পরিবার নিয়ে পরিবারের সাথে...

Words
575
Reading
3 min
Listen
Play
5y

img_0.020413001581086387.jpg

পরিবারের সবাইকে নিয়ে তেমন একটা ঘুরাঘুরির সুযোগ হয় না। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। একসাথে সবাই মিলে যে কোথাও ঘুরতে যাবো বা বাড়ির বাইরে কিছুটা সময় কাটাবো, সেই সুযোগ হয় না। তবে সুযোগ করে নিতে হয়। আজ যেহেতু শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, তