প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?
আশাকরি সবাই ভালোই আছেন।
"জীবন" বড়ই বিচিত্র। আর বাস্তবতা বড়ই কঠিন।আজ আমি শেয়ার করবো জীবন সম্পর্কে আমার নিজের ধারণার কথা। আসলে আজ আমি বাইরে বেরিয়ে ছিলাম। ট্রেনে যখন উঠলাম,এক জন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখে বড্ড খারাপ লাগলো। আমি সাধারণত মহিলা কামরাতেই যাতায়াত করি, মোটামুটি ভিড় ছিলো ট্রেনে। আমি উঠে এক পাশে দাড়ালাম, কারণ বসার জায়গা ছিলো না, তাই বেশী ভেতরে ঢুকিনি। আর তিনটে স্টেশন পরেই নেমে যাবো, তাই বসার দরকারও ছিলো না।
ট্রেন চলতে শুরু করার পরই চোখ পড়ল এই বয়স্ক মানুষটার দিকে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভীষণ ক্লান্ত। শরীরও খুব দুর্বল। হয়তো কিছু বিক্রি করতেই বেরিয়েছে, শরীর খারাপ লাগায় বসে রয়েছে। মহিলা কামরাতেই উঠেছে তাই সিটে বসতে পারবে না, তাই গেটের সামনে নিচেই বসেছে। প্রথমে মাথাটা উঁচু ছিলো, একটা স্টেশন যেতেই দেখলাম মাথা নিচু করে নিলো।
ডেকে জিজ্ঞেস করবো ভাবছি, ঠিক সেই সময় দেখলাম অন্য একজন হকার এসে তার সাথে কথা বললো, বুঝলাম তিনি তাকে চেনেন। এরপর আমারও নামার সময় চলে এলো।
নামার পর যখন হাঁটছি, মনে মনে ভাবছিলাম এও একটি মানুষের জীবন। এই মানুষটি না জানি কবে থেকে কষ্ট করে চলেছে নিজের মানুষের জন্য। যে বয়েসে তার বিশ্রামের প্রয়োজন, সেই বয়েসে খাবারের প্রয়োজনে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। জানিনা তার পরিবারে কে কে আছে, তার নিজের শরীর ও কত খারাপ, তবুও কাজ থেকে ছুটি নেই। হয়তো আমৃত্যু তাকে একই রকম কষ্ট করতে হবে।
আমি মাঝে মাঝে ভাবী ভগবানের এগুলো কেমন বিচার তাইনা? এই বয়সের কত মানুষ আছে যারা শুধু বিশ্রাম করে, নিজের মানুষের মধ্যেই থাকে, আবার কতজন আছে প্রচুর অর্থের মালিক, ছেলেমেয়ে সব বিদেশে থাকে অথচ তাদের ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে, আবার অন্য দিক এমন মানুষ যারা আজও পরিশ্রম করে তার পরিবারের সবার মুখে একটু খাবার তুলে দেওয়ার জন্য।
আমাদের সবারই জীবন প্রায় একই ধারায় বয়ে চলে। প্রথমে শিশু, তারপর কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য, আর সবশেষে মৃত্যু। হ্যাঁ অনেকের জীবনে দুর্ঘটনা ঘটে তবে দেখতে গেলে সাধারণত এই ভাবেই জীবন এগিয়ে চলে, শুধু চলার পথ কারোর দুর্গম আর কারো মসৃণ।
তবুও জীবন তো চলবেই আপন গতিতে, জানিনা আমার জীবনের শেষ কোথায়। তবে ভগবানের কাছে এইটুকু চাই,যা লিখেছে কপালে, সেই সবটা সহ্য করার ক্ষমতাও তুমিই দিও।
আপনারা সকলে ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন এই কামনা করি।শুভরাত্রি।