প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
সকলে জানাই সুপ্রভাত।
কাল আমি খুবই ব্যস্ত ছিলাম। আমার ঠাকুমার শরীরটা ভীষণ খারাপ। আর যেহেতু অনেক দিন পর বাড়ি এলাম অনেক কাজ জমে গিয়েছিল, বাড়িতে কাজ করার লোক নেই।ঠাকুমার বয়েস হয়েছে, আর বাবা তো সেই ভাবে কাজ গোছাতে পারে না।
বাপের বাড়ীতে এলে মেয়েরা দুদিন একটু আরাম পায়, অথচ আমার কপালটা এমনই যে এখানে এসে আমাকে আর ও বেশী কাজ করতে হয়। আর এই জীবনে সেটা পরিবর্তন ও হবে না।
যাইহোক আজ ফিরে যাওয়ার পালা,ঠাকুমাকে ওষুধ দিয়েছি, কিছুটা ঠিক আছে, অনেক বার বললাম আমাদের বাড়ি বা দিদি বাড়ি যেতে, তবে সে ঘর ছেড়ে যাবে না।
এটাই মুশকিল এই ধরনের মানুষদের নিয়ে ভীটে - মাটি আগলে পরে থাকবে।খারাপ লাগে এই ভাবে রেখে যেতে, তবে কিছু করার নেই। শ্বশুড় বাড়ি সংসার করলে কতদিন বা এইভাবে থাকতে দেবে তারা।
ঠাকুমাকে কত বললাম চলো, কিন্তু সে যাবে না কিছুতেই। সবাই অবুঝ হলে সেখানে মাঝে মাঝে নিজেকে অসহায় লাগে। আমার জায়গা বোঝার কেউ নেই।
যাইহোক, রান্না করে রেখে যাবো আজকের মত। কাল দিদি আসবে, রান্না করে দিয়ে যাবে। কাল কত করে একজন রান্নার লোক খুঁজলাম যে অন্তত দুবেলা রান্না করে দেবে, কিন্তু পেলাম না। গ্রামে লোক পাওয়া খুব মুশকিল। সবাই কাজে চলে যায় শহরে। তাই চলবে যতদিন চলার। তারপর যা আছে কপালে। এইসব ভাবলেও কেমন যেন লাগে মনের ভিতরে।
চারিপাশে খবর দেখে চিন্তা আর ও বেড়ে যাচ্ছে। করোনা যেই হারে বাড়ছে তাতে কখন যে কি পরিস্থিতি আসবে বুঝতে পারছি না কেউই। দিনদিন পরিস্থিতি আর ও জটিল হবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।সচেতনতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাইরে তো বেরোতেই হবে, ঘরে বসে সব কাজ সম্ভব নয়। তবুও নিয়ন মেনে চললে যতটা বাঁচা সম্ভব।
মাঝে মাঝে মনটা উদাস হয়ে যায়, এমন দিনও আসবে কেউ ভেবেছি আমরা। যেখানে আপন জন মারা গেলেও আমরা তাকে দেখতে পর্যন্ত পারবো না, এমন রোগ আসবে যার ট্রিটমেন্ট এখনও সেইভাবে পাওয়া যাবে না, মানুষে মানুষে এমনই কত দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল, তার উপর এমন রোগ যেখানে চাইলেও সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়, কি অদ্ভুত না?
যাইহোক,আমাদের হাতে কিছুই নেই। সবটাই সময়ের ব্যাপার।আপনারাও সাবধানে থাকুন। দিনটি শুভ হোক আপনাদের।