আমার দেশে শীতের দিনে বা কোন পারিবারিক অনুষ্টানের মধ্যে নানা রকম পুয়া পিঠা তৈরি করা হয়। আর গ্রামীন সমাজে একটি প্রথা এখনো প্রচলিত আছে যেটা হচ্ছে কালা জাদু বা মন্ত্র।যা বেশিরই ভাগে আমাদের গ্রামে।প্রথম পুয়া পিঠা নাকি ভাজার পর ঘরের চালের উপর দিতে হয় ,তা না হলে বাকি পিঠা আর ভাজা জায় না বা রান্না ঘরের পিছনে ফেলে দিতে হয় ,তা না হলে ভুতেরা পিঠার ভাজতে দেয় না,তারা নাকি নজর দেয় ইত্যাদি রকমের কথা শুনা যায় আমাদের সমাজে,সমাজের কথা বললে ভুল হবে আমার নানি বাড়িতেই এই কথার হার নেই ,তেল পিঠা ভাজলে দিতেই হবে রান্না ঘরের পিছনে।এক দিন নানি কে জিজ্ঞাসা করলাম তোমরা এখন ও ঐ কুসংস্কার এর যুগে আছো,তখন আমাকে বলে তুই বুঝবি না।কথা টি সুনে হাসিও পায় আবার রাগ হয়,কিন্তু কি করার গুরু জন,মেনেই নিলাম।শুধু তাই নয় আর ও অন্যদিকে লক্ষ্য করলে অনেক কিছু দেখা যাবে যা নম্নীয়।বাড়িতে পুয়া পিঠে ভাজার সময় যদি কেউ একটা যদি মন্ত্র দেয় তাহলে নাকি সেই পুয়া পিঠে আর ভাজা জায় না,ইত্যাদি শুনে থাকি আসলে কি তাই ।আমার বিশ্বাস খানিকটা উপর -নিচ আর চিন্তিত মনে হয়।
আমাদের দেশে মন্ত্র -তন্ত্রের একটা প্রবল জোর সব সময়ই ছিল।সব বিষয়ের মন্ত্র ছিল।যেমন বসন্তের দূরীকরন মন্ত্র,বসন্তের রোগ আনয়ন মন্ত্র,সাপের কাটাড় মন্ত্র,বর্শীকরন মন্ত্র,বিষের মন্ত্র,বিয়ের ভাঙ্গার মন্ত্র,পুয়া পিঠা মন্ত্র ইত্যাদিবিদ।
মজার ব্যাপার হল,আমাদের সমাজে একদল শিক্ষিত মানুষ আবার এই সে বিশ্বাস ও করেছেন।শুধু যে বিশ্বাস করেছেন তাই না-নিজেদের বিশ্বাস অন্যদের মাঝেও ছড়ানোর চেষ্টা করতেন।মন্ত্রপাঠ করে গনগনে কয়লার আগুনের উপর দিয়ে খালি পায়ে হেটে যাওয়ার দৃশ্য আমেরিকান টিভিতে (NBC) দেখানো হয়েছিল।ব্যাপারটা আমেরিকান্দের উপর যথেস্ট প্রভাব ফেলেছিল।এইসব ঘটনা মন্ত্র বিশ্বাসী মানুষকে টলাতে পারে না।যে যা তার মাঝে মন্ত্র আছে এই বিশ্বাসে তারা বোধয় মনে এক ধরনে ভরসা পায়।
আমি মাঝে মাঝে মধ্যে শুনে থাকি, এই তন্ত্র-মন্ত্রের মুল উৎপওি নাকি কামরু কামাখ্যার দেশে বেশি প্রচলিত আছে বা সেখানে সেটাই বাস্তব মনে করে। সেটি নাকি নারীর রাজত্ব।নারীরা নাকি সবাই মন্ত্র-তন্ত্র এবং বর্শীকরনে বিদ্যায় আতিশইয় পটুক।তারা নাকি সবাই উদ্ভিন্য যৌবনা এবং পরীর মত রুপবতী।আমারও মাঝে মধ্যে ইচ্ছে জাগে কামরু কামাখ্যার দেশে যেতে,কিন্তু শুনেছি বা ইন্টারনেট এ ভিডিও মাধ্যমে দেখেছি -ঐ অঞ্চলে কোন পুরুষ গেলে সহজে জীবন নিয়ে ফিরে আস্তে পারে না-অসংখ্য তরুনীকে মনোরঞ্জন করতে করতেই তার মৃত্যু হয় (বলাই জায় সেখানে নাকি মরণ ও স্বগ সমান।তবে কেউ যদি ফিরতে পারে সে নাকি মহা সৌভাগ্যবান।কারন সে তন্ত্র -মন্ত্র শিকে আসছে।বাকী জীবন টা তন্ত্র মন্ত্র ব্যবহার করে সুখেই কাটিয়ে দিতে পারে।
