হুটহাট কিছু করতেই কেন জানি বেশ ভালোই লাগছে আজকাল।আবার প্রকৃতি ও আমার সাথে তাল মেলাতে নিয়ে এলো হঠাৎ ঝড়!তীব্র গরমে এ যেন অনাবিল শান্তির পরশ!ঝড় আসার পরে প্রকৃতি অসম্ভবভাবে শান্ত হয়ে যায়।কারণ তারপরেই রিনিঝিনি শব্দে চলে আসে বৃষ্টি! বৃষ্টি এলেই আমাদের এলাকায় কিছু সময় বিদ্যুৎ থাকে।ডিজিটাল এই সময়ে একাকিত্বের শূন্যতা। কি কি করব,কি করবো ভেবে ভেবে অবশেষে সিধান্ত নিলাম কোন একটা সিনেমা দেখা যায় কিনা!যেই ভাবা সেই কাজ।ল্যাপটপ অন করে গেলাম চা বানাতে।চা না হলে, এই আবহাওয়া ঠিক জমছে না!
অন্ধকারে এর মধ্যে চুলায় আগুন জ্বালানোর দৃশ্যটাও বেশ আনন্দদায়ক। এভাবে চা নিয়ে এগিয়ে গেলাম নিজের রুমে,আব্বু আম্মু ও শুয়ে শুয়ে গল্প করেছেন। শুনতে ও বেশ লাগছে!কি দেখবো ভেবে ভেবে, ল্যাপটপ এর ফোল্ডার গুলো দেখতে লাগলাম।হঠাৎই চোখ আটকালো একটি সিনেমার উপর। Beauty and the Beast! এটা মনে হয় আমি ২০১৮ তে ডাউনলোড দিয়েছিলাম। এখনো ও সময় করে দেখা হলো না।বেশ ভালোই হলো তবে।কিছু একটা দেখে তো সময় কাটানো যাবে।যেখানে সময়টা পার করাটাই মূখ্য উদ্দেশ্য! চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই শুরু করলাম।
নিজস্ব রেটিং ৭.৫/১০
সিনেমার নাম : Beauty & The Beast-2017[বিওটি এবং দা বিষ্ট(২০১৭)]
ডিরেক্টর : বিল কন্ডন
লেখক: স্টিফেন বোছকি, ইভান স্পিলিইওপ্রটাস, লিন্ডা ওলভারটন...
আইডিএম রেটিং: ৭.১/১০
নিজস্ব রেটিং: ৭.৫/১০
এই সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো : ইমা ওয়াটসন, ডেন স্টিভেন্স, লুক ইভান্স, জস গেড
সিনেমা শুরু হয় একজন সুন্দর রাজকুমার, অনেক সুন্দরী রমনীদের নিয়ে বিশাল আতিথেয় অনুষ্ঠান করছে।গান নাচে সবাই বেশ মসগুল। সেখানে যে রাজকুমার ছিলো, সে সব সময় নিজের সৌন্দর্য নিয়ে অহংকারী ছিলো। তাই সে তার মতো সুন্দর আর ধনী মানুষদের পছন্দ করতো। হঠাৎ তাদের অনুষ্ঠানের ছন্দপতন করে ঝড় হয়! সেই ঝড় থেকে রক্ষা পাবার জন্য এক কুৎসিত বুড়ি মহিলা আসে এবং সে রাজকুমার এর সম্মানে একটি গোলাপ ফুল দেয়।যা সে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তার দিকেই ছুড়ে মারে।বুড়ি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে যে, মনের সৌন্দর্যই বড়, বাহ্যিক আসলে তেমন কিছু না।কিন্তু সে এবং সবাই তাকে নিয়ে হাসি তামাশায় মেতে থাকে! তারপর সেই বুড়ি মহিলা হঠাৎ এক সুন্দরী মহিলাতে পরিণিত হয়।আসলে তিনি ছিলেন একজন জাদুকরী, তার অভিশাপের কারনেই পরবর্তীতে রাজকুমার পশুতে পরিণত হয়।এখানে গোলাপ ফুলটির ও তাৎপর্য কম নয়।কেননা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার একটি মাত্র উপায় হলো, সেই ফুলের সব পাপড়ি ঝড়ে যাবার আগে যদি কেউ রাজকুমারকে ভালোবাসতে পারে বা দুইজন দুইজন কেই ভালোবাসে তাহলেই সম্ভব! তাছাড়া ঐ মহলের বাকী মানুষজন ও বিভিন্ন বস্তুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়।তাই সবারই একি চেষ্টা যে কে আসবে রাজকুমার কে ভালোবাসতে?....
বলতে গেলে পুরো সিনেমার মধ্যে এই অংশটুকু বেশী ভালো লেগেছে। কেননা আমরা পুরো পৃথিবী মেতে আছি এই সৌন্দর্য নিয়ে! এখন আর মন বোঝার মত মনটাই নেই কারো!সবাইকে বুঝি তার অর্থ বা পারিবারিক অবস্থান দিয়ে।যেটা আসলে কোন গুরুত্ব বহন করে না! এই তথ্য খুব সূক্ষ্মভাবে এই সিনেমাতে বুঝিয়ে দিয়েছে! সৌন্দর্য থাকা সময়ে যেই ভালোবাসা সে পায়নি, পশু চেহারায় সে সেটা ঠিকই অর্জন করেছে।
পরের কাহিনী গুলো সাদামাটা কিন্তু ঝকঝকে! বাকি প্রধান চরিত্র ... নায়িকা হিসেবে বেল এবং তার বাবা।একমাত্র খলনায়ক চরিত্র গেশটন আর তার দল।কাহিনীটা এমন, বেল এর বাবা কোন এক ঘটনা ক্রমে রাজকুমার এর প্রাসাদে পৌছায় এবং সে শাস্তি প্রাপ্ত হয়ে আটক হয়। পরবতীতে বেল তার বাবাকে বাচাতে, সেই প্রাসাদে হাজির হয় এবং তার বাবার পরিবর্তে নিজেকে বন্দি করে।এভাবে পরবর্তীতে কাহিনী এগিয়ে চলে নিজের ছন্দে। এবং অবশেষে শেষ পাপড়িটি পড়ে যাবার মুহুর্তে বেল রাজকুমারকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলে,এভাবে রাজকুমার অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পায় আর নতুন জীবন শুরু করে, বেল এর হাত ধরে।
আসলে যাপিত জীবনের যেই গুরুত্বপূর্ণ কথা, সেটা হলো মনের সৌন্দর্য এ সুন্দর হতে হবে।বাহ্যিক, আর্কষণীয় শারিরীক সৌন্দর্য খুঁজতে গিয়ে মনটাই না হারিয়ে যায়!