প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আমাদের প্রত্যেকের জীবনের ভালোলাগা গুলো কিন্তু আলাদা আলাদা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছু মানুষের সাথে নিজেদের ভালোলাগা গুলো মিলে যায়, আর সেই মানুষগুলোই কখন যেন মনের অজান্তেই অনেক আপন হয়ে ওঠে। সেই মানুষ গুলো যে সবসময় নিজের মানুষ হবে এমন কিন্তু নয়, বরং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে উল্টোটাই হয়,নিজেদের মানুষের সাথেই মনের মিল কম হয়।
কথাটা এই কারণেই বললাম,আমার নিজের রজনীগন্ধা ফুল প্রিয়, আর আমার husband এর গোলাপ। গোলাপ আমি ভালোবাসি না এমন নয়, সমস্ত ফুলই আমার প্রিয় তবে সব ফুলের মধ্যে আমার সবথেকে ভালো লাগে রজনীগন্ধা। আমরা দুজন দুজনের সবথেকে কাছের মানুষ, অথচ ভালোলাগা কিন্তু ভিন্ন।
আমি অনেক কে বলতে শুনেছি রজনীগন্ধা ফুল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ মারা গেলে ব্যবহার করা হয়। তাই অনেকে ওটা পছন্দ করে না। কিন্তু সেই মানুষ গুলো এটা হয়তো ভুলে যায় যে গোলাপ ফুলের সাথে এই রজনীগন্ধা ফুল দিয়েই কিন্তু বিয়ের মালা তৈরী করা হয়,যেটা পরে দুজন মানুষ সারা জীবন একসাথে পথ চলার শপথ নেয়। তাছাড়া যেকোনো শুভ কাজেই রজনীগন্ধা ফুলের মালা ব্যবহার করা হয়, শুধু রজনীগন্ধা ফুলের সাথে অন্য আর ও ফুল ব্যবহার করে সেই মালা তৈরী হয়। যেটা কেউ মারা গেলে হয় না, সেক্ষেত্রে শুধুই রজনীগন্ধা ফুল ব্যবহার করা হয়।
সাদা রঙ যেহেতু শান্তির প্রতীক, তাই মানুষ মারা গেলে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার জন্যই সকলে রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে যায়। তার মানে এটা কখনই নয় যে সেই ফুল অশুভ। ফুল মাত্রই শুভ, অশুভ হলো আমাদের চিন্তাভাবনা, যেটা দিয়ে আমরা ফুলের ভাগ করে থাকি।
কয়েক বছর আগে আমাদের বাড়িতে গাছ লাগিয়ে ছিলাম, মাত্র একটা গাছই বেঁচে ছিলো, আর সেই গাছে ফুল ফুটেছিল। ওই ফুলের গন্ধে পুরো ছাদ ভরে থাকতো। রজনীগন্ধা আর শিউলী এই দুটো ফুলের গন্ধ আর রঙ আমার ভীষণ ভালো লাগে। শিউলী ফুল গাছ ছাদে আছে, প্রতি বছর ফুল ও ফোটে কিন্তু রজনীগন্ধা ওই একবারই হয়েছিল। ফটোটা ছিলো তাই ভাবলাম আপনাদের সাথেও শেয়ার করি।
আশাকরি দেখে ভালো লাগবে আপনাদের।
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।শুভরাত্রি।