হারাধনের দুঃখ পার্ট-১

Words
385
Reading
2 min
Listen
Play
5y

আমাদের হারাধনের বড় দুঃখ।দুঃখের কারন তার মাথায়।তার যে মাথা খারাপ হয়েগেছে তা নয় ,তাহলে তার বন্ধু-বান্ধবরা তা সমন্ধে দুঃখিত হলেও সেই নিজের সমন্ধের করত না।কেননা তা মাথা খারাপ হয়েছে আর সকলে তা জানলেও তা অজানা থাকত।
তার দুঃখের কারন তার মাথার চুলে।হারাধনের বয়স বেশি নয়।এই বাইশ বছর মোটে,কিন্তু এরি মধ্যে তার দারুন চুল উঠতে আরম্ভ করেছে।প্রত্যহ তেল মাখতে,চুল আছড়াতেই ,এত বেশি চুক্ষয় হচ্ছে যে সে ভারী ভাবনায় পড়েগেছে।এভাবে আর কিছু দিন চললে টাক পড়তে আর দেরি কি?আর টাক পড়বে-এই বয়সে।
ছবি

d94db-haradhonerdukkha-bmp.jpg

তার ওপরে হারাধন আবার কবিতা লেখে।যাকে বলে তরুন কবি।রবীন্দ্রনাথ থেকে প্রায় প্রত্যেক কবিরাই কেশাধিক্য দেখতে পাওয়া যায়-তাই থেকে হারাধনের ধারনা চুলের সঙ্গে কবিতার নিকট সম্পর্ক আছে বোধ হয় ।আজ যদি রবিন্দ্রনাথের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় তিনি কি আর কবিতা লিখতে পারবেন।
না,কবিতা লিখতে পারবেন না।আবার,নোবেক লাবভেও আর যেতে হবে না তাকে।এবং চুল উঠে গেলে সি নোবেল আর তার বরাতেও কোন্দিন পাকবে না।তাই হারাধন ভারী ভাবনায় পড়ে গেছে।চুল চলে গেলে ব্যক্তিও্ব যায়,যৌবন যায়,মাধ্যকার্ষন ছাড়া পৃথিবী আর সমস্ত আকর্ষন চলে যায়-কেবল জীবন্টা থাকে ।তাও কেবল প্রানের থাকে মাএ ,সেই জীবনে কোন মানে থাকে না।তাই হারাধন বোড় ভাবিত।অবশেষে হারাধন ,ভিষগরন্ত,ভিষগাচার্য,ধনবন্তরী-এই সব উপাধি সাইনবোর্ড দেখে এক কবিরাজের শরন নিল।গিয়ে প্রশন করল মশাই,আপনাদের কবিরাজিতে কি সমস্ত আধিব্যাধির প্রতিকার আছে?

কবিরাজ মশায় বিস্ময়ের আতি কপ্টের কাটিয়ে উওর দিলেন- "বলেন কি আপনি! এইকলজ্ঞ মনি ঋষিদের আবিষ্ক্রিত এই আয়ুর্বেদ-শাস্ত্র।আপনি যে আবাক করলেন আমাকে।
না,না আমি তা বলি নি।শাস্ত্রের ওপর কোনো কটাক্ষপ্টা করচিনে আমি।আমি বলচি কি-বাধা দিয়ে কবিরাহ বলেন কটাক্ষপতা আর কাকে বলে!আজ না হয় ওই সদ্য বিষ-এই এলোপ্যাথিগুলো এসেছে,কিন্তু আগে কোন ওষুধ খেয়ে বাচাতেন? সত্য তায়ার দ্বারপে-
আপনি ভুল করচেন !আমি সত্য কি তেতাযুগের ছিলাম না।তার পরেও আমি বাচি নি ।এমন কি বাইশ বছর আগেও-
ওই তো আজ কালকার ছেলের দোষ ।মুনিঋষি বিশ্বাস নেই ,শাস্ত্রের বিশ্বাস নেই।তাতেই তো উচ্ছেন্ন গেল দেশটা ।বিশ্বাসে মিলায় বস্তু,তাই বিশ্বাস করতে শিখুন।
প্রাপ্তি হলে পারে এমন কোন মারাত্মক রোগ আমার হয়বি।আমার যো রোগ ,আদপে তা দোগ কিনা তাই এখনো আমি জানি না।সেই জন্যেই তো আপনার কাছে আসা।
বলুন আপনার কি ব্যাধি?যা কোন চিকিৎসায় না সেরেছে তা কবিরাজীতে সারবে-সারবেই আপনাকে মুখের বলতেও হবে না,দেখি আপনার হাতটা নাড়ি টিপলে সব টের পাব।
কবিরাজ মশাই হতভম্ব হারাধনের হাতখানা টেনে নিয়ে গভির মুখে অনেক ক্ষন ধরে নাড়ি টিপে অবশেষে বললেন-হহ হয়েছে।জলৌকাগতি।
আপনার নাড়ির গতি ঠিক জৌকের মত ।বায়ু-পিও-কফ।আপনার কুপিত-যন্ত্রনারটা কোথায়।
যন্ত্রনা কিচুই নেই ।বেজায় চুল ওঠেছে"।কবিরাজ মশাই ঠিকবুঝতে না পেরে বলেন - ইয়্যা?

শিবরাম চক্রবর্তীএর লেখাঃ হারাধনের দুঃখ-
গল্পের সোর্স