(মাছ ধরার জাল পেতেছে, এপাড়ে দাড়িয়ে ওপাড়ের ছবি একদম স্পষ্ট, এতটাই ছোটো হয়ে গেছে নদীটা)-
প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?
আজ আমি আমার ছোটবেলার কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ।আসলে বহু বছর বাদে সেদিন ঝুণুদির মায়ের শ্রাদ্ধের কাজের জন্য নদীতে গিয়েছিলাম। হ্যাঁ,যমুনা নদী। আমাদের বাড়ি থেকে খুব বেশী দূরে নয়।
আমার মনে পড়ে ছোটবেলায় মায়ের কাছে বায়না করতাম নদীতে স্নান করতে যাওয়ার জন্য কিন্তু সেটা কোনোদিন হয়ে ওঠেনি, মা যেতে দেয়নি কারণ আমি সাঁতার কাটতে জানতাম না, অবশ্য এখনও জানিনা। ঠাকুমা একাদশীর দিন স্নান করতে যেত নদীতে, আমি ও যেতাম ঠাকুমার সাথে তবে স্নান করতে নয়, ঠাকুমার কাপড়, গামছা এগুলো নিয়ে পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম।
(নদীটা অস্পষ্ট, কিন্তু পাড়টা স্পষ্ট, এই পাড়েই ছোটবেলার স্মৃতি জড়িয়ে)-
বায়না ছিলো শুধু একটাই,আসার সময় আমার জন্য অনেক গুলো কচুরিপানা নিয়ে আসতে হবে, আমার রান্নাবাটি খেলার জন্য, ঠাকুমা অনেক এনে দিতো। ঠাকুমার পিছু পিছু দৌড়ে দৌড়ে আসতাম আর ঠিক করতাম কচুরিপানা গুলো কাদের পুকুরে রাখবো, যাতে জলে ওগুলো ভালো থাকে, আর আমাদের সুবিধা মতো আমরা তুলে তুলে খেলতে পারি। ঝুণুদিও যেত আমার সাথে কখোনো কখোনো।
বড় হওয়ার সাথে সাথে এই সব কিছু পেছনে ফেলে আসলাম। রান্নাবাটি খেলা হোক, বা ঠাকুমার সাথে নদীতে যাওয়া সব কিছুই আজ শুধু স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে, আজ যখন বাচ্চাদের দেখি সারাদিন মোবাইলে গেম খেলে বা টিভিতে কার্টুন দেখে তখন মনে হয় ওই ছোটবেলা গুলো এঁদের কাছে শুধুমাত্র স্বপ্ন। ওরা ভাবতেও পারে না ছোটবেলা এইরকমও হতে পারে।
তবে ছোটবেলায় দেখা নদীর সাথে এখোনের নদীর কোনো মিল নেই, তখন নদীতে কত জল থাকতো, সাঁতার না জানলে কেউ ভয়ে নদীতে নামতো না, কিন্তু এখন জল একদম নেই বললেই চলে, গ্রীষ্মের সময় জল এতটাই কমে যায়,সবাই নাকি হেঁটে নদী পাড় হয়ে যেতে পারে।
নদীর পাড়ে কচুরিপানা গুলো শুকিয়ে পড়ে আছে, মাছ ধরার জন্য কেউ কেউ কিছু জায়গা পরিষ্কার করে কচুরিপানা গুলোকে পাড়ে তুলে রেখেছে, বাকী জায়গা যদিও অপরিষ্কার। ঝুনিদিরা ওই পরিষ্কার জায়গায় দাঁড়িয়ে কাজ করেছিল, ওখানেই ডুব দিয়ে স্নান করেছিল।
(ঝুনুদিরা কাজ করছিল)-
যখন ফিরে আসছিলাম কেনো জানিনা একটা অদ্ভুত খারাপ লাগা কাজ করছিলো,মনে হচ্ছিল ছেলেবেলা আর ও একবার হারিয়ে যাচ্ছে, পুরোনো দিন গুলো ফিরে পেতে ইচ্ছে করছিল, যেখানে ঝুনুদির মা ও যেমন থাকতো, তেমন থাকতো অনেক কচুরিপানা তুলে আনার আনন্দও।
কিন্তু এর কোনোটাই সম্ভব ছিলো না। জীবনের যেদিন যায় আর ফিরে আসে না। এটাই বাস্তব আর এটা মেনে নিয়েই ফিরে এলাম। তবে নদীটা দেখে খারাপ লাগলো, একটু সংস্কারের অভাবে নদীটা তার রূপ হারিয়েছে।নিজেদের মতো ওকেও যত্ন করাটা আমাদেরই কর্তব্য, তবে সেদিকে নজর দেওয়ার সময় কোথায় আমাদের, আমরা যে বড্ড ব্যস্ত শুধুমাত্র নিজেদের নিয়ে