আমার রুমে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন মহারাজ-
প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?আশাকরি ভালোই আছেন।
আজকাল বেশ গরম পড়তে শুরু করেছে। হটাৎ করে প্রকৃতি তার রং বদলেছে, রোদের তাপ সকাল থেকেই বোঝা যায়। আজ বাইরে বেরোনোর কারনে গরমটা আর ও বেশি করে বুঝতে পারলাম। একটু কাজে আজ বেরোতেই হলো। রোদের তাপ যেন ছাতাতেও মানছে না। তার উপর এখন আর ও কষ্ট দেয় মাস্ক। বাইরে বেরোনো যেন আজকাল শাস্তি মনে হয়।
যাইহোক এতো গেলো আমাদের কথা, গরমে আর ও বেশি কষ্ট পায় আমাদের পিকলু। সারাদিন ফ্যানের নিচে থাকে তবুও সারাদিন হাঁপায়। ঘরের মধ্যে ঘোরাফেরা করে যেখানেই একটু ঠান্ডা পায় শুয়ে পরে। আরো গরম পড়লে ও কোথায় থাকে আপনদের পরে দেখাবো।
বাড়ি ফিরে শুনলাম আমি বাইরে গেছি বলে সে বারান্দায় বসে ছিলো সারাদিন,গরমের মধ্যেও তাকে ঘরে রাখা যায়নি। ওকে যতবার ঘরে আনা হয় ও আবার চলে যায়, শেষপর্যন্ত দরজা বন্ধ করতে হয়েছে ওর কারনে।
আমি বাড়ি ঢুকতেই আমার উপড় ঝাঁপাঝাঁপি শুরু করলো। ব্যাগ রেখে আগে তাকে আদর করলাম তারপর ছাড়লো। আমি শুয়ে ছিলাম ঘরে সে গিয়ে আমার ঘরে শুয়ে পড়লো। রাতে সে রুটি খায়, যখনই রুটি করতে গেলাম সে উঠে সোজা রান্নাঘরে।
রান্নাঘরে প্রচুর গরম আমি এসে যেই আমার ঘরে বসলাম সে মায়ের ঘরে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লো। এই এক সমস্যা, ওকে রেখে কোথাও যাওয়া না, গেলেও যখন ফিরে আসা হয় পেছন ছাড়তেই চায় না। আসলে মুখে বলে বোঝাতে পারে না তবে ভালোবাসা একেবারে নিখুঁত।
যাইহোক রাতে তাকে আমার শ্বশুর মশাই খেতে দেন। তাই সে এখন ওই ঘরেই থাকবে। কোথাও নড়বে না। খাওয়ার সময় সে কাউকেই চেনে না। যখন ও খায় আমরা হাজার ডাকলেও তাকায় না। খাওয়া শেষ হলে তবেই তাকায়।
রুটি জলের সাথে বা চিকেন সুপের সাথে চটকে তবেই তাকে দিতে হয়।শ্বশুড় মশাই যখন খাবার রেডী করে তখন সে সোজা ডাইনিং টেবিলের চেয়ারের নিচে বসে পড়ে। সেখান থেকে সোজা তার খাঁচায়।
সে খাঁচায় গিয়ে বসেছে,খাবার রেডী করে খেতে দেওয়া হচ্ছে-
যাইহোক, এই ভাবেই কাটে আমাদের দিন। আজ সন্ধ্যাবেলার গল্প শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে।আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ দয়া করে এঁদের নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসুন। কারণ এঁরা শুধুমাত্রই ভালোবাসা বোঝে, অন্য কিছু নয়।
ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন,এই কামনা রইলো। শুভরাত্রি।