"দিনে দিনে বেচেঁ থাকাটা কষ্টের হয়ে উঠছে,অজানা ভয় ঘিরে ধরছে চারপাশ থেকে"
প্রিয়,
পাঠকগন,
আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আজকাল কোনো কিছুই যেন ভালো লাগছে না। প্রিয়জনকে হারানোর ভয়ে যেন সবসময় ভীত হয়ে থাকি।কাজের প্রয়োজনে না চাইতেও বাড়ীর বাইরে বেরোতেই হচ্ছে। আর সত্যি বলতে আমাদের এমন একটা রোগের সাথে লড়াই, যেটা একেবারেই অচেনা অজানা।
তবুও বাঁচতে তো হবেই,যতদিন না মৃত্যু আসছে। আর লড়াই ও করতে হবে। সাবধানে থাকতে হবে। বাকিটা ভাগ্য।মানুষ আসলে সব কিছুর সাথে লড়াই করতে পারে না।সবকিছুর একটা সীমা থাকে, আর সেটা লঙ্ঘন করা মানুষের সাধ্য নয়।
বাড়ি থেকে ফেরার সময় একটা অন্য রকম কষ্ট হচ্ছিল কাল।দিনকালের যা অবস্থা জানিনা ঠাকুমা কেমন থাকবে,কি হবে, আবার এসে দেখতে পাবো তো?আবার লকডাউন দিলে কি করে আসবো বাড়ি? এই সব কিছু চলছিল মাথায়। এইগুলো ভেবে ভেবেই এলাম পুরো রাস্তা।
এখানে এসেও মনটা শান্ত হচ্ছে না।কেমন যেন ছটফট করছে।সারাদিন কাজের ফাঁকে টিভি খুলে খবর দেখলেই মনটা বেশি খারাপ হয়ে যায়।
তারমধ্যে আমাদের পাশের বাড়ির জেঠিমার একজন আত্মীয় (ভাগ্নে) আজ মারা গেলেন। তিনি সাংবাদিক ছিলেন, ৭দিন আগে করোনা ধরা পড়ে, ৩দিন আগে হসপিটালে ভর্তি করা হয়। আজ সবশেষ।
তার একটা ছোট্ট মেয়ে রয়েছে,আমাদের তিতলির বয়েসী। ওর জন্যে খারাপ লাগছে ভীষণ, আমি ওনাকে কখোনো দেখিনি, শুধু ওনার স্ত্রী আর মেয়েকেই দেখেছি।
আসলে একদম ছোট্টবেলায় তিতলিকে আমার কাছে রেখে দিদিকে একদিন ডিউটি যেতে হয়েছিল, মায়ের বুকের দুধের জন্য কান্না করছিল তিতলি, তখন মা ওকে নিয়ে জেঠিমাদের বাড়ি যায়, আর ওই বাচ্চাটির মা তিতলিকে দুধ খাইয়েছিল।
সাধে কি আর বলে মেয়েরা মায়ের জাত। তিতলি তো বুঝতেও পারেনি ওটা ওর নিজের মা নয়, তবুও কি সুন্দর দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে গিয়েছিল ওনার কোলে।অথচ আজ কি অদ্ভুত ভাবে ওনার আর ওনার বাচ্চাটার মাথার ওপরের ছাদ সরে গেল চিরতরে।বাচ্চাটা বুঝতেও পারলো না কি হারিয়ে ফেললো। বড়ো হতে হতে বাবার স্মৃতিও ম্লান হয়ে যাবে।
(তিতলি আর ওর বাবা) এমন ভাবে বাচ্চাটা আর কখনো ওর বাবার কোলে উঠতে পারবে না -
ওনার স্ত্রীর জন্যও খুব খারাপ লাগছে, জীবনটা সুন্দরভাবে শুরু হওয়ায় আগেই এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেলো, সত্যি বলতে এই খবরটা শুনেই ভয়টা যেন অনেক গুণ বেড়ে গেল।প্রতিদিন অফিস গিয়ে অনেকের মত শুভকেও অনেক মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করতে হয়, আসলে কাউকে দেখে তো বোঝা সম্ভব নয় কার মধ্যে ভাইরাস রয়েছে। তাই ভয়টা থেকেই যায় ভেতরে ভেতরে।
জানিনা সব কিছু কবে ঠিক হবে, কবে নিশ্চিন্তে সকলে বেরোতে পারবে। জন্ম যখন আছে মৃত্যুও আসবে, তবে সেটা যদি এমন অতর্কিতে আসে তবে বেঁচে থাকাটাই কষ্টের। তবুও আমরা শুধু প্রার্থনা করতে পারি, এই সব কিছু শেষ হোক। সুস্থ ভাবে যেন বাঁচতে পারি সকলে।
সাবধানে থাকবেন। ভালো থাকবেন।🙏