হাইভ ও বিডিকমিউনিটিতে দুই বছর...

Words
627
Reading
3 min
Listen
Play
4y

img_0.5053386930708905

হাইভ জার্নির দুই বছর পূর্ণ হল আজ। পাশাপাশি বিডিকমিউনিটিতে জয়েন করারও দুই বছর পূর্ণ হল। ২০২০ সালের এই দিনে হুট করে কোনো পূর্ন ধারনা ছাড়াই হুসাইন ভাইয়ের মাধ্যমে হাইভের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। সেই থেকে শুরু। গত প্রায় ২ বছর ধরে বিডিকমিউনিটির সাথেই আছি। অবশ্য ২০২০-২১ এর মাঝখানের কিছু মাস হাইভ থেকে দূরেই ছিলাম। কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও নিয়মিত লেখা শুরু করি, এবং এখন পর্যন্ত তা চলমান আছে।

লেখালেখি কখনোই আমার পেশা ছিল না। শুধুমাত্র শখের বশে একটা সময় ব্লগে লিখতাম। বিশেষ করে ২০১৩ সালের দিকে নিয়মিত ব্লগে লেখালেখি শুরু করেছিলাম। সেসময়টা পর্যন্ত বাংলাদেশে ব্লগিং খুব জনপ্রিয় একটা প্লার্টফর্ম ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের পর থেকে হুট করে ব্লগিং প্লার্টফর্মের চেয়ে ফেসবুকই লেখালেখির জন্য জনপ্রিয় একটা প্লার্টফর্ম হিসেবে গড়ে উঠল। এরপর থেকে মাঝে মাঝে টুকটাক ফেসবুকেই নিজের চিন্তা ভাবনা শেয়ার করতাম।

২০২০ সালের দিকে হুসাইন ভাইয়ের সাথে কোনো একটা বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলার সময় একদিন উনি হাইভের কথা জানালেন। বললেন, লেখালেখি যেহেতু করাই হচ্ছে, সেহেতু শুধুমাত্র ফেসবুকে লেখালেখি করে লাভ কী? তারচেয়ে বরং এই সময়টা হাইভে কাটালে ভাল হবে। ফেসবুকে সময় কাটানো মানে সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।

img_0.3935554467348902

সেই থেকে শুরু। এরপর থেকে হাইভে সময় কাটানো শুরু করলাম। পৃথিবীর নানা প্রান্তের নানা মানুষের লেখা পড়তে শুরু করলাম। সবার লেখার কোয়ালিটি দেখে অবাক হতাম। আমার লেখা অবশ্য তেমন একটা ভাল না। তার উপর ইংরেজীতে আমি একেবারেই দূর্বল। ফলে অল্প সময়েই বুঝতে পেরেছিলাম হাইভে আমার ভাল কিছু করা সম্ভব না।

তবে যেহেতু লেখালেখি আমার পেশা না, নিতান্তই শখের বশে টুকটাক লেখালেখি করি, তাই নিয়মিত লিখে যেতে থাকলাম। এখান থেকে ভাল কিছু না হলেও আমার হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ আমি তো লাভের জন্য লিখি না। শুধুমাত্র মনের শান্তির জন্য লিখি। এভাবে লিখে যেতে যেতে একটা সময় পর বিডিকমিউনিটি থেকে সাপোর্ট পাওয়া শুরু করি। এইটা আমার জন্য বিশাল এক পাওয়া।

এর আগে অবশ্য মাঝে মাঝে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় লিখে সম্মানি পেয়েছিলাম। প্রথম যেদিন একটা বইয়ে হরর ফিকশন লিখে সম্মানি পেয়েছিলাম, সেদিন আমার আনন্দ আর ধরে রাখার মতো ছিল না। তবে এরকম আনন্দ কালে ভাদ্রে হুট হাট মাঝে মাঝে পেতাম। কিন্তু হাইভে এসে এই আনন্দটা আমি প্রতিদিনই পাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া সম্ভবত এটাই। কারণ নিজের শখের বিনিময়ে কিছুটা হলেও সম্মান পাচ্ছি আমি। যেটা এখন বাংলাদেশের বেশিরভাগ লেখকই পান না।

img_0.5404705460042849

এর মানে এই না যে আমি নিজেকে লেখক হিসেবে ভাবছি। আগেই তো বলেছি, আমি শুধুমাত্র নিজের শখের বশে, নিজের মনের ক্ষুধা নিবারনের জন্যই টুকটাক লিখি। একটা সময় অবশ্য বিভিন্ন ধরনের ইতিহাস কিংবা নতুন নতুন জানা অজানা বিষয় নিয়ে লিখতাম। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প, ফিকশনও লিখতাম। কিন্তু এখন ব্যাপারটা একেবারেই চেইঞ্জ হয়ে গেছে।

এখন আর আগের মতো গল্প বা ফিকশন লেখা হয় না। বেশ কয়েকবার লেখার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু নিজের মনমতো হয় না। সেরকম লিখতেও পারি না। তবে নিজের প্রতিদিনের গল্প, কাহিনীগুলো ঠিকই লেখার সুযোগ পাচ্ছি। সত্যি বলতে কী, হাইভ ও বিডিকমিউনিটির প্লার্টফর্ম আমার একটা পার্সোনাল ডায়েরি হিসেবে কাজ করছে। যেখানে আমি প্রতিদিনকার নিজের গল্প, অনুভূতি, ভালবাসা, সুখ কিংবা দুঃখগুলো লিখতে পারছি। অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারছি। মাঝে মাঝে অনেকে সেগুলোতে কমেন্ট করেন। তাদের কমেন্ট দেখেও ভাল লাগে আমার।

লেখালেখির পাশাপাশি মাঝে মাঝে টুকটাক ছবি তোলারও বাতিক আছে আমার। যেহেতু ঘুরাঘুরি আমার প্রিয় শখ, তাই কোথাও গেলে সেখানকার স্মৃতিগুলো মোবাইলের ক্যামেরায় তুলে ধরে রাখার চেষ্টা করি আমি। হাইভের কল্যাণে সেই ছবিগুলোও সকলের সাথে শেয়ার করার সুযোগ পেয়েছি আমি।

গত প্রায় দুই বছর ধরে হাইভে লেখালেখি করে অবশ্য আরো একটা সুবিধা হয়েছে আমার। যেহেতু আমি আমার নিজের প্রতিদিনকার গল্পগুলো লিখে যাচ্ছি, তাই মাঝে মাঝে মন খারাপ থাকলে আমি আমার পুরানো লেখাগুলো পড়ি। এতে যা হয়, তা হল যে আমার মন ভাল হয়ে যায়। পুরানো স্মৃতিগুলো হাতরিয়ে সুখের মুহুর্তগুলো নিয়ে নিজেকে আনন্দিত করার চেষ্টা করি, এবং সফলও হই।

সত্যি বলতে কী, হাইভ ও বিডি কমিউনিটি প্লার্টফর্ম আমার জীবনকে অনেকাংশেই চেইঞ্জ করে দিয়েছে। যদি সুযোগ থাকে, আমি আজীবন এখানে থেকে চাই। যেন আজ থেকে অনেক বছর পর হলেও হাইভে নিজের লেখা পুরানো পোস্টগুলো পড়ে স্মৃতিতে সাঁতার কাটতে পারি।

হাইভ ও বিডিকমিউনিটিতে দুই বছর... | Ecency