গতকাল রাতে হয়ে গেল চ্যাম্পিয়ন্স লীগের অন্যতম একটি ম্যাচ। বুন্দেসলীগার টিম বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে পরাজিত হয়ে লীগ থেকে বিদায় নিল লা লীগার অন্যতম টিম বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন লীগের ইতিহাসে নক আউট ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল খাওয়া দল এখন বার্সেলোনা। বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য হতাশা ও লজ্জার একটি রাত ছিল গতকাল।
আমি ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফুটবল দেখা শুরু করলেও পুরোদমে ফুটবল দেখা শুরু করি ২০১০ সাল থেকে। জাতীয় পর্যায়ে ব্রাজিলের সমর্থক হলেও ক্লাব পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদ কে পছন্দ করি। সে হিসেবে বার্সেলোনা আমার রাইভাল টিম। সো, রাইভাল টিমের এমন ন্যাক্কারজনক পরাজয়ে রাইভাল হিসেবে আমার মুখে তো হাসি ফুটবেই।
সে যায় হোক, আমাদের দেশে বিশ্বকাপ আসলে ফুটবল নিয়ে যে উন্মাদনা দেখা যায়, ক্লাব ফুটবলের ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যায় না। এর কারণ হলো বিশ্বকাপ ৪ বছর পর পর আসে, কিন্তু ক্লাব ফুটবল তো সারাবছরই চলে।
ক্লাব ফুটবলে আবার আলাদা আলাদা লীগ আছে। একেক অঞ্চলে একটা। স্পেনে লা লীগা, ইংল্যান্ডে ইপিএল, জার্মানিতে বুন্দেসলীগা, ফ্রান্সের লীগ ওয়ান, ইতালিতে সিরিয়া সহ প্রায় সব অঞ্চলেই আলাদা আলাদা লীগ হয়। তো সেই লীগগুলার দলগুলা আবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এসে পরষ্পরের মুখোমুখী হয়। তো গতকাল রাতে এমনই এক ম্যাচে জার্মান টিম বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে বাজে ভাবে হেরেছে স্পেনিশ লীগের বার্সেলোনা।
বিশ্বের নানা অঞ্চলে এত এত লীগ থাকলেও আমাদের দেশে সবচেয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো স্পেনিশ লীগ লা লীগা। পৃথিবীর প্রায় বেশিরভাগ জনপ্রিয় খেলোয়াড়েরাই এখানে খেলে থাকেন। তার উপর লাস্ট ১০ বছর মেসি ভার্সাস ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যে দৈরথ, তা তো একমাত্র লা লীগাতেই উপভোগ করা সম্ভব ছিল।
যদিও গতবছর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যোগ দেন ইতালির জুভেন্টাস ক্লাবে। এত বছরের প্রিয় রোনালদোকে বিদায় জানানোর মতো কষ্টের মুহুর্ত হয়তো মাদ্রিদ ভক্তদের জন্য আর কখনো আসবে না। একজন মাদ্রিদ ভক্ত হিসেবে আমার জন্যেও বিষয়টা খুব কষ্টের ছিল। রোনালদো চলে যাওয়ার পর বেশ কিছুদিন পর্যন্ত ফুটবল থেকেই আমার মন উঠে গিয়েছিল। যদিও এখন আবার আগের মতোই ফুটবল উন্মাদনায় দিন দিন মেতে উঠছি।
রোনালদো চলে যাওয়ার পর লা লীগায় মেসি-রোনালদোর যুদ্ধ যেমন ক্লিশে হয়ে গিয়েছে, ঠিক তেমনই বার্সা-মাদ্রিদের যুদ্ধেও কিছুটা ছাড়া ভাব এসে গিয়েছে। রোনালদো যাবার প্রভাব মাদ্রিদে খুব ভালো ভাবেই পড়েছে। তবে এতকিছুর মাঝেও এই সিজনে রিয়াল মাদ্রিদ লীগ শিরোপা জয় করে নিয়েছে। তবে চ্যাম্পিয়ন লীগে কোনো সুবিধা করতে পারে নি এবার।
অন্যদিকে মেসির মতো বিশ্বসেরা প্লেয়ার বার্সেলোনায় থাকার পরেও পুরো সিজনে খুব একটা সুবিধা করতে পারে নি বার্সেলোনা। লা লীগায় হতাশাজনক পারফরমেন্স এর পর গতরাতে এত বড় পরাজয়ের পর ট্রফিলেস সিজন কাটাতে যাচ্ছে তারা। সবমিলিয়ে বার্সা ও তার সমর্থকদের জন্য বাজে সিজনই বলা যায় এটা।
এবার লা লীগার কথা বাদ দিয়ে বলা যাক। লা লীগা ছাড়া আমাদের দেশের আরো একটি জনপ্রিয় লীগ হলো ইপিএল বা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ। ইংল্যান্ড এর সেরা সেরা দলগুলো এখানে খেলে থাকে। আমার প্রিয় ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও একসময় এই ইপিএলে ম্যানচেন্টারের লাল জার্সি গায়ে খেলেছিল। তবে তখন আমি ক্লাব ফুটবলের নিয়মিত দর্শক ছিলাম না বলে তার খেলা দেখা হতো না। আমার তখন ধারনাই ছিল না যে পর্তুগালের মতো অখ্যাত এক দেশের খেলোয়াড় হয়ে ইপিএল জয় করে একসময় লা লীগায় এসে বিশ্ব জয় করবে এই লোকটি।
লালীগা ইপিএল ছাড়া অন্যান্য লীগের খেলাগুলো এতকাল আমাদের দেশের তেমন কেউ পাত্তা না দিলেও ব্রাজিলিয়ান প্রিন্স নেইমার ও পর্তুগালের রাজপুত্র রোনালদো লীগ ওয়ান ও সিরিআ তে যোগ দেয়ার পর এদেশে কিছুটা হলেও সেখানকার সমর্থক দেখা যাচ্ছে, তবে তা নামমাত্র সমর্থক। আদতে লা লীগা এদেশে যতটা জনপ্রিয়, অন্য কোনো লীগ এতটা জনপ্রিয় হতে পারে নি। সে হিসেবে বুন্দেসলীগার একটা টিম এসে লালীগার একটা টিমকে এত ভয়ংকর ভাবে হারিয়ে দিতে পারে, তা চিন্তা করা আমাদের জন্য কিছুটা লজ্জাজনকও বটে।
তবে দিনশেষে এটা একটা খেলা। যেকোনো সময় যেকোনো কিছুই হতে পারে। ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা দলও বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল।