ভাগ্যিস আমরা আপনাদের ক্লান্ত বদন খানি দেখিতে পারি না।

Words
331
Reading
2 min
Listen
Play
6y

মনুষ্য চালিত ত্রিচক্রযান বাংলার বুকে খুবই জনপ্রিয়। আপনি ঠিকই ধরতে পেরেছেন আমি কোন যানবাহনের কথা বলছি এখানে। হ্যা, আমি এখানে রিক্সার কথাই বলছি। দক্ষিন এশিয়ার কিছু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এখন অবধি এই যানবাহন গুলো মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তার পিছনে খুবই বাস্তব সম্মত কিছু কারন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে দায়ি। আমাদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, আমাদের রাষ্ট্রের মাঝে এখন অবধি মানব চালিত ত্রিচক্রযানের ব্যবহার সচল রাখতে বাধ্য করছে। দারিদ্রতা, বেকারত্ব, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিরুচি এই আধুনিকতার যুগেও আমাদের মনুষ্যচালিত যানের ব্যাপক প্রচলন দেখতে হচ্ছে।

IMG_20200701_120122.jpg

যে ব্যক্তি এই মনুষ্যচালিত রিক্সার আবিষ্কার ওই ব্যক্তি বুদ্ধিমান ছিল কিনা আমি জানি না, তবে উনি যথেষ্ট চতুর একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এই ত্রিচক্রযানের চালকের আসনটি এমন একটি জায়গায় স্থাপন করেছেন,পিছনে বসে থাকা যাত্রিরা যাতে কোনভাবেই চালকের মুখমন্ডল পরিদর্শন করতে না পারে। এই যান চালানোর প্রাককালে যাত্রি যদি চালকের মুখমন্ডল পরিদর্শন করার সুুযোগ পেতো, তাহলে হয়তবা এখন আমাদের দেশ হতে এই যানের ব্যবহার নিচিহ্ন হয়ে যেত।

IMG_20200701_091330.jpg

"মামা আর একটু জোড়ে চালান না, আমার অফিেসর দেরী হয়ে যাচ্ছে"। কাঠফাটা রদ্রুর মাঝে রিক্সার সিটে বসে কয়েক মিনিটের পথটাই যখন আপনার এবং আমার কাছেই অনেকটা অসহনীয় হয়ে পড়ে, তখন কিভাবে আমারা আমাদের সামনের চালককে আদেশ করি, তার শরীর থেকে আর একটু শক্তির জোগান দিতে, যেন আমি একটু তাড়াতাড়ি আমার গন্তব্যে পৌছে যেতে পারি। আমরা কি আমাদের বিবেকের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছি অনেক আগেই। রিক্সাচালকদের কে আমাদের জাতি কি তবে অনেক আগে থেকেই, মানুষ নয়, যন্ত্র ভাবতে শুরু করে দিয়েছে।

তাই হয়তোবা আমরা চালকের পিছনের সিটে বসে তাদের ঘামের জলে ভেজা ক্লান্ত মুখখানি কখনো দেখার চেষ্ঠা করি না। আমাদের বড্ড ভয় করে, আমাদেরকে চালিয়ে নেয়ার সময় যদি ভুল করে আমরা তাদের মুখমন্ডল দর্শন করি, তাহলে যদি আমরা তাদের জন্য সহানুভূতি অনুভব করি। তাহলে আমরা আরাম করে কিভাবে মজার রিক্সায় যাতায়াত করব, আমাদের বিবেকে হয়তো বাধা দিতে পারে।

রিক্সাচালক মামারা "ভাগ্যিস আমরা আপনাদের ক্লান্ত বদন খানি দেখিতে পারি না" দেখিতে পারিলে হয়তোবা কখনো আপনাদের বলিতাম না, মামা আর একটু জোরে চালাওতো আমার অফিসের Late হয়ে যাচ্ছে।

Every photo taken by myself.

Thanks for being with me. Have a good time.

ভাগ্যিস আমরা আপনাদের ক্লান্ত বদন খানি দেখিতে পারি না। | Ecency