ছোট বেলায় দেখেছি গরুর মন্ত্র যানা গুনীন।বছরের একটা বিশেষ সময়ে এরা গ্রামে গিয়ে উপস্থিত হয়।গোয়াল ঘরের দরজায় বা গরুর কাছে গিয়ে হাতে একটি গুন্টি বাদিয়ে মন্ত্র পাঠ করে গরুর গায়ে ফু দেয়।এই ফু নাকি এমনি জোরালো যে আগামী এক বৎসরেও গরু কোন রোগ বালাই স্পর্শ করে না।মন্ত্রটি ঠিক পুরোপুরি আমার মনে নেই ,তবে মন্ত্রে শুরুতে এ রকম কিছু ছিল।
"গোয়াল ঘরের পাশে,
খুক খুক কাশে,
ছেলে মেয়ারা হাসে"
image source
গুণীনরা শুধু যদি মন্ত্র পাঠ করে চলে যেত তাহলে ব্যাপারটা তেমন আমার কাছে অসহনীয় হত না,কিন্তু মন্ত্র পাঠের পাশা পাশি তারা নিতান্তই আমানবিক একটা কাজ করত গরুটাকে হাত-পা বেধে শুইয়ে লোহার গন গনে গরম করা গরুর গায়ে ছ্যাকা দিত।চামড়া পুরে যেত অনেক খানি,বেচারা গরু আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করত।এই জাতীয় নির্যাতন শুধু যে পশুদের উপর হত তা না- মানুষের উপরও এখন পর্যন্তু করা হয় কিছু কিছু অঞ্চলে।
সাপুরে দের মন্ত্র,তারা উই পোকা বা নানা ঝার ফোক করে।মন্ত্রটি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত
উওরে দক্ষিন সান,
বজরং প্রমান ,
উই উই সান।।
বজরং প্রমান
পূর্ব পশ্চিম সান
উই উই সান।।
কালীর দিব্যি ধরি
অহ্মন্তি ধাম
দুজর্নং বন্দেৎ
পূর্ব-পশ্চিম,উওর দক্ষিন সান।।
উই উই সান
খুব ছোট থেকে দেখে আসছি।গ্রামের একটি বধুকে ভূতে ধরেছিল।ভুতের ধরলে যা হয়,লজ্জা সরম না -কি-থা্কে না।মেয়েটির গায়ের কাপড় বারবার ফেলে দিচ্ছিল।গ্রামের পর্দা প্রথা কঠিন।কিন্তু ভূতের ধরা মেয়েদের জন্য মনে হয় পর্দা প্রথা কড়া কড়ি নিয়মে তেমন নাই।অনেক পুরুষ দেখতেছি ঊকি ঝুকি দিয়ে দেখতেছে।যে ওঝ মন্ত্র পাঠ করতেছে সেও মাঝ বয়সি।মন্ত্র পাঠ করার ফলে মেয়েটির সারা গায়ে হাত বুলাবার সুযোগ পাচ্ছে।এই কাজটিতে সে যে আনন্দপাচ্ছে সেটা কোন কিন্তু নাই।এক পর্যায়ে মেয়েটির গায়ের কাপড় খুলে ফেল্ল ।বড়রা আমাদের বল্লো পুলাপাইন কি দেখ দুরহও,আমরা চলে আস্লাম,পরে কোন এক ভাবি সম্পর্কের কাছে সুনি এবার নাকি শুকনো মরিচ পুরে দুই নাকের ফূটোয় ঠেসে দিবে।তবে আমি বল্লাম এটি দিলে কি ভাল হয়ে যাবে ,তিনি বল্লো হুম।আমি বল্লা তবেই এই দৃশ্য আমার আর দেখা হল না। তবে আমি এই সবের প্রিত বিশ্বাসী না ,আমি অবিশ্বাসী একজন মানুষ,আমার বেলায় কাজ না হবারি কথা ।তাই বিশ্বাসে মিলায় বস্তু,তর্কে বহু দূর।
ধর্মে বলা আছে যারা এই মন্ত্র -তন্ত্র করে বা এই সব কে বিশ্বাস করে তারা কবিরা গুনা করে।
নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা একান্ত জরুরী।