প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?
আশাকরি সবাই ভালো আছেন।
এখন চারপাশের যা অবস্থা,তাতে নিজের পাশাপাশি অন্যের সুরক্ষাও কিন্তু আমাদেরই হাতে, তাই সবাইকে অনুরোধ কোভিডের সব নিয়ম মেনে চলুন। যাতে আমরা সকলে সুস্থ থাকতে পারি।
যাইহোক, বেশ কয়েকদিন ধরে কিন্তু অনেক গরম পড়ছে, সকাল থেকে এত রোদ্দুর ওঠে যে এক মুহূর্তের জন্যও বাইরে (ছাদে,উঠোনে) দাড়ানো যায়না। সকালে ফুল তুলতে গেলেই এত ঘেমে যাই, দেখে মনে হয় যেন স্নান করে এলাম।
এই গরমে আমাদের থেকেও অনেক বেশি কষ্ট পায় আমাদের পিকলু। আসলে ওদের ঠান্ডায় খুব একটা অসুবিধা হয় না, তবে গরম ওরা একদমই সহ্য করতে পারে না।
আজ সন্ধ্যাবেলা আমার আর মায়ের ঘরের মাঝখানে সে শুয়ে ছিলো,অন্যদিন যেকোনো এক ঘরে থাকে, আজ যতবার ওখান থেকে তাড়িয়ে দিলাম সে ঘুড়ে ফিরে ওখানেই এসে শুলো।
পরে আমি যেই আমার রুম থেকে বেরোলাম, সেও উঠে গেলো, আমি মায়ের ঘরের মেঝেতে বসতেই সোজা আমার কোলে,কিছুক্ষন বাদে কারেন্ট চলে গেল, তখন গরমে খুব বাজে ভাবে মাটিতে গড়াগড়ি করছিল।
ওর প্রিয় খেলার জিনিস হলো ঘরের পাপোশ। যতবার ওটা আমরা পা দিয়ে সরাবো, ও মুখে করি নিয়ে সোজা খাঁচায় চলে যাবে।কারেন্ট আসার পর তাই পাপোশ নিয়ে খেলছিলাম। ও নিতে পারছিল না,চেষ্টা করতে করতে হাঁপিয়ে গিয়েছিল বেচারা।
রাতে খাওয়ার পর আমার কাছে এসে বসলো, গায়ে- মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিলাম। ঘুমে চোখ বুঁজে এলো তার।
আমি ভাবলাম ঘুমিয়েছে, একটু বাদে যেই উঠলাম সে রেগে গিয়ে আমার দিকে তাকালো। যেন কত অপরাধ করেছি আমি তাকে আদর না করে উঠে গিয়ে। আমাকে কামড়াতে তেড়ে এলো আমার দিকে।
ভালোবাসার আসলে কোনও ভাষা হয়না। বা বলতে পারেন নি:স্বার্থ ভালোবাসার কোনো ভাষা হয়না। যাঁদের বাড়িতে এমন পোষ্য আছে, তাড়া নিশ্চয় আমার এই কথার সাথে সহমত হবেন।
বিশ্বাস করুন পিকলু যদি একটু পাশের বাড়ি যায়,কিছুক্ষন বাদেই আমার আর ভালো লাগে না। আমার পায়ে পায়ে ঘোরা যেমন ওর অভ্যাস,তেমনি ওকে একটু বকা দেওয়া, একটু আদর করা, ওর সাথে একটু খেলা করাটা আমারও অভ্যাস হয়ে গেছে। কাজের ফাঁকে এগুলো না করলে আমারও এখন ভালো লাগে না।
যাইহোক, এই ভাবেই কাটছে দিন, এই কঠিন সময় কবে শেষ হবে জানিনা। তবে সবাই ঠাকুরকে ডাকুন যাতে খুব তাড়াতাড়ি এই খারাপ সময় কেটে যায়।
ভালো থাকুন,সাবধানে থাকুন, আনন্দে থাকুন