ভেষজ নিরাপদ জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি তৈরিতে একধাপ এগোলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ!
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের এনাটমি এন্ড হিস্টোলজি বিভাগে করা এক পরীক্ষায় গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন জবা ফুলের জন্মনিয়ন্ত্রনকারি গুণাবলী। পুরুষদের উপযোগী এ পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভেষজ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত।
ভেষজ নিরাপদ জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি তৈরিতে একধাপ এগোলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ!
আধুনিক বিশ্বে জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। কনডম, পিল, ইঞ্জেকশনের মত স্বল্পমেয়াদী পদ্ধতি থেকে শুরু করে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি সার্জারি। এদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি পিল বা জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি। পিল ছাড়াও বাকি সব জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতির ব্যবহার মূলত করছেন নারীরাই। এদের বহুল ব্যবহার নারীদের বিরুপ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। মেদ জমা, রজঃচক্রে অস্বাভাবিকতা থেকে স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব বা ব্রেস্ট ক্যান্সারের মত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় জন্মবিরতিকরণ বড়ি। কিন্তু পুরুষদের জন্য নিরাপদ কোন জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি তেমন প্রচলিত নয়।
source:
এক্ষেত্রে আশার কথা শোনাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োরিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকগণ। জবা ফুলের রস ব্যবহার করে ভেষজ উপায়ে পুরুষদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রনের রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন তারা। গবেষণাগারে বিশটি ইঁদুরের উপর করা এ পরীক্ষায় উপস্থিত পুরুষ ইঁদুরগুলিকে রক্তজবা বা Hibiscus rosa-sinensis ফুলের রস খাওয়ানোতে তারা খুঁজে পান এদের মধ্যে কোন নারী ইঁদুরই গর্ভ ধারণ করে নি। পুরুষ ইঁদুরগুলোর অন্ত্র, কিডনি বা যকৃতে কোন পরিবর্তন হয়নি কিন্তু এদের শুক্রাণু সৃষ্টির পরিমাণ কমে গিয়েছে। যা নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক ফলাফল।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত জবা ফুলের জন্মনিয়ন্ত্রন গুণাবলী যেমন সুলভ তেমনি কার্যকর বলেছেন গবেষকরা। বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের মধ্যে এটি প্রচলিত হবে এই আশা তাদের। প্রফেসর ড. শংকর কুমার দাশের নেতৃত্বে গবেষণা দলে ছিলেন সোনালী ভক্ত, পাপিয়া খাতুন এবং উম্মে আয়মান।