জীবনে মাঝে মাঝে এমন কিছু মূহুর্ত আসে আমরা জীবনের পূর্ণতা এবং প্রাপ্তির হিসাব কসতে বসে যাই। জীবনের অবিন্যস্ত নৌকা যখন বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেড়িয়ে সঠিক ঘাটের সন্ধান খুঁজে পায় এবং সে ঘাটে যাওয়ার জন্য তার জীবনের অবিন্যস্ত নৌকা যখন অবাঞ্ছিত ঝঞ্ঝাট নামক ঝড় যখন সুষমগতিরূপ জীবন নৌকার পালে এসে হানা দেন, এখন ক্ষণিকের সুবিন্যস্ত জীবন নৌকাটি পূনরায় অবিন্যস্ত নৌকায় ফিরে যাবার প্রতি ভীষণ টান অনুভব করে। আর এ সময়ই প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজন পড়ে দক্ষ মাঝির।
যত বড়, যত শক্তিশালী ঝড় হোক না কেন সে মাঝি তার সাহস এবং দক্ষতা দিয়ে ঝড়ের সাথে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে, তার নৌকাকে ঘাটে ফিরাবেই। কারন একজন দক্ষ মাঝি মনে করে, নৌকাকে যথাযথভাবে ঘাটে পৌছানো তার দায়িত্ব, আর এ দায়িত্ব পালনে সে বদ্ধপরিকর। সে নৌকাকে তার জীবনের একটি অংশ মনে করে, আর এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারন হলো তার অতিবাহিত সময়ের সবচেয়ে বেশি সময় তার মধ্যেই কাটিয়ে দেয়। আর আমরা যে জিনিসের সাথে সবচেয়ে বেশি সময় কাটাই আমাদের অজান্তেই সে জিনিসের সাথে আমাদের একটা বন্ধন তৈরি হয়ে যায়, হোক সেটা জড় কিংবা জীব।
আর এ কারনেই আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষদের দেখি তারা কতটা আবেগী হয়ে পড়ে তাদের সে জড় বস্তু কিংবা প্রিয় মানুষকে হারিয়ে। সে যাইহোক নৌকার মাঝির মধ্যে যদি সাহসি মনোভাব না থাকত, সে যদি কখনো ঝড়ের কবলে পড়ে ভীতিকর পরিস্থির কারনে সীদ্ধান্তহীনতায় ভুগতো তাহলে, নৌকা এবং নৌকার মাঝে থাকা প্রাণগুলো ঝুঁকির মধ্যে পরত। আর যদি ভাবেন মাঝি সন্দিহান হয়ে, নৌকা থেকেই সরে যেতো তাহলে, সে নৌকার হতো আর সে নৌকার ভেতরে থাকা জীবন্ত প্রাণগুলোরই বা কি হতো। আর এমন যদি হতো তবে, পেশা হিসেবে সাহসহীন মাঝি কি কল্পনা করা যেতো? অবশ্যই না।
মাঝি হিসেবে, যদি একজনের মধ্যে যথাযথ সাহস না থাকে তাহলে সে লোক আর যাই করুক মাঝি খেতাব দিয়ে তার পূরো জীবন অতিবাহিত করতে পারবে না, এটা আমি নিঃসন্দেহে বলে দিতে পারি। আচ্ছা, এ কথাগুলো বলার পেছনে উদ্দেশ্য কি?! আমাদের জীবনে প্রায়ই আমরা ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, আর সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে আমরা সীদ্ধান্তহীনতার মধ্যে পড়ে যাই। মাঝে মাঝে ত আমাদের জীবনের কাছে আমাদের নিজেদেরই ভালো লাগে না। মনে হয় যেন, এই জীবন নামক নাটকের চরিত্র থেকে যদি অব্যাহতি নেয়া যেতো। আসলেই কি এটা সম্ভব? না, জীবন একটাই। আর এ জীবন নামক নৌকার মাঝি আপনি আর নৌকা হলো আপনার জীবন।
আমাদের জীবনের মাঝে যখন অবাঞ্ছিত কোনো ঘটনা ঘটে, সে সময় আমরা প্রায়ই সন্দিহান হয়ে পড়ি। আর যেটা আমার সাথে প্রায়ই ঘটে। আর ভাবি এজীবনের চরিত্রে যদি আমার ভূমিকাটা অব্যাহতি পেতো করই না ভালো হতো নিজের ইচ্ছে মতো যদি অন্য কারো চরিত্রের ভূমিকা আমি পালন করতাম। আসলে এ ভাবনাটা নিতান্তই অবাস্তব এবং বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়, যদিও এটা আমি ভালো করেই অবহিত। হঠাৎ নৌকার মাঝির সাথে ভাবতে ভাবতে মানব জীবনের সাথে খুবই মিল খুঁজে পাই।
জীবনের অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটবে, আপনি যা কখনো প্রত্যাশা কখনো করেননি এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনাও আপনার সাথে ঘটবে, ঐসব ঘটনা ঐসব পরিস্থিতি আপনার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলেও, জীবন নামক নৌকার কাছে এগুলোই স্বাভাবিক। আর এসময় ভীষণ পিছুটান অনুভুত হয়, একাকীত্ব অনুভূত হবে, যেনো মনে হবে চারিদিকের সব নেতিবাচকতা আপনাকে ঘিরে ধরছে, আর আপনি মনে করবেন এবুঝি আর পারছি না! ঠিক সেসময়ই সাহসের পুনরুজ্জীবিত হয়ে পুনরায় জীবনের পালে হাত দিতে হবে এবং যা হবে দেখা যাবে মানোসিকতা নিয়ে জীবন নামক নৌকাকে ঘাটে ফিরাতে হবে।