প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আজ তিতলিকে দিতে এলাম দিদি বাড়ি। কিছুতেই সে আসতে চাইছিল না। কিন্তু তাতান ভীষণ বিরক্ত করছিল, আর দিদিও বার বার বলেছিলো আজ দিয়ে যেতে। তাই সকালে উঠে মোটামুটি কাজ গুছিয়ে ওকে খাইয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম। কারণ আমাদের ওখান থেকে একটা লোকাল আসে ১১.৩০ মিনিটে। যেহেতু আমি একা ওকে নিয়ে আসবো তাই অন্য ট্রেনে আসার ঝুঁকি নিলাম না।
আসতে বেশি সময় লাগে না, এই ১২.১০ নাগাদ ফ্ল্যাটে পৌঁছে গেছি, তারপর তাতান-তিতলি কে স্নান করালাম, নিজেও স্নান করলাম।ওদের খাওয়ালাম, নিজেরা সবাই খেলাম। দিদি ডিউটি থেকে ফিরলো প্রায় ৪ টে নাগাদ। সন্ধ্যা বেলা দাদা বাজারে গিয়ে মোমো নিয়ে এলো,এখনকার একটা দোকানের মোমো আমি ভালো খাই। টিফিন করে রাতের রান্না শুরু করলো দিদি।
অন্য দিকে চললো আমাদের খেলা। পাশের ফ্ল্যাটের একটা বাচ্চা ওর নাম রাজু ও এলো একসাথে একটু কার্টুন দেখলো ৩ জন। ব্যালকনি তে বসে ছবি তুললাম ওদের,কিছুক্ষন বাদে ললিপপ খেলো দুজনই।কি যুদ্ধ ললিপপ নিয়ে। তারপর তিতলি একটু বই পড়তে বসলো, একটু পড়লো কি পড়লো না উঠে গেলো, আনন্দে আত্মহারা সে পড়ায় কি আর মন বসে?
একটু পরেই সবাই মিলে রাতের খাবার খেলাম, দিদি চিকেন আর এঁচোর রান্না করেছিল, আর গুড়ের পায়েস। খাওয়া দাওয়া করে একটু গল্প চললো, এবার শুতে এলাম। তিতলি পাশেই শুয়েছে, ওর মা কতো বার ডাকলো কিছুতেই গেলো না। আমাকে জড়িয়ে শুয়ে আছে।কাল ও নাকী আমাকে থাকতেই হবে, কি সমস্যা বলুন তো?ওর মায়া যে কবে কাটবে আমার!
ওকে বকা দেই কখোনো কখোনো হয়তো বেশ জোরেই কথা বলি কিন্তু বড্ড ভালোবাসি। ওকে ছেড়ে যেতে একটুও ভালো লাগে না কিন্তু যেতে তো হবেই। আবার কয়েক দিন বাদে হয় ও যাবে না হয় আমি আসবো। এই ভাবেই চলবে আর কি। এরপর আস্তে আস্তে বড়ো হবে, জানিনা তখনও আমার প্রতি এইরকম টান থাকবে কিনা। তবে ওই যে কথায় আছে যে দিন যায় সেটাই ভালো, তাই আজকের দিনটাই প্রাণ খুলে আনন্দ করার দিন। আমিও তাই করছি, কাল যা হবে দেখা যাবে।
আপনারও ভালো থাকুন আনন্দে থাকুন।শুভরাত্রি।