সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স এর সাথে পথচলা শুরু...

Words
684
Reading
4 min
Listen
Play
4y

img_0.38160317059541327.jpg

উন্নত দেশগুলোতে বীমা একপ্রকার বাধ্যতামূলক হলেও কোনো এক অদ্ভুত কারণে বাংলাদেশে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো তেমন একটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে নি। এর দায় অবশ্য বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নিতে হবে। তারা গণমানুষের কাছে গিয়ে তাদেরকে বীমার প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে পারে নি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাম তো আছেই, যার কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর উপর থেকে মানুষের আস্থা ও ভরসা অনেক আগেই উঠে গিয়েছে।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বীমা ব্যাবস্থা এক প্রকার বাধ্যতামূলক। কারণ মানুষের জীবন যেমন সত্য, ঠিক তেমনি ঝুঁকিও সত্য। জীবনের যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থাতেই মানুষ বিপদের মুখোমুখী হতে পারে। তা সেটা অসুস্থ হোক বা এক্সিডেন্ট অথবা মৃত্যু। তো এসব বিপদের সময় মানুষকে আর্থিকভাবে সহায়তা করাই মূলত একটি আদর্শ বীমা কোম্পানির কাজ। অবশ্য বীমা কোম্পানিগুলো এইসব আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণগুলো একেবারেই ফ্রি তে করে না। এই সেবা পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্টি পরিমান প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হবে। এই প্রিমিয়ামের পরিমানটা অনেক কম। কিন্তু এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের যে কোনো বিপদে আর্থিক ক্ষতির আশংকা থেকে নিজেকে নির্ভার রাখা যায়।

img_0.6426149003297069.jpg

উন্নত দেশগুলোতে একটি শিশুর জন্মের সাতজে সাথেই তার জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি শিক্ষা বীমা, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়বীমা তো আছেই। এই বীমাগুলো ভবিষ্যতের যে কোনো সময় মানুষের উপকারে কাছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের রোগের চিকিৎসায় বীমা কোম্পানিগুলো থেকে বেশ ভাল পরিমানেই এরা সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষ করে আমেরিকায় স্বাস্থ্য বীমা না থাকাটা তো অপরাধের পর্যায়েই পড়ে। বীমা না থাকলে সেখানকার হাসপাতালগুলোতে আপনি সেবা পাবেন না।

বাংলাদেশে এমুহুর্তে বীমা কোম্পানির সংখ্যা আছে প্রায় পঞ্চাশটির মতো। এর মাঝে মাত্র একটি সরকারি, আর বাকিগুলো বেসরকারি। কিছু কিছু বেসরকারী বীমা কোম্পানি প্রায় কয়েক দশক ধরে এদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। তবে বেশ কিছু অনিয়মের জন্য তারা জনগনের কাছে এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে নি।

img_0.7637519357700481.jpg

বীমা কোম্পানির প্রতি ভরসা এদেশের সাধারণ মানুষের তেমন একটা নেই। তাই জীবন বীমা, শিক্ষা বীমার মতো প্রজেক্টগুলো কখনোই তেমন একটা আলোর মুখ দেখে নি। তবে যারা ব্যাবসায়ী, তারা কিন্তু তাদের ব্যাবসায় এর ক্ষেত্রে ঠিকই এসব বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সেবা নেয়। কেননা ব্যাবসার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে অনেক। আর এই ঝুঁকি মোকাবেলার জন্যই মূলত বীমা কোম্পানির সহায়তার প্রয়োজন পড়ে।

আমি যখন গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করেছি, তখন বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানির সাথে আমার ভাল যোগাযোগ ছিল। শিপমেন্ট এর সময় বীমা কোম্পানির কাছ থেকে নির্দিষ্টি প্রিমিয়ামের মাধ্যমে বীমা সেবা নিতে হতো আমাদের কোম্পানির। সে কাজগুলো করার সময় বাংলাদেশের বীমা সেক্টর সম্পর্কে অল্প অল্প জানাশোনা হয়েছিল আমার।

যায় হোক, আমি তো টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস সেক্টর ছেড়ে চলে এসেছি আজ প্রায় ৫ মাস হল। এই সময়ে নতুন করে কোথাও জয়েন করা হয় নি। এই সময়টুকুর মাঝেই ব্যাক্তিগত জীবনে আমার অনেক পরিবর্তনও হয়েছে। তাই বেশ কিছুদিন ধরে নতুন কোথাও জয়েন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। তবে সত্যি কথা বলতে, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির প্রতি নতুন করে আমার কোনো আগ্রহই ছিল না। তাই এই সেক্টরটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছিলাম।

img_0.05930085589305189.jpg

আশার কথা হল কিছুদিন আগে আমি সোনালি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি থেকে তাদের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে চাকরির অফার পাই। যদিও বীমা কোম্পানি সম্পর্কে আমার মনে বেশ কিছু নেগেটিভ ধারনা আছে। তাই তাদের অফার পাওয়ার পর তাদের সাথে আমি এ বিষয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলাপ আলোচনা করেছিলাম। তারা অনেক সুন্দর করেই আমার মনে জমে থাকা নেগেটিভ চিন্তাগুলোর সুন্দর উত্তর প্রদান করেছিল। তাদের উত্তরে আমি সন্তুষ্ট হওয়ায় তাদের অফসে জয়েন করার আমন্ত্রন উপেক্ষা করতে পারি নি।

তবে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ার আরেকটা কারণ হল আমাকে তারা কুমিল্লা ব্রাঞ্চে জয়েন করার জন্য বলেছে, যেটা আমার জন্য অনেক উত্তম একটা প্রস্তাব। কারণ এই সময়ে পরিবার থেকে দূরে থাকার কোনো ইচ্ছেই আমার ছিল না। তাই এমন একটি প্রস্তাব পেয়ে সেটা ফিরিয়ে দেয়ার মতো কোনো ইচ্ছেই হচ্ছিল না আমার।

img_0.50191851593421.jpg

বীমা সম্পর্কে আমার টুকটাক ধারনা থাকলেও এই ধারনা নিয়ে কোনো চাকরি করা আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, যদি চাকরিটা আসলেই হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আগামী ৩ মাস প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করা হবে আমার। আমিও মোটামুটি সেজন্য নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছি। সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে আগামী মাস থেকেই এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে আমার।

আমি জানি না, নতুন এই সেক্টরে আমি কতটুকু সফল হতে পারবো। তবে নিজের প্রতি আমার পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে। যে আত্মবিশ্বাসের জের ধরে গত তিন বছর ধরে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে কিছুটা হলেও সফল হতে পেরেছি, আশা করি সেই আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমেই নতুন এক সেক্টরে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভাল কিছু করতে পারবো।

Image Source : Pixabay & Sonali Life Insurance Ltd.
Thanks For your Support.

সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স এর সাথে পথচলা শুরু... | Ecency