আস-আলামু আলাইকুম "আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি।আজ মাহে রমজান মাসে প্রথম দশদিন যা রহমত ও বরকত এর দশদিন বলা হয়,আর এই মাহে রমজানের দশদিনের মধ্য আজ ৯ম তম দিন শেষ,আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিল।এই মাহে রমজান হল মুসলমানদের পবিএ মাস, সিয়াম সাধনের মাস।যা কিনা অন্যান্য মাসে তুলনায় বেশি গুরুত্বপুরন্য বা মুল্যবান।
তাই আমাদের ইসলাম জীবনে রমজান হল রহমত ,বরকত ,মাগফিরাত ও নাজাতের পবিত্র মাস। শান্তির বার্তা আর মুক্তির নিশ্চয়তা নিয়ে হৃদয়ে মানসে সমুপস্থিত হয়েছে রমজান। মানজীবনের আকাঙ্কিত বহু গুন বৈশিষ্ট অর্জনের অবাধ্য মাস হল এই রমজান। ইসলামের দৃষ্টি কোণ থেকে সর্বত্তম মাস রমজান ; যাতে রয়েছে মানুষ ও মানবতার জন্য পরম শিক্ষা। তাই মহানবী (সাঃ) এর নিকট এ মাসের তাৎপর্য ছিল খুবই বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত। মহানবী (সাঃ) তিনি এ মাসের পরিপূর্ন শিক্ষা ও বরকত লাভের উদ্দেশে দুই মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। মহান আল্লাহ কাছে মহানবী (সাঃ) এর মিনতি ছিল "আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান"
অর্থ : হে আল্লাহ ! আমাদের রজব ও সাবানে বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। রমজান পর্যন্ত আয়ুকাল প্রলম্বিত হলেই তো সিয়ামব্রত পালনের মধ্যে দিয়ে একজন মুসলমান পরম রবের প্রত্যাশিত সন্তুষ্টি অর্জনের সক্ষম হবে। সে জন্য রমজানের আগমন ও রমজানে নিজেকে দেখতে পাওয়ায় মিনতি ব্যক্ত করার মধ্যে দিয়ে মহানবী (সাঃ) পবিএ রমজানকে স্বাগত জানিয়েছেন।
image scource
আমরা ইসলাম ধর্মের মুসলিমরা এই কথাটি বিশ্বাস করি যে,মানব ইতিহাসের একমাএ নির্ভুল গ্রন্থ আল কুরআনুল কারীমে জন্যই রমজানের শ্রেষ্টত্ব। পবিত্র কুরআন নাযিলের মাস হিসেবেই রমজান তার স্বকীয় মর্যাদার অভিষিক্ত হয়েছে।
ইরশাদ হচ্ছে -'' শাহরু রামাদ্বানাল্লাযী উনযিলা ফিহিল কুরআন " অর্থাৎ এ হল রমযান মাস ,যাতে অবতীর্ন হয়েছে আল কুরআন। সুতরাং রমজানের মাসে মর্যাদার পেছনে গ্রন্থ আল কুরআনের প্রাসঙ্গিতাই অবধারিত।আর আল কুরআনুল করিমের নির্দেশনার ভিত্তিতে আমরা মাহে রমজানের সিয়াম সাধনকে আবশ্যিক ইবাদত হিসেবে পেলাম।
যেমন -"কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম কামা কুতিবা আলাল্লাযিনা মিন কাবলিকুম লা -আল্লাকুম তাওাকুন " অর্থাৎ তোমাদের উপর রমজানের রোজাকে ফরজ করা হয়েছে যেমনি ভাবে তোমাদের পূর্ববতীদের প্রতিও ফরজ করা হয়েছিল।
এ থেকে আশা করা যায় যে তোমরা খোদাভীরুতা অর্জন করতে পারবে।
পবিত্র রমজানের রোজাব্রত পালনের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে তাকওয়া।,তথা খোদাভীতির গুণাবলী ধারণ করে নিজিকে মুত্তাকী হিসেবে গড়ে তোলা। সর্বাস্থায় মহান আল্লাহকে ভয় করার নীতি অবলম্বল করে চলা ,পরম রবের সামনে আনুগত্যের মস্তক অবনত করে দেয়া এবং সর্বত্ত আল্লাহ্পাকের উপস্থিতি ও সব কিছু প্রত্যক্ষ করার ক্ষমতার প্রতি অবিকল আস্থা রেখে তার কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি হচ্ছেই তাকওয়ার মূল কথা ;আর এই মহৎ গুনটিই একজন মানুষ মাহে রমজানে সুয়াম স্বাধনার মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে থাকেন।
তাই আমাদের সকলেরই উচিত,সন্তষ্ট-চিত্তে মাহে রমজান স্বাগত জানানো।
এটি স্বতঃসিদ্ধ যে ,মানুষ যে কোন জিনিসকে তখনি স্বাগত জানায় যখন সেই জিনিস তার জন্য কল্যাণকর হয় বা কোন না কোন মঙ্গোল বয়ে আনে।
রমজানকে আমরা স্বাগত জানাই কারণ ,রমজান আমাদের জীবনে বয়ে আনে অনাবিল রহমত ,অগণিত বরকত আর কল্পনাতীত মাগফেরাতের ফাল্গুনধারা। রমজানের প্রতিটি দিনে ও রাতে অজস্র মানুষকে জাহান্নামের শাস্তি থাকে মাফ করা হয় এবং রমজানের প্রতিটি দিন ও রাতে অগণিত মুসলমানদের নূণ্যপক্ষে একটি প্রার্থনা অবশ্যই মঞ্জুর করা হয়। এই মাসে নফল ইবাদত অন্য মাসে ফরজ ইবাদতের সমান ,এই মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান পুন্য বহন করে। এই মাসটি সবর তথা ধৌর্য অবলম্বনের মাস আর এই ধৌর্যের প্রতিফলন জান্নাত সুনিশ্চিত।
এই মাস সহানুভূতির আর এই সহানুভূতির প্রতিফলন হল রোজাদারদের রিজিক বৃদ্ধি হয়ে যাওয়া। এই মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করার বিনিময় তা পাপাচার মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হয়। সেহেরি খেলে পুন্য হয় এবং ফেরেশতাগণ তাদের কল্যাণ কামনা করেন। কোন কর্তপক্ষ এই মাসে কোন শ্রমিকে কাজ হালকা করে দিলে তার প্রতিদানে প্রভুর ক্ষমা অর্জিত হয় এবং পান করলে তার বিনিময় মহান আল্লাহ তাদের কেয়ামতের ময়দানে হাউজে কাউসারের সুপার পানি করবেন। আর ও অনেক কল্যাণ নিশ্চয়তা দে রমজান।
তাই আমরা মাহে রমজানকে হৃদয় এর গভীর থেকে স্বাগত জানাই।
image scource