প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আজ আমি হাবড়া আমার মামা বাড়ি এসেছি, যে মামীর কথা আগে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম সেই মামীর কাছে।আপনাদের বললাম না, আমার মনটা বেশ কয়েক দিন ধরে ভালো নেই, তাই শুভই বললো মামীর কাছ থেকে দুদিন বেরিয়ে যেতে।
আসলে ও বুঝতে পারে মাঝে মাঝে মায়ের জন্যে ও আমার মন খারাপ হয়, মার কাছে যাওয়া তো সম্ভব নয় তাই মামীর কাছে এসেই মায়ের আদর খেয়ে যাই। শুভ কোনোদিন এই ব্যাপারে আমাকে আটকায়নি।
১১ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছি,১২.১০ নাগাদ মামা বাড়ি পৌঁছে গেছি। এসে দেখি মামী রান্না করছে। আর বোন মামীর তৈরী করা টমেটো সস বোতলে ভরছে, এখন টমেটোর দাম নাকী একদম কম, প্রতি বছর এই সময় মামী নিজেই বাড়িতে সস তৈরী করে রাখে, আমি সন্ধ্যাবেলা সিঙ্গারা দিয়ে খেয়ে দেখলাম দারুণ টেস্ট হয়েছে সসটার। হালকা মিষ্টি, টক, ঝাল সব মিলিয়ে দারুণ।
দুপুরে মামী থোর, ডাল, ডিমের ঝোল, বেগুন ভাজা করেছিল। তারপর বসে গল্প হলো কিছুক্ষন, আসার সময় প্ল্যাটফর্ম এ পেয়ারা পেয়েছিলাম। দেখে ভালোই লাগল, তাই কিনেছিলাম। সেগুলো খেলাম সবাই মিলে।
রাতে খেলাম চিকেন। তারপর গল্প চললো খুব। কতো পুরোনো দিনের কথা। মামাও এসে যোগ দিল গল্পে। শ্বেতার,আমার, দিদিদের পুরোনো কথা বলছিল মামী। মামীর প্রথম আমাদের বাড়ি যাওয়ার গল্পও আজ শুনলাম। এখন মামী আর মামা শুয়ে পড়েছে, আমি আর বোন জেগে গল্প করছি। কতো কথা আমাদের। এখন তো আমরা বন্ধু, কয়েক বছর আগে ও ওকে কতো বকেছি। তবে এটা সত্যি যে ও কখোনো রাগ করেনি। আমরা যে নিজের বোন নই এটা কোনোদিন আমরা বুঝতেই পারিনা। এমনই সম্পর্ক আমাদের।সে সাজতে বরাবর খুব ভালোবাসে। ফ্রিজের উপর কত কি যে কিনে রেখেছে তার ঠিক নেই।
যাইহোক কাল ফিরে যেতে হবে তবুও এসে ভালো লাগলো। মামীর কাছে এসে এক অন্য রকম ভালোগালা কাজ করে, একে বারে আরামে থাকি এখানে মামী কোনো কাজ করতে দেয়না, শুধু বলে বাড়িতেও কাজ করিস এখানেও কাজ করবি তাহলে আর আরাম করবি কোথায়?
সবথেকে ভালোলাগা কাল সকালে ওঠার কোনো চাপ নেই, যখন খুশি তখন উঠবো। ভেবেই ভালো লাগছে। যাইহোক আপনারও ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন। শুভরাত্রি।