রহস্যময় একটি তেঁতুল-গাছ...!

Words
626
Reading
3 min
5y
আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর পূর্বে, বাবুল মিয়া নামে একজনলোক পরিবার নিয়ে শিমড়াইল নামক একটি গ্রামে বসবাস করত। তার পরিবারে তার স্ত্রী, চার ছেলে এবং তিন মেয়ে ছিল। ছেলেমেয়েদের মধ্যে পারভীন সবার বড় ছিল।গ্রামটিতে ঘর-বাড়ি অনেক কম ছিল। তার বাড়ির আশেপাশে তেমন কোনো ঘর-বাড়ি ছিল না। সেখানে সন্ধ্যা হলেই মনে হতো যেন গভীর রাত হয়ে গেছে। কারন দিনেরবেলায় কিছু মানুষ দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর কোনো মানুষের শব্দও শুনতে পাওয়া যেত না। বাবুল মিয়ার ঘরের পাশে পুকুর পাড়ের মধ্যে একটি বিশাল বড় তেঁতুল-গাছ ছিল। পারভীন সন্ধ্যার পর কুপি জ্বালিয়ে পড়তে বসে যেত। সে যেখানে পড়তে বসত সেই রুমের জানালার পাশ থেকেই সে তেঁতুল-গাছটি দেখা যেত। তার ছোট দুইবোন পড়ালেখার প্রতি বেশি মনোযোগী ছিল। কিছুক্ষণ পড়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ত। রাত দশটার মধ্যে তার ঘরের সবাই ঘুমিয়ে পড়ত। কিন্তু সে একা কুপি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত পড়তে থাকত।

tamarind-502259_1280.jpg
Image source
গভীর রাতে চারদিকে যখন নিস্তব্ধতা এবং পুকুর পাড় থেকে কিছু ব্যাঙের ডাক শুনা যাচ্ছিল ঠিক তখন তার টিনে ঘরের চালের মধ্যে তেঁতুলগাছটি থেকে কিছু ঢিলের আওয়াজ হতো ,মনে হতো যেত সেই তেঁতুলগাছ থেকে কেউ বসে যেন চালের মধ্যে কিছু ফেলছে। ঠিক সেসময় জানাল পাশে কারও একজনের পায়ের আওয়াজ পেত এবং মনে হত কেউ যেন কলসি নিয়ে হেঁটে হেঁটে পুকুর থেকে কলসি দিয়ে পানি তোলছে। এরকম শব্দ সে প্রায়ই পেত। কিন্তু সে তার বাবাকে তা বলতে গেলে তিনি তা বিশ্বাস করতে চাইতেন না।

তিনি বলতেনঃ আমার জন্ম এ গ্রামে এ বাড়িতে আমি আজ পর্যন্ত এমন কিছু দেখতে পাইনি। ফজরের সময় নামাজ পড়তে উঠি, কই কখনো ত এমন কিছু দেখলাম না।

সেজন্য তিনি এসব জ্বীন-পরী বা আধ্যাত্মিক শক্তি যে ঐ তেঁতুলগাছে আছে তা বিশ্বাস করতে চাইতেন না। কিন্তু গ্রামের বিভিন্নমানুষ বিভিন্ন সময় ঐ তেঁতুলগাছে বিভিন্ন জিনিস দেখেছে।

পারভীন প্রায়ই এমন শব্দ শুনতে পেত। কিন্তু ঘরে বলে লাভ নাই দেখে সে আর বলত না।

একরাতে বাবুল মিয়ার বড় ছেলের পেট-চাপ দিল। সে চাঁদনী রাতে একা একা কুপি নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে লাগল। ওয়াশরুমটা ছিল তেঁতুলগাছটার নিচে। ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে তেঁতুগাছটার দিকে চোখ পরতেই সে দেখতে পেল সাদা কাপড় পরা একজন চোখের পলকে তেঁতুলগাছের নিচ থেকে সোজা তেঁতুলগাছের উপরে গিয়ে মিশে গেল। এটা দেখতে পেয়ে সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ঘরের ভিতরে গিয়ে চুপ করে ঘুমিয়ে পরল। পরেরদিন সকালে সে তার বড় বোন পারভীনকে গিয়ে এ কথা বলল। পারভীন, তার ভাইয়ের কথার সত্যতা বুঝতে পেল এবং তাকে রাতের বেলা একা একা ঘর থেকে বের হতে না করল এবং বললঃ রাতের বেলা যদি বেশি দরকার লাগে তাহলে আমাকে ডাক দিবি, আমি ত সজাগই থাকি।

কিছুদিনপর বাবুল মিয়া ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠে অযু করার জন্য বের হয়, সে মনে করেছিল, আযান দিয়ে দিয়েছে কিন্তু তখনও ফজরের আযান দেয় নি। ঘর থেকে বের হয়ে সে হাটতে হাটতে তেঁতুলগাছটির দিকে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় তার স্ত্রীর ঘুম ভেঙে দেখে যে বাবুল মিয়া ঘরে নেই, সে সাথে সাথে কুপি জ্বালিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখে, বাবুল মিয়া তেঁতুলগাছটি পেড়িয়ে, আর মাত্র দু,কদম দিলে পুকুরে পরে যেত। ঠিক সেই সময় তার স্ত্রী পিছে থেকে তাকে ডাক দেয় এবং সে দাঁড়িয়ে যায়। নয়ত আর একটু হলে সে পুকুরে পরে যেত এবং তাকে একা পেয়ে তেঁতুলগাছের জ্বীন তাকে মেরে ফেলত।

এর কয়েকবছর পর তাদের বাড়িতে একটা কাজের মহিলা আসল, সাথে তিন বছরের ছোট্ট একটি বাচ্চা নিয়ে। প্রথমদিন ঠিক দুপুরে সেই কাজের মেয়েটি এসেছিল। কাজের মেয়েটি বাবুল মিয়ার স্ত্রীর সাথে কথা বলতেছিল ঠিক সেই সময় ছোট্ট ছেলেটি হাটতে হাটতে তেঁতুলগাছটির দিকে যাচ্ছিল কিন্তু কথা বলার মাঝে সেই কাজের মহিলাটির খেয়াল ছিল না, হঠাৎ সে দেখল তার পাশে তার ছেলে নেই। সে তার ছেলেকে পাগলের মতো খুজতে লাগল। কিছুক্ষণ পর তেঁতুলগাছটির পাশে পুকুর পাড়ে সে ছোট্ট ছেলেটির লাশ ভেসে উঠল। তারপর সে মহিলাটি কাদতে কাদতে তার ছেলের লাশ নিয়ে এ বাড়ি থেকে চলে গেল। এ তেঁতুলগাছটির ডাল কাটার জন্য একবার একজন লোক কুড়াল নিয়ে এসেছিল। কিন্তু একটি মাত্র ডাল কাটার পর সে রাতে তার প্রচুর জ্বর উঠল এবং তিনদিন পর সে লোকটি মারা গেল। এরকম আরও অনেক রহস্যময় ঘটনা আছে এ গাছটিকে নিয়ে।

রহস্যময় একটি তেঁতুল-গাছ...! | Ecency