প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার, আমার বোনের (শ্বেতা), আর Vicky র ঘুড়তে যাওয়ার গল্প।
আগের বার যখন vicky বাড়ি আসলো, সেই সময় হাবড়ায় মেলা হচ্ছিল। কিসের মেলা সেটা আমার ঠিক মনে নেই, আমরা প্ল্যান করলাম মেলায় যাবো। সেই মত দিন ও ঠিক করা হলো কিন্তু কোনো এক সমস্যার কারন সেদিন আমি যেতে পারিনি। তবে ওরা তো ছাড়বার নয়, তাই অন্য একদিন আমাকে যেতেই হলো।
মেলায় যেতে যে আমার ভীষণ ভালো লাগে এমন নয়, বরং বলতে পারেন ছোটবেলায় ও আমার মেলা ভালো লাগতো না। আসলে এতো মানুষের ভিড় আমার ভালো লাগে না, তবে মেলায় যে প্রচুর জিনিসের দোকান বসে, অনেক রকম জিনিস পাওয়া যায়, সেগুলো ভালো লাগে, বিশেষ করে কাঁচের চুড়ি। এত রঙের কাঁচের চুড়ি একসাথে শুধু মেলায় পাওয়া যায়। আগে অনেক পড়তাম কাঁচের চুড়ি। অনেক বছর হয়ে গেল পড়িনা।
তবে হ্যাঁ নাগরদোলা আমার কাছে সব চেয়ে অপছন্দের, নাগরদোলা দেখলেই আমার এতো ভয় লাগে যে ওঠার সাহস কোনোদিন হয় নি। আর ভবিষ্যতে কোনোদিন হবে বলেও মনে হয় না। যাঁরা ওঠে আমার ওদের দেখেই ভয় করে, আর এখন তো আর ও কত নতুন নতুন ধরনের ওঠার জিনিস বেরিয়েছে।
তবে শ্বেতা আর ভিকি দুটোই সমান,বিন্দুমাত্র ভয় নেই দুটোর। মেলায় ঢুকেই আগে নাগরদোলার খোঁজ। আমি প্রথমেই বলেছি, ও সবের মধ্যে আমি নেই। তাই দুজন মিলেই চলে গেল।
ঘুড়ে ঘুড়ে অনেক জিনিস দেখলাম। বাঁশের তৈরী কিছু জিনিস দেখলাম, যেগুলো কোনো মেশিনে নয়, হাতেই তৈরী করা। ভিকি আবার সেগুলো দুটো কিনলো আমাদের জন্য। তারপর কি খাওয়া দাওয়া হবে, তাই নিয়ে কিছুক্ষণ চলল দুটোর মধ্যে। আসলে দুজনই সমান, কারোর থেকে কেউ কম না।
অনেক কথাবার্তার পর ঠিক হলো ঘুগনি আর ফুচকা, তবে শ্বেতার এক ই বায়না ও মেলার দোকানের মিষ্টি খাবে, আমি আর ভিকি অনেক বললাম, মেলায় খাস না আমরা এমনি মিষ্টির দোকানে গিয়ে বসে মিষ্টি খাবো। কিন্তু ও কিছুতেই শুনল না, তাই ও একাই ওখানে দাঁড়িয়ে মিষ্টি খেলো।
বিশ্বাস করুন ওদের ছবি তুলতে তুলতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম সেদিন। মনে হচ্ছিল আমাকে ফোটো তুলে দেওয়ার জন্যই নিয়ে গেছে।পারেও দুজন। বাচ্চা বাচ্চা ভাব এখনো রয়ে গেছে দুটোর মধ্যেই।😁
কিছুক্ষন ঘোরার পর আমরা বাড়ি ফিরলাম। সন্ধ্যাটা বেশ ভালোই কাটলো। তবে কি জানেন তো যতই ওরা আমার বোন আর ভাইয়ের মত হোক না কেনো ওদের সাথে ঠিক ফ্রী ভাবে ঘোরা যায় না। নিজের কেমন যেন একটা বাধো বাধো লাগে। ওদের দুজনের কোনো ব্যাপার নেই, বিন্দাস ঘুরছে।
এখনকার সব ছেলেমেয়েই এমন, সব কিছুই সাধারণ ভাবে নিয়ে নেয়, তবে আমরাই সেই পুরোনো দিনের মত রয়ে গেছি, তবে বুঝতে পারি এখন বদলানো দরকার, নিজের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাথে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও।
যাইহোক, আমি আমাদের একসাথে কাটানো একটা দিন শেয়ার করলাম, দেখে আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে। ভালো থাকবেন।