পুকুর প্রস্তুতকরণ: মাছ চাষ যে কোন আকার বা আয়তনের জলাশয়েই করা যায়। চৌবাচ্চা, পাকা হাউজ, কৃত্রিম জলাধার, পুকুর দীঘি, নদীনালা, খাল, বিল, হাওড় ও বাওড় ইত্যাদি যেখানেই পানি থাকে সেখানেই মাছ চাষ করা যেতে পারে। উক্ত জলাধারগুলোকে অবশ্যই মাছ চাষের উপযোগী করে নিতে হবে। বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লক্ষ দীঘি ও পুকুর আছে। এসব পুকুরে অধিকাংশই মাছ চাষের নিয়ম অনুযায়ী খনন করা হয়নি। আগে বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা ছিল। তাই বিভিন্ন কারণে তৈরি পুকুরে ব্যাপকভাবে মাছ চাষ করা হতো না । প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের উপর নির্ভর করা হতো। বর্তমানে অর্থনৈতিক ও পুষ্টি সমস্যা নিরসনের জন্যও আমাদের মাছ চাষে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। মাছ চাষ করতে হলে আমাদেরকে পুকুর প্রস্তুত করতে হবে। জমিতে ফসল জন্মাতে হলে যেমন পরিচর্যা এবং জমি তৈরি করা প্রয়োজন মাছ চাষের জন্যও তেমনি পুকুর প্রস্তুত করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে পুকুর প্রস্তুত করে মাছ চাষ করলে বেশি লাভবান হওয়া যায়। পানির স্তর অনুযায়ী পুকুর খনন করা উচিত যাতে পুকুরে সবসময় পানি থাকে। যে স্থানে পানির স্তর অনেক উপরে থাকে সেখানে পুকুরের গভীরতা কম হলেই চলবে। কিন্তু যে স্থানে পানির স্তর অনেক নিচে সেখানে পুকুরের গভীরতা বেশি করতে হবে।আর যে স্থানে পানির স্তর মাঝামাঝি থাকে সেখানে পুকুরের গভীরতা মাঝারি করতে হবে। পুকুরে মাছ ছাড়ার পূর্বে অবশ্যই পুকরের পানি পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং পানিতে মাছে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করতে হবে ও কৃত্রিম খাদ্য মজুদ রাখতে হবে।