প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশাকরি সবাই ভালোই আছেন।
আজকে আমার মনটা ভীষণ খুশী কারণ, তিতলি এসেছে আমাদের বাড়ি। আসলে কয়েকদিন ধরেই দিদিকে বিরক্ত করছিল,আমার কাছে আসার জন্য, বেশ অনেকদিন দেখা হয় না তাই আর তার ভালো লাগছিল না। আর সত্যি বলতে আমারও ইচ্ছে করছিল ওদের দেখতে। দাদা সকালে ফোন করলো, বললো আজ নাকি তাকে দিয়ে যেতেই হবে,সকালে উঠে সে নিজেই ব্যাগ গুছিয়েছে মিমি বাড়ি আসবে বলে। আমিও বললাম দিয়ে যাও থাকুক দুদিন আমার কাছে।
প্রায় দুপুর ১২.৩০ নাগাদ দাদা ওকে নিয়ে এলো,ট্রেন এ বেশ ভিরও ছিলো,ঘেমে পুরো অস্থির। তাড়াতাড়ি ঘাম মুছিয়ে, জামা পাল্টে দিলাম। দাদা বেশিক্ষণ বসলো না, খেয়েই বেরিয়ে গেলো যেহেতু তাতান আছে ওর ঠাকুমার কাছে তাই। অনেক কষ্টে তিতলিকে একটু ভাত খাওয়ালাম। ব্যস তারপর শুরু হলো তার দুষ্টুমি।
পিকলুকে আদর করা তার শেষ হচ্ছে না। সারাদিন চটকাচ্ছে। বিকালে ঘুম থেকে উঠলে দুজনকে নিয়ে ছাদে গেলাম। ওখানেও কি খেলা। বেশ মজাই করছিল। সন্ধ্যা হতেই নিচে এলাম, আমার সাথে সাথে তিতলি ও পুজো দিলো, মোটকথা আমার পিছু পিছু ঘুরছে। আর কতো যে প্রশ্ন তার!
মেসো (শুভ) কখন অফিস থেকে আসবে? পিকলু কেনো তার কোলে সবসময় থাকে না? কেনো পিকলু তাকে দিদি বলে ডাকে না? আর ও যে কতো কি! রাতে আমি রুটি করবো বলে আটা মাখতে না মাখতেই তার বায়না শুরু আমাকেও একটু আটা দাও আমি খেলবো। এই বলে আটা নিয়ে যে পুতুলটা নিয়ে খেলছিল সেই পুতুলটার গায়ে মাখালো।
তারপর রাতে তাকে রুটি খাওয়ালাম। খাওয়ার পর তার বায়না একটু মেসোর সাথে কথা বলবো, ওপরে নিয়ে গেলাম। সেখান মেসোর সাথে গল্প করলো, আসলে নিজে একটা ভিডিও গেম নিয়ে এসেছিল সেটাই মেসোকে দেখাতে গিয়েছিল, মেসো তার ভীষণ প্রিয়।
রাতে আমার কাছেই ঘুমায়,মেসোকে কানে কানে বলে এসেছে আমি তোমার আর মিমির মাঝখানে ঘুমাবো। সেটাই করলো, আমিও কিছু বললাম না, এখন ঘুমাচ্ছে, আমি শোয়ার সময় সরিয়ে দেবো। কারণ একপাশে না শুলে আমাদের ও ঘুম হবে না, ভীষণ হাত পা ছোঁড়ে ঘুমের ঘোরে।
কাল তাকে দিতে যেতে হবে, আসলে অনলাইন ক্লাস হয়, তার থেকে বড় কথা হলো, ওকে ছাড়া তাতান(ওর ভাই) একদম থাকতে চায়না। তাই কাল ওকে দিতে যেতে হবে, তাতান এর সাথেও দেখা হয় না অনেক দিন কাল গিয়েও মজা হবে।
আজ সারাদিন পর মনে হলো একটা বাচ্চা থাকলে দিন কোথা থেকে কেটে যায় বোঝাই যায়না। আর সত্যি বলতে জীবনের সব পর্যায়ের গুরুত্ব আলাদা আলাদা। আজ ওকে একদিন সামলে হাসফাঁস করছি জানি না নিজে মা হলে কতটা ধৈর্য্য রাখতে পারবো। তবে আমার বিশ্বাস তখন সবটা ঠিক হয়ে যাবে।মা হওয়ার সুখ হয়তো এমনই হয়, দিদি ফোন করে বলছে কালই নিয়ে আসবি আমার ভালো লাগছে না, অথচ মাঝে মাঝে ও নিজেই বলে এই ছেলেমেয়ে দুটোর জন্য আমি কোনদিন পাগল হয়ে যাবো। এটাই মায়ের ভালোবাসা। যাই বলুক না কেন সামনে না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না।
যাইহোক, আপনারা সবাই আপনাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকুন এই কামনা রইলো।শুভরাত্রি।