কঠোর লকডাউনের আগে শেষ অফিস যাত্রা!

Words
406
Reading
2 min
Listen
Play
5y

সীমিত লকডাউনের আজকে শেষদিন। প্রজ্ঞাপন অনুসারে আগামীকাল থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হবে। সে হিসেবে ঢাকার রাস্তায় আজকেই গণপরিবহনের শেষ দিন। আগামীকাল থেকে পুরো ঢাকার রাস্তা একদম ফাঁকা হয়ে যাবে।

কাল থেকে আমাদের অফিস বন্ধ হলেও ফ্যাক্টরি চালু থাকবে। ফলে আজ সকালে বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে গাজীপুরের ফ্যাক্টরি যেতে হয়েছে। লকডাউনের আগে ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ডিরেক্ট বাস পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভেঙ্গে ভেঙ্গেই যেতে হয়েছে।

img_0.14511866382269195.jpg

বারিধারা থেকে বিআরটিসির দ্বিতল বাসে উঠেছিলাম। ঢাকার রাস্তায় এই বাসগুলোকে আমার খুব ভাল লাগে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ফাঁকা রাস্তায় বাসের দুইতলায় বসে যে অনুভূতি পাওয়া যায়, তার সাথে তুলনা করার মতো আমি আর কিছু পাই না।

অবশ্য দিনের বেলায়ও খারাপ লাগে না। তার উপর সীমিত লকডাউনের কারণে ঢাকার রাস্তাঘাট মোটামুটি ফাঁকা হয়ে আছে। তাই খুব বেশি সময় লাগে নি বারিধারা আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত আসতে।

img_0.8797137889929403.jpg

কিন্তু আব্দুল্লাহপুর আসার পর পুরো চিত্র যেন একেবারেই পালটে গেল। যেখানে পুরো ঢাকার রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, সেখানে ঢাকার শেষ প্রান্তে যেন মানুষের মেলা বসেছে। রাস্তার দুইপাশে মানুষ আর মানুষ। হাতে ব্যাগ আর সাথে পরিবার পরিজন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ গ্রামের বাড়ি ফিরে যাবার জন্য বাসের অপেক্ষায় বসে আছে। কিন্তু সীমিত লকডাউনের কারণে রাস্তায় বাসের সংখ্যা খুবই কম। ফলে বাসের বিকল্প হিসেবে ট্রাক, পিকাপ, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি দিয়ে যে যেভাবে পারছে, ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছে।

img_0.9400739090258527.jpg

আব্দুল্লাহপুরে আমাদের ফ্যাক্টরির গাড়ি অপেক্ষমাণ থাকায় আমার গাড়ি পেতে তেমন সমস্যা হয় নি। তবে আমি দেখেছি একটা বাসে উঠার জন্য কিভাবে কয়েকশো মানুষ একসাথে ছোটাছুটি করছে। মনে হচ্ছিল যেন আগামীকাল ঢাকা ভয়াবহ কোনো দুর্যোগে ধ্বংস হয়ে যাবে কিংবা যুদ্ধে শত্রুপক্ষ হামলা করবে। তাই নিজের কিংবা পরিবারের জীবন হাতে নিয়ে যেভাবেই হোক, ঢাকা ছেড়ে পালাতে চাচ্ছে সবাই।

img_0.37818480793895987.jpg

ঢাকার ভেতর আজ কোনো জ্যাম না পেলেও ঢাকার বাইরে ভালই জ্যাম পেলাম। গুগল ম্যাপে আব্দুল্লাহপুর থেকে আমাদের ফ্যাক্টরির এরিয়া যাওয়ার সময় ১ ঘন্টা দেখালেও আমার পৌছতে প্রায় দুই ঘন্টার মতো লেগেছে। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম হলেও মানুষ, পিকাপ ভ্যান কিংবা ট্রাকের সংখ্যা মোটেও কম না। তার উপর রাস্তার কিছু কিছু অংশে কাজ চলার কারণে জ্যাম আরো অনেক বেড়ে গিয়েছে। একে তো তীব্র গরম তার উপর এই জ্যাম, দুইটা মলে এই রাস্তার প্রতিটা মানুষের অবস্থা ভালই খারাপ করে দিয়েছে। তবুও শেষ পর্যন্ত যে সুস্থ ভাবে ফ্যাক্টরি পৌছতে পেরেছি, সেইটাই অনেক।

img_0.1670605571442257.jpg

যায় হোক, আগামীকাল একই সাথে পহেলা বৈশাখ, পবিত্র রমজান এবং কঠোর লকডাউন শুরু হবে সারা দেশজুড়ে। সবাই সাবধানে থাকবেন, মাস্ক পরবেন, এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভাল থাকবেন। বর্তমান পেন্ডামিক সিচুয়েশনে নিজেকে ও নিজের পরবারকে সুস্থ রাখার জন্য নিজেকে ভাল রাখবেন। অপ্রয়োজনে বাইরে বের হবেন না। জরুরী প্রয়োজনে বের হতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

কঠোর লকডাউনের আগে শেষ অফিস যাত্রা! | Ecency