নিষিক্ত বা বাচ্চা ফুটানোর ডিম উৎপাদন খামার। (খ) অনিষিক্ত বা ডিম উৎপাদন খামার। কোন ধরনের খামার তা নির্ধারণ করতে হবে।
১০। বয়ষ্ক মুরগির খামার: মুরগির ডিম উৎপাদন কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে সেগুলো মাংসের জন্য বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
১১। ডিমর রং ও বর্ণ: বাচ্চা ফোটানোর ডিম ও খাবার ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডিম সাদা বর্ণের না বাদামি বর্ণের হবে তা বিবেচনা করতে হবে।
১২। শ্রমিকের সহজলভ্যতা: সহজে শ্রমিক পাওয়া যাবে এবং মজুরি কম হতে হবে।
১৩। বার্ষিক সম্ভব্য আয়-ব্যয়: খামার লাভজনক করার চিন্তা মাথায় রেখে বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব ঠিকভাবে করতে হবে।
১৪। প্রতিষেধক টিকা ও ঔষধ: সুস্থ ও নিরোগ খামারের জন্য এটি জরুরি।
খামারে বার্ষিক গড়ে ডিম উৎপাদন ক্ষমতা ৭০-৮০% ধরা হয়। খামারে গড়ে ৮৮টি মুরগি (১০০টির মধ্যে) সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। বয়স্ক মুরগি বিক্রি করে এবং উৎপাদন খরচ বাদে শতকরা ১০-১২ টাকা হারে যাতে লাভ থাকে সে বিষয়টি মাথায় নিয়ে খামার পরিকল্পনা করতে হবে।