বাস্তবে পূরণ না হলেও কল্পনাতেই হোক মন্দ কিসের!

Words
513
Reading
3 min
5y
চুপচাপ ও শান্তশিষ্ট প্রকৃতি মেয়ে নীলা। ছোটকাল থেকে চুপচাপ ও একা থাকতে পছন্দ করে। বড় হওয়ার সাথে সাথে তার এ স্বভাবগুলো একটুও পরিবর্তন হয় নি। ফলে স্কুলে জীবনে তার তেমন কোনো বান্ধবী ছিল না, প্রতিদিন সে একা একা স্কুলে যেত এবং স্কুল শেষে একা একাই বাড়ি ফিরে আসত। কারও সাথে তেমন কোনো অপ্রয়োজনীয় কথা বলত না। এভাবেই তার স্কুল জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু সে যেই স্কুল জীবন শেষ করে কলেজ জীবনে পদার্পণ করল, সেখানে সে অন্য এক জগতের সাথে পরিচিত হলো। কলেজ জীবনের প্রথম দিন, কলেজে গিয়েই তার পরিচয় হয় হুবহু তার মতো স্বভাবের একটি মেয়ের সাথে, যার নাম সানজিদা। ধীরে ধীরে নীলা এবং সানজিদার মাঝে ভালো বন্ধুত্ব হয় এবং তারা সবসময় কলেজে একসাথে বসত এবং কলেজ শেষে একসাথে বাসায় ফিরত।

IMG_20210527_012922.jpg

নীলার থেকে একবছরের বড় এক মামাতো বোন আছে। নীলা যখন উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তখন, একদিন তার মামাতো-বোন তাদের বাসায় বেড়াতে আসে। রাতের খাবার শেষে তার মামাতোবোন তার রুমে ঘুমাতে গেলে, সে তার মামাতো-বোনের যাথে গল্প করা শুরু করে। গল্প করতে হঠাৎ তার মামাতো-বোন তার এডমিশন সময়ে হোস্টেলে বান্ধবীদের সাথে কাটানো কিছু স্মরণীয় মুহূর্তগুলো নীলার সাথে শেয়ার করে। যেমনঃ বৃষ্টির কারনে রাতেরবেলা কারেন্ট চলে গেলে তারা সব বান্ধবী বারান্দায় গিয়ে জানলা দিয়া বাইরে হাতগুলো বের করে, বৃষ্টিতে তাদের হাতগুলো ভেজাতো, অন্ধকারে বৃষ্টি পড়া অনুভব করত এবং সবাই মিলে গল্প করত বা মাঝে মাঝে একসুরে সবাই মিলে গানের তাল ধরত। রাত জেগে পড়তে হতো বলে, রান্নাঘরে যদি কেউ চা বানাতে যেত, তাহলে সে সব বান্ধবীদের জন্য চা বানাতো এবং চা খেতে খেতে কারোও কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকলে তারা আলোচনা করে তা সমাধান করে ফেলত...।

নীলা তার মামাতো-বোন থেকে হোস্টেল জীবনের ঘটনাগুলো শুনে সে অনেক রোমাঞ্চিত হল এবং তারও উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষা শেষ করে, নীলা, তার বান্ধবী সানজিদার সাথে একই হোস্টেলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখল। কিন্তু করোনা পেন্ডেমিকের কারনে এডমিশন কোচিং দূরের কথা উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষাই নেয়া সম্ভব হয়নি।

একদিন নীলার মা নীলাকে বলল, "আমি একটা জরুরি কাজে তোমার নানু বাড়ি যাচ্ছি। আজ মনে হয় আর আসতে পারব না। ফিরতে ফিরতে কাল সকাল হবে। সব রান্না করে দিয়ে যাচ্ছি, খাবার সময়মতো গরম করে খেয়ে নিয়ো।"

তার মা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘরের মোবাইলে একটি কল বেজে উঠল। মোবাইল রিসিভ করতে গিয়ে দেখে তার বান্ধবী সানজিদার কল। কল রিসিভ করার পর সানজিদা বলল, "আমার বাবা-মা জরুরি কাজে একজায়গায় চলে গেছে। আজ আর বাসায় আসবে না। রাতে আমার একা থাকতে ভয় করে। তোর কোনো সমস্যা না হলে আমি তদের বাসায় চলে আসি?

নীলা বলল, " আমার আবার কিসের সমস্যা! আমার মাও আজকে নানুবাড়ি চলে গেছে। একা একা আমার ও ভালো লাগছে না। চলে আয় তারাতাড়ি।

তারপর সানজিদা তাদের বাসায় আসলে বিকালবেলা তারা দুজন বিভিম্ন জায়গায় ঘুরতে যায় এবং বাসায় ফিরার পর সন্ধ্যায় প্রচুর বৃষ্টি নামলে নীলা তার মামাতো-বোনের হোস্টেল কথাগুলো মনে করে, তারা বারিন্দায় গিয়া দুজনে জানালা দিয়ে বাইরে হাত গুলো ভিজিয়ে দুজনে গল্প করা শুরু করে।

হঠাৎ নীলার মা নীলাকে ডাকা শুরু করল এবং নীলার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম ভেঙে সে তার মাকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করল, "তুমি নানু বাড়ি থেকে কখন এলে?"

প্রতিউওরে তার মা বলল, " আমি তর নানু বাড়ি যাব কেন? "

তারপর নীলা বুঝতে পারল যে সে স্বপ্ন দেখতেছিল। যাইহোক বাস্তবে হোস্টেলের স্বপ্ন পূরণ না হোক, কল্পনাতে ত পূরণ হয়েছে এটাই অনেক।

বাস্তবে পূরণ না হলেও কল্পনাতেই হোক মন্দ কিসের! | Ecency