Source
জীবন মানে কী? হঠাৎ এই প্রশ্নে যে কেউই ভড়কে যাবে হয়তো! তার কারণ প্রশ্ন করাটা যত সহজ, তাই উত্তরটা সেরকমই কঠিন। দার্শনিকদের করা এই পুরনো প্রশ্নই হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে।যুদ্ধের লেলিহান শিখা দেখার পর শুধু মনে কেন এত কিছু??রাশিয়ার এই হামলার পর পশ্চিমা দেশগুলো ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ করছে।তবে মজার বিষয় হলো তারা নিজেরাই কিন্তু বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ করেছে!তবে যেভাবে হামলা চলছে তাতে অনেকেরই আশংকা যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে দেশটিতে সংকট আরও তীব্র হবে এবং অনেক প্রান হানি হবে।
তবে আমার কাছে কেউ যদি জিজ্ঞেস করে জীবন মানে কি? তাহলে এর উত্তরে আমি ছোট্ট একটা গল্প বলতে চাই! ছোট্টবেলায় ঘুমকন্য হিসেবে বেশ নাম কুড়িয়েছিলাম।এত ঘুমাতাম যে আমার আম্মু বলতো এই ঘুমের জন্যই না আমি জীবনে পিছিয়ে পরি।তাই ঘুম কাটানোর জন্য সব সময় চা/কফি খেতাম। যাতে ক্যাফেইন আমার স্নায়ুকে সজাগ রাখে।এভাবেই চায়ের সাথে আমার সখ্যতা গড়ে উঠলো।হয়ে গেল আমার প্রিয় পানীয়।পারফেক্ট এক কাপ চা না হলে, আমার জীবন মনে হয় চলেই না!আর এই জীবনে ছেদ পরলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণের পর।বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা দূরে দেখেই হল জীবন শুরু করতে হলো!সবকিছুই ঠিক মতোই চলছিলো। বাধ সাধলো শুধু চা।আম্মুর হাতে বানানো পারফেক্ট কাপ চা তো কোথাও পাই না!ঘুমের রেশ ও কাটে না!এভাবেই চলতে ছিলো।
১ম বর্ষে আমি অনেকটা দেরীতেই হলে উঠি।তাই সবার সাথে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো আমার।কিছু কিছু মেয়ে বড্ড কঠিন। আবার কেউ সহজ সরল।হলে প্রথমে গণরুমে থাকতে হয়। আমার বেডের দুই বেড পরেই ছিলো তিথির বেড।খুব আলসে ছিলো। সহজে ক্লাস করতো না।মাঝে মাঝে আমার ক্লাস অফ থাকলে রুমে এসে ওকে ঠিকই পেতাম।তিথি ও না ,আমার মতো চা পছন্দ করতো।ওর বাসা ঢাকার বাইরে ছিলো। তাই ও বাসা থেকে চা পাতা, গুড়ো দুধ, চিনি,আদা,পাতিল,এমকি টি ব্যাগ আর ওয়াটার হিটারও এনেছিলো।আমি তো আবার চায়ের পোকা।কিন্তু চায়ের দোকানে ওই কন্ডেসমিল্কের বানানো চা আমি একদমই খেতে পারতাম না!হলে বা বাইরে এটা ছাড়া কোনো গতি ও নেই।তাই স্বভাবতই ওর সাথে খাতির হয়ে গেলো আমার।আর তিথিও চা বানাতে গেলেই আমাকে ডাক দিতো।
আমিও সাথে সাথে হ্যা বলতাম .......!
মাঝে মাঝে ও বলতো,তুই দেখি আমার মতোই চা খোর!
আমি বলতাম,চা বানাইলে ডাক দিস!
কি দিন আমাদের... !
তারপর গণরুম থেকে আমাদের চার সিটের রুমে দিলো।সবাই আলাদা।আমি এক ব্লকে, তিথি আরেক। একদিন হলো কি আমি তিথির সাথে গল্প করে আমার রুমে যাব। যেতে গিয়ে দেখি ,আগের রুমের কেউ বমি করে করিডোর ময়লা করে ফেলেছে।ওটা দেখে আমি আর না গিয়ে, গেলাম নিচে।দেখছি যখন ,একা কেনো দেখবো? তিথি কে বললাম," তিথু একটা জিনিষ দেখবি? ইন্টাররেস্টটিং! ও বললো কই? আমি বললাম তিনতালায় চল দেখবি! দেখে এটলিস্ট মজা পাবি! এই বলে নিয়ে গেলাম।
হহাহাহহা হাহাহা .... ওইটা দেখে সারা হল আমাকে ধাওয়াই বেড়িছে।তখনো অসুস্থ হয়নি।কি প্রাণবন্ত।আমার মতোই হাসি খুশি।কি একটা বিরল রোগে আক্রান্ত হলো। চিকিৎসার জন্য ভারতেও গেলো। কিছুটা সুস্থ ও হলো।একবার নাকি সবাই কে দেখতেও চেয়েছিলো।করোনার জন্য কেউ যেতে পারি নি। কি স্বার্থপর আমরা!হয়তো ভুলেই গেছিলাম ও কতটা কাছের।
তিথি নাই প্রায় এক বছর।চায়ের কাপের উষ্ণ ধোঁয়ায় স্মৃতিগুলো মাঝে মাঝে জড়ো হয় আবার মিলিয়েও যায়!
যে জীবনটাই এত ঠুনকো, সেই জীবন নিয়ে এত অহমিকা করে কি হবে???
সে কারনেই অন্য অনেকের থেকে জীবনের সংজ্ঞা আমার কাছে ভিন্ন!একটা সুন্দর পৃথিবী আর একটা সুন্দর জীবন চাই।
Safe Ukraine from Russia, safe children, women and all vulnerable people of Ukraine.