একটা গল্প বলো তো?
কি গল্প বলি বলো তো!
যেটা কখনো বলো নি,হয়তো বলে হওয়া হয়নি অথবা বলার মতো কিছুই না! এমন কিছু?
হুম.....! আচ্ছা!
কি আচ্ছা? বলো না?
বড্ড অস্থির তুমি!
আচ্ছা বলতে হবে না
শোন! ক্ষণিকের প্রেমে পড়ছো কখনো?
নাহ!
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তখন ভীষণ ব্যস্ত আমি।বাবা -মা কে ছাড়া বন্ধুময় সময়টা বেশ কাটাচ্ছিলাম।হলে থাকা, ক্লাস...! দেখতে দেখতে গ্রীষ্মএর ছুটি পেয়ে গেলাম।একা একা ট্রেনের টিকেট ও কেটে ফেললাম!
হাহাহা! তাই?
হুম! ....তো .....ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে দেখছিলাম,একটি বড় ষ্টেশন আসাতে ভিড় কিছুটা ফাঁকা হয়ে গেলো।আর তখনই তাকে দেখলাম।
কে সে?
জানি না! মাথা নিচু করে বই পড়ছে।কিন্তু মুখটা ঠিকই দেখতে পাচ্ছি আমি।মনে হল এমন সৌন্দর্য আগে কখনো দেখিনি আমি।
আগে দেখোনি কখনো?
না।অথবা দেখেছি, সূর্য রশ্মির মত...!জানো কোনও ভাবান্তর নেই চেহারায়। গভীর মনোযোগে বই পড়েই যাচ্ছে।
হুম।তারপর ?
কি বই নামটি দেখার চেষ্টা করলাম কয়েকবার।কিন্তু এতদুর থেকে সেটাও পড়া যাচ্ছে না।
শেষ পযর্ন্ত নাম কি পড়তে পেরেছিলা??
না।
ওহ!
নীলাবতী একবারও কোথাও তাকায়নি।বই তেই পূর্ণ মনোযোগ।নাম যদিও জানা নেই কিন্তু নীল পোশাক দেখে এই নামটিই মনে এলো।
নীল রঙ পছন্দের মনে হয়!
সারা পথে ভাবছিলাম,আচ্ছা আমার ষ্টেশন যদি আগে চলে আসে তখন কি করবো আমি?নেমে যাবো নীলাবতী কে ট্রেনে রেখে?
রেখে যাবার মানেই হয় না!
আর যদি নীলাবতী নেমে গেলে ! কি করবো? আমিও নামব নাকি বসে থাকবো আমার ষ্টেশনের জন্য?কখনো কোনও মেয়ের পিছু নেইনি আমি।
সত্যি বলছো?
হুম!
তারপর কি হলো?
হঠাৎ করে বই বন্ধ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললো নীলাবতী। উঠে দাঁড়ালো।পরের ষ্টেশনেই নেমে যাবে।আমি কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা।চাইলে পিছু করতে পারি কিন্তু কি হবে তাতে?
জানি না!কি একটা দোটানা!
হতে পারে পছন্দের কেউ আছে!অথবা হতে পারে বিয়ে হয়ে গেছে।আর কিছু না হলেই বা কি!এমন তো না যে আমি পিছু নিলেই পেয়ে যাবো আমার নীলাবতীকে।তাই বসে রইলাম সিটে!
এতক্ষণে কি একবার ও চোখাচোখি হয়নি?
না!
তারপর?
অপেক্ষায় রইলাম! আসুক পরের ষ্টেশন।হারিয়ে যাক আমার ক্ষণিকের নীলাবতী!