প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা ভালো ভীষণ ভালো আছেন।
আজ আমার মনটা বেশ খুশি, কারণ বিশেষ কিছু নয়, আজ হটাৎ করে অনেক দিন বাদে ছোট্টবেলায় ফিরে গেলাম। মানে সেই পুরোনো দিনে। কেমন করে নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করছে?
আসলে আজ রাত ৯.৩০টার দিকে হটাৎ করেই আমার ইচ্ছে হলো আলুকাবলী খাবো। ব্যস যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। শাশুড়ি মা কে বললাম, মা তো শুনেই হেসে দিলো, বললো- "এই রাত ১০ টায় মনে পড়লো? আজকে তো তাহলে রাতের খাওয়া আর হবে না।"আমিও বললাম-"রাতে না হয় নাই খাবো, কিন্তু এখন আমি আলুকাবলী খাবোই।"মা বললো-"খাও"।
ব্যস আমিও শুরু করলাম,ছোলা ঘরে ছিল কিন্তু ভেজানোর মতো সময় ছিলো না। তাই মটরশুঁটি দিয়েই কাজ চালালাম। বাকী সব কিছুই মোটামুটি ঘরে ছিলো।
অল্প একটু গরমজলে একটু খানি তেঁতুল ভিজিয়ে রাখলাম। যাতে তেঁতুলের ক্বাথ বের করতে পারি।
দুটো আলু আর অল্প মটরশুঁটি আমি সেদ্ধ করে নিলাম।
পাশাপাশি একটা পেঁয়াজ, অর্ধেক টমেটো, দুটো কাঁচা লঙ্কা,একটু ধনেপাতা, আর এক টুকরো পাতিলেবু নিয়েছি।
আর নিয়েছি গোলমরিচ গুঁড়ো, বিট লবণ, আর একটা ভাঁজা মশলা, যাতে আছে- একটা শুঁকনো লঙ্কা, অল্প জিরে, অল্প ধনে, এক টুকরো তেজপাতা, আর অল্প পরিমাণ জোয়ান। সবগুলো শুঁকনো খোলায় ভেঁজে নিয়ে গুড়ো করে নিয়েছি।
আর অল্প চানাচুর নিয়েছি, ওপর থেকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
প্রথমে আমি টমেটো, পেঁয়াজ, লঙ্কা, ধনেপাতা কুচিয়ে নিয়েছি।
তারপর সেদ্ধ করা আলু গুলোকে টুকরো টুকরো করে কেটে নিয়েছি।
এরপর সব কিছু একসাথে মিশিয়ে নিয়েছি, তারপর বিট লবণ ছড়িয়ে দিয়েছি, অল্প সর্ষের তেল দিলাম, আর সবশেষে তেঁতুলের ক্বাথ,ভাঁজা মশলা,গোলমরিচ গুঁড়ো, আর পাতি লেবুর রস দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিলাম।
এরপর ওপর থেকে চানাচুর ছড়িয়ে পরিবেশন করলাম, মানে বলতে পারেন মণ ভরে খেলাম।
বিশ্বাস করুন এক মুহূর্তের জন্য যেন স্কুল লাইফে ফিরে গেলাম। কত আলুকাবলি, কত ঝালমুড়ি যে খেয়েছি তখন তার কোনো হিসাব নেই। যাইহোক, বেশ ভালো লাগলো জানেন, সময় পেলে আপনারও মাঝে মাঝে এমন পাগলামো করবেন, কথা দিচ্ছি ভালো লাগবে। সময় থেমে থাকে না এটা সত্যি, কিন্তু পুরোনো সময়কে একটু ফিরিয়ে আবার চেষ্টা করলে ক্ষতি কি বলুন?
আপনারা সবাই ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন,আনন্দে থাকুন এই কামনা রইলো।শুভরাত্রি।