অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, পরিকল্পনাহীন বর্তমান, বিশৃঙ্খল জীবন যাপন, কোন ব্যক্তিকে আশরাফুল মাকলুকাত বলে অভিহিত করা যথাচিৎ হবে কিনা আমার ঠিক জানা নেই। আমার বিগত কয়েক মাসের জীবন যাপন আমাকে বার বার উপল্বদ্ধি করতে বাধ্য করিতেছে যে, ওহে তুমি মনুষ্য সমাজে বসবাসের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছো। তুমি লোকলয় পরিত্যাগ করিয়া গহীন কোন অরন্যে তোমার বসতি স্থাপন করো। এই জগত সংসার তোমায় অনেক ভালোবাসা, সম্মান, মর্যাদা দান করিয়াছে, তাহার প্রতিদানে তুমি কি দিহিয়াছো তাহাদিগকে? তোমায় কেন্দ্র করিয়া তোমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ যে স্বপ্ন বুনিয়াছে, তাহাদের ভবিষ্যৎ জীবন বাস্তবতায় এবং বর্তমান কল্পনায়!! তোমার অমানবিক বর্তমান, তাহাদের রঙ্গিন স্বপ্নে বোনা ভবিষ্যৎ জীবনের বাস্তবতায় মরিচীকা ছাড়া আর কিছু নহে।
আহারে!! নির্বোধ বালক, সাধক লালন ফকিরের ”সময় গেলে সাধন হবে না” গানটা হয়তো তুমি শুনে থাকবে, কিন্তু তুমি গানটির অর্থ সঠিক অর্থ বুঝতে বড়ই ব্যর্থ হইয়াছো। তুমি সময়কে অবহেলা করিয়াছো, তাই জীবন তোমাকে অবহেলা করিয়াছে। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ হয়তো তোমার জানা থাকবে “Tit for tat” এ প্রবাদ বাক্যের প্রকৃষ্ট উদাহরন তোমার বর্তমান। বিধাতার সৃজিত মানব তুমি, কর্ম তোমার বিধাতার বিধানের বিপরীতে, বাহ! বাহ! চমৎকার, বড়ই চমৎকার!! “প্রতিটি বলের সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে” পদার্থ বিজ্ঞানের এই চিরন্তন সত্য সূত্রটি আজ তোমার বাস্তবতায় পরিলক্ষিত।
হে নির্বোধ বালক, জীবনের তরে যুদ্ধ, তাহলে জীবন-যাপনের তরে তোমায় মহাযুদ্ধে লিপ্ত হইতে হবে এবং ইহাই চরম সত্য। শ্রম, চেষ্টা, ইচ্ছা শক্তি এবং বিবেক-বুদ্ধি স্বচ্ছল এবং সুন্দর বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যোগানদাতা। স্বাভাবিক মনুষ্যে এই সকল বিষয়ের অধিকারি। অধিকারি হইয়া তুমি প্রয়োগকারী হইতে ব্যর্থ বনে গিয়াছো। তোমার ব্যর্থতার গ্লানি আজ, স্বয়ং তুমি, তোমার পরিবার, সমাজ এবং জাতির মাঝে বিষক্রিয়া ছড়াচ্ছে অবিরত।
হে নির্বোধ বালক! তোমার চেতনা কি তোমার মতোই গভীর ঘুমে অবচেতন? কেন তুমি জাগ্রত হইতে চাও না? কেন জাগ্রত হইয়াও, বার বার তুমি অবচেতনার নিদ্রায় নিমজ্জিত হও? কি তোমার প্রতিবন্ধকতা, কি তোমার অভিপ্রায়? নাহি যদি জানিতে চাও, তবে বন্য সমাজে চলিয়া যাও, বাংলায় একটা প্রবাদ আছে শুনেছো কি তুমি? “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”।