প্রিয়,
পাঠকগণ,
কেমন আছেন আপনারা সবাই?
জানি আজকাল শারীরিক ভাবে ভালো থাকলেও, প্রতি মুহূর্তে মানসিক ভাবে ভালো থাকার জন্য লড়াই করছি আমরা প্রত্যেকে।আপনজনের অসুস্থতার খবর পাওয়ার ভয় যেন ঘিরে থাকে আমাদের। তবুও সুস্থতার সাথে বেঁচে থাকাটাই এখন মূল লক্ষ্য, তাই সাবধানতাই একমাত্র অবলম্বন আমাদের।
আজকাল টিভি খুললে, বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় সমাজের অনেক অমানবিকতার খবর।আপনারও দেখে থাকবেন নিশ্চয়। আমি বলছি না যে সবাই সমান, তবে এটা নিশ্চয় আপনি মানবেন যে দিনে দিনে সত্যিই মানবিক মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে এই সমাজ থেকে।
একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন,আজকাল প্রায় প্রতিটা ফ্যামিলিতে সবাই কমবেশি তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করার চেষ্টা করে।এমন অনেক পরিবার আছে যারা আগে মেয়েদের একটু বয়েস হলেই বিয়ে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত।বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা নিজেরাই রুখে দাঁড়িয়ে বিয়ে আটকে দেয়।পড়াশুনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে,সাহায্য চায় বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবি সংস্থার কাছে।
দেখতে গেলে সমাজে অশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কিন্তু খুবই কম। তবে শিক্ষিত হলেই কিন্তু মানবিক হওয়া যায়না। মানবিকতা এক অন্য শিক্ষা যার জন্য পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলেও চলে।থাকতে হয় বিবেক,
মনুষ্যত্ব,মানুষকে ভালবাসার ক্ষমতা।আত্মকেন্দ্রিকতা ছেড়ে অন্যের জন্য বিনা স্বার্থে কিছু করতে পারার ক্ষমতা সবার থাকে না।
আর এই কারণেই আজকাল আমাদের সমাজের চিত্রটা দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে। সবাই নিজের নিজের কাছে মানুষের জন্য ভাবছি। একটা নিজস্ব গণ্ডি কেটে নিয়ে তার ভেতরে গুটিয়ে রাখছি নিজেদের।সমাজের প্রতি নূন্যতম দায়িত্বটুকু পালন করতে এগিয়ে আসছি না।
"করোনা" এই নামটা যেন মানুষের মাঝে দূরত্ব আর ও বহুগুণ বাড়িয়ে দিলো। তাই তো আজকাল বাবা যখন করোনায় মারা যাওয়া ছেলের মৃতদেহ নিয়ে ১২ ঘণ্টা বসে থাকে ঘরে,আমরা কেউ এগিয়ে যাইনা।যখন একজন বৃদ্ধ মহিলা নিজের স্বামীকে একা ধরে অ্যাম্বুলেন্স তুলতে ব্যর্থ হয়, কেউ এগিয়ে গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই না।এগুলো আমরা ভয়ে করিনা পাছে আমাদেরও করোনা হয়।
কিন্তু করোনা থেকে বাঁচার সচেতনতা মূলক বার্তা গুলো আমরা সবাই জানি। সেগুলো অবলম্বন করে দূর থেকে দাড়িয়েও মানুষকে সাহায্য করা যায়। কিন্তু সেটা না করে যদি নিজের নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে দিই, সেটাই কিন্তু অমানবিকতা।
আমরা ভুলে যাই যে হারে প্রতিদিন সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কাল কিন্তু আমার বাড়ির কারোর ও এমন সময় আসতে পারে। তখন সাহায্যের দরকার আমারও হতে পারে। আমরা ভুলে যাই আমরা সামাজিক জীব। তাই একা বাঁচা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
শিক্ষিত আমরা প্রত্যেকে, তবে পুঁথিগত দিক দিয়ে,মানবিকতার শিক্ষা হারিয়ে গেছে বা হয়ত কোনোদিন শেখাই হয়ে ওঠেনি। তাই অমানবিক ভাবে গাছ কেটে নিজেদের শখ মিটিয়ে আজ সবাই অক্সিজেনের জন্য ছটফট করছি।আবার সেই রোগের শিকার হওয়া মানুষগুলোর সাথে অমানবিক ব্যবহার করছি, যে রোগটা আমাদেরও যেকোনো সময় হতে পারে।
আসুন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ফেলি। একটু মানবিক হই।সচেতনতা অবলম্বন করে মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই। দুর থেকে দাড়িয়ে একটু সাহায্য করি, অন্তত মানসিক ভাবে।
ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন,সাবধানে থাকুন,আর মানুষের প্রতি মানবিক থাকুন।শুভরাত্রি।