এক অদ্ভুত ইচ্ছে-পূরণ!

Words
538
Reading
3 min
Listen
Play
4y

আমার দেখা সবচেয়ে শান্ত স্বভাবে ছেলে সে। ছোটকাল থেকেই বড্ড চুপচাপ সে, জন্মের সময় তার পৃথিবীতে আগমন একটু অদ্ভুতভাবে, সচরাচর যখন কোনো নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয় প্রচন্ড কান্নাকাটি করে, কিন্তু তার আগমন ঘটে নিশ্চুপ হয়ে। সবাই ঐদৃশ্যটা দেখে ক্ষণিকের জন্য ভীষণ চিন্তিত হয়ে পরে, নবজাতকটা কি তাহলে বড় হয়ে প্রতিবন্ধী হবে নাকি বড় হয়ে তখন এ ধরনের চিন্তা সেখানে উপস্থিত মানুষদের মাথায় আসতে শুরু করে, যা অনেকটা স্বাভাবিক হিসেবেই ধরা যায়।

IMG_20220714_021234.jpg

এজন্য তার বাবা তার পায়ের তালুতে ছোট একটা চিমটি কাটতেই, সে ভীষণ বড় এক চিৎকার দিয়ে থেমে যায় আর এ ফাঁকে সবাই স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে। সাত দিনের মাথায় যখন তার আকিকা এবং নামকরণের পালা আসে, তার বাবা তার নাম রাখেন শান্ত। নামে ও কাজে বড্ড মিল তার, যত বড় হতে থাকে তার নামের সাথে মিলটাও ততই গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। তার এলাকার মানুষরা কোনো জায়গায় শান্ত নাম শুনলে তাদের মাথায় সে ছেলেটির চেহারা ভেসে উঠে।

আর কেউ কেউ ত মনে করে এই নামের জন্যই সে। স্কুলে পড়ারত অবস্থায় না কোনো সে ঝামেলায় জড়িয়েছে, না ঝামেলা তাকে জড়াতে পেড়েছে। সে প্রতিবারই সব ঝামেলা শান্ত ভাবে পাশ কাটিয়ে চলে আসত। তাকে নিয়ে আর বন্ধুরা ক্লাসে অনেক হাসিতামাশা করলে, এতে সে কোনো প্রতিক্রিয়া করত না, দিন শেষে তার কাজ শুধু স্কুলে যাওয়া৷ এবং স্কুলে শেষে একাএকাই বাড়ি ফিরে আসা।

একা সময় কাটাতে ভীষণ পছন্দ তার। একা থেকে থেকে তার মাথায় বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত সব চিন্তা এসে বাসা বাঁধে। কিন্তু তার সাহস হয়ে উঠে না সেসব চিন্তাকে বাস্তবে রুপ দিতে। তাকে দেখা বেশির ভাগ মানুষই মনে করত, তার জীবনে হয়ত খুবই বর্ণিল। একা একা থাকা, চুপচাপ থাকা, নিজের ভেতরের ইচ্ছাকে প্রকাশ না করা মানেই ত জীবন বর্ণিল। এ ধরনের জীবনযাপনের মধ্যে কিভাবে একজন সুখ খুঁজে পায়?

কিন্তু কেউ যদি তার লুকিয়ে লুকিয়ে লিখা সে ডায়েরিটা একবারের জন্যও পেয়ে যেতো তাহলে বুঝতে পারত যে সে তার সাধারণ মানুষের মতো না, তার জীবন বর্ণিল নয়, ভীষণ রঙ্গিন হয়ত রঙ্গিন ক্যানভাসের চেয়েও রঙিন। রঙ্গিন তার কল্পনা, তা বাস্তবে রুপ দেয়া ভীষণ কষ্টসাধ্য। তার যতসব ইচ্ছা সে তার ডায়েরিতে লিখে রাখত, জীবনের কোনো না কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে সে তা বাস্তবে রুপ দেয়া বড্ড শখ।

তার মধ্যে একটি অদ্ভুত শখ হলো সে তার মৃত্যুর পরে তার আপন মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়, যদিও এটা অসম্ভব একটা কাজ। কারন মৃত্যুর পর ত আর তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে কিছুই করা যায় না বা তার প্রতিক্রিয়াও কেউ দেখবে না। তাই তার একটা অদ্ভুত শখ সে বেঁচে থেকে তার মৃত্যু পরের প্রতিক্রিয়া দেখতে চাওয়া। সে জানত এটা অসম্ভব কিন্তু এর বিকল্প একটা পথ সে খুঁজে বপর করে তা হলো নিঁখোজ হয়ে যাওয়া কয়েক দিনের জন্য বা মাসের জন্য এবং পুনরায় ফিরে এসে তার প্রিয় মানুষদের প্রতিক্রিয়া দেখা।

অবশ্য এ সাহস তার হয়ে উঠে না। কলেজে পড়ারত অবস্থায় একদিন রাতে সে ইচ্ছে করেই দেরিতে ঘরে ফিরে যাতে তার বাবা তাকে বকা দেয়, আর সে উছিলায় সকালে কাউকে কিছু না বলে কলেজের উদ্দেশ্য বের হয়ে আর ঘরে ফিরে আসে না। প্রায় মাস খানেরক কেটে যায়। তার কাছে জমানো ছিলো কিছু টাকা তা দিয়ে। হঠাৎ একদিন বাড়ি ফিরে দেখে তার বাবা-মা তারা দুজনেই তাকে দেখে অবাক। তার সে বাবা জড়িয়ে ধরে তাকে কাঁদছে, আর তার মা ত তাকে পেয়ে কি করবে কিছুই বুঝে উঠিতে পারতেছিলো না। সে ত তার বাবার সাথে রাগ করে বের হয়ে যায় নি, সে ত শুধু তার অদ্ভূত এক শখ পূরণ করতে ভের হয়েছিল, তা ত আর কেউ জানত না!

এক অদ্ভুত ইচ্ছে-পূরণ! | Ecency