তার বাবা অবাক হয়ে তার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকার পর কিছুটা কৌতূহলী হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল যে কেন সে স্কুলে যেতে চায় না এরপর ছেলের উত্তর শুনে ত তার দুই চোখ যেন কপালে উঠে যায় যায় অবস্থা। রিফাতের উত্তরটি ছিল, " আমার লেখাপড়া ভালো লাগে না! "
—তাহলে তুমি কি করবে সারাদিন?
—আমি সারাদিন মাঠেমাঠে লেখতে চাই, আমার লেখতে ভীষণ ভালো লাগে।
—খেলাধুলা ত করবেই, কিন্তু লেখাপড়ার সময় ত লেখাপড়া করতে হবে বাবা, নাহলে ত বড় মানুষ হতে পারবে না।
সেদিন তার বাবা তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হলো, কিন্তু রিফাত তার মাকে ভীষণ ভয় পেত এবং অবশেষে তার মা তাকে নিয়ে স্কুলে গেল। লেখাপড়া করতে যদিও তার তেমন একটা ভালো লাগত না, তবুও তার মায়ের ভয়ে তাকে তার স্কুলে প্রতিদিন যেতে হত। কিন্তু সে আর যাইহোক বিকেলে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করতে কখনো ভুলে যেত না। আর তার মার একটাই কথা ছিল " কখন খেলতে গিয়েছ সেটা দেখার বিষয় না, সন্ধ্যাে নামার আগে বাড়ি ফিরতে হবে।" যদিও এনিয়মটি মানতে তার কাছে খুবই বিরক্তিকর লাগত তবু্ও না মেনে পারত না। মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে বিকেলে প্রাইভেট থাকার কারনে, প্রাইভেট শেষ করে মাঠে গিয়ে ২০ মিনিটও খেলতে পারে নি সন্ধ্যা হবার আগেই মায়ের ভয়ে বাড়ি চলে যেতে হতো।
একদিন রিফাত তার প্রাইভেট শেষ করে সব বন্ধুদের সাথে ব্যাট-বল নিয়ে মাঠের একটি বট গাছ ছিল, সেই বট গাছটাকে স্ট্যাম্প বানিয়ে খেলা শুরু করে দেয়। খেলতে খেলতে হঠাৎ বল পাশে এক জঙ্গলে চল চলে যায় আর এদিকে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রিফাত এবং তার বন্ধুরা অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরও বল খুঁজে পাচ্ছিল না আর একে একে সব বন্ধুরা যার যার মতো করে নিজ নিজ বাসায় চলে গেল। কিন্তু এদিকে সন্ধ্যা পেড়িয়ে যে রাত হতে চললো রিফাতের খেয়াল নেই। অবশেষে সে বল না পেয়ে ফিরে আসার পথে হঠাৎ বটগাছটার কাছে এসে বলটা তার হাঁটার মাঝে পায়ের সাথে লাগে এবং সে বল আর ব্যাটটি নিয়ে একা একা বাসার মাঠ ত্যাগ করতে লাগল, তখন মাঠে কেউই ছিল না, সে একা কিন্তু এদিকে তার কোনো খেয়াল ছিল না। সে তার মায়ের কথা হঠাৎ স্মরণ হওয়ায় সে জোরে পা চালিয়ে হাঁটতে লাগল।
বাসায় গিয়ে সে লক্ষ্য করল তার মা রান্নার কাজে ব্যস্ত আর এইফাকে সে হাত-মুখ ধুয়ে চুপচাপ তার পড়ার টেবিলে পড়ত্র বসে গেল। কিছুক্ষণ পড়ে সে তার শরীর ক্লান্ত লাগার কারনে সে রাতের খাবার না খেয়েই বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পরল। মাঝরাতে রিফাতের বাবা ঘুম ভেঙে গেলে, উঠে রিফাতকে জ্বরে কাঁপতে দেখল। কাছে যেতে রিফাত ঘুমের ঘোরে বলতে লাগল "আমি খেলার রাজা।" এরপর তার বাবা তার সাথে সারারাত থাকল এবং সকাল হলে রাতের ঘটনা জিজ্ঞাসা করলে সে কিছুই বলতে পারল না।