প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?
আশাকরি আপনাদের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
"আড্ডা" শব্দটি আমাদের সকলের কাছে পরিচিত একটা শব্দ, আর এই আড্ডা শব্দটি শুনলেই আমাদের সামনে এমন অনেক মানুষের মুখ মনে পরে যাদের সাথে আমরা আমাদের জীবনের সবথেকে ভালো সময় কাটিয়েছি, আর তারা অন্য কেউ নয় আমাদের বন্ধু/বান্ধবী।
হ্যাঁ, জীবনে চলার পথে অনেক পুরোনো বন্ধু যেমন হারিয়ে যায়, তেমনি নতুন অনেক বন্ধু জীবনে তৈরিও হয়। তবে এমন অনেকে থাকে যাঁদের জায়গা সবসময়ের জন্যই আলাদা হয়। যাঁদের সাথে যোগাযোগ না থাকলেও তাদের সাথে কাটানো দিন গুলো আমরা ভীষণ মিস করি।
আর আড্ডার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে "চা"। বাঙালির আড্ডার সাথে চায়ের দোকানের সম্পর্ক বহু পুরানো। বলা যেতে পারে একে অপরের পরিপূরক।
নিশ্চয় ভাবছেন আমি কেনো আজ একথা বলছি! বোনের সাথে বেড়িয়ে আজ খানিকটা অবাক হলাম। ছোটোবেলা থেকে দেখেছি, বয়স্ক মানুষেরা চায়ের দোকানে বসে, পেপার পরে, গল্প করে। তারপর দেখেছি ছেলেরা একটা বয়সের পর বন্ধুদের সাথে চায়ের দোকানে বসে চা খায়, গান শোনে, আড্ডা দেয়। আজ যা দেখলাম একেবারে অন্য ছবি।
হাবড়া স্টেশনের পাশেই একটা চায়ের দোকান হয়েছে যার নাম"পথের সাথী"। সেখান চা, কফি, বিভিন্ন fast-food বিক্রি হয়।দোকানের সামনেটা লাইট দিয়ে সাজানো, ভেতরে বসার জন্য আলাদভাবে চেয়ার দেওয়া আছে, সবথেকে ভালো লাগলো ওখানে মেয়েদের দেখে।ছেলেদের সাথে বসে মন খুলে আড্ডা দিচ্ছে, চা খাচ্ছে। এখন আর চায়ের দোকান মানেই শুধু ছেলেরা বসবে এমন কোনো কথা নেই।
বিশ্বাস করুন দেখে ভীষণ ভালো লাগলো। আমার বোন ও আসে মাঝে মাঝে ওর বন্ধুদের সাথে, শুনে অবাক হলাম বটে, তবে মনের কোনে কোথাও যেন আনন্দ অনুভব করলাম।
একটাই তো জীবন বলুন, সমাজের বানানো কিছু অদ্ভুত নিয়মের বেড়াজালে থেকে কেনো মেয়েরাই তাদের মনের খুশী, আনন্দ ত্যাগ করবে বলুন তো? আমিও হয়ত এমন লাইফ চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার মা যেভাবে আমাদের বড়ো করেছ তাতে সেই সাহস কোনোদিন হয়নি, দোষটা মায়ের নয়,সমাজে থাকতে গেলে যে নিয়ম মেনে মেয়েদের মানুষ করা উচিৎ ছিলো মা সেটাই করেছে।
বোন আর ওর বন্ধু আড্ডা দিতে গিয়ে-
আজ দিন পালটেছে,সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে। মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে মেয়েরা নিজেরাই সচেতন হয়েছে,সর্বোপরি মেয়েরা নিজেদের ভালোলাগা গুলোর গুরত্ব দিতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তনের সত্যিই দরকার ছিলো, আর ও আগে যদি হতো তাহলে সমাজের চিত্র বোধহয় আর ও কিছুটা পাল্টে যেত।
যাইহোক, আশাকরি সামনের দিনগুলো আর ও অনেক ভালো হবে, স্বাধীন ভাবে বাঁচার জন্য মেয়েদের অন্তত কারোর উপর নির্ভর করতে হবে না, নিজের মতো বাঁচতে গিয়ে কারোর অনুমতির প্রয়োজন হবে না। মেয়েদের ক্ষমতা সম্পর্কে যেদিন মেয়েরা নিজেরা জানতে পারবে সেদিন এই সমাজের চিত্র একেবারে পাল্টে যাবে। জানিনা কবে সেদিন আসবে।
একটাই অনুরোধ,আপনাদের ঘরের মেয়েদের স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দিন, মেয়ে বলে গণ্ডি কেটে তার সীমাটা বেধে দেবেন না, কে বলতে পারে আপনার ছেলেকে হারিয়ে আপনার মেয়ে একদিন খোলা আকাশে উড়বে না। এমন উদাহরন তো এখন অনেক দেখেন তাইনা?
আপনারা ভালো থাকবেন,ভালো রাখবেন। শুভরাত্রি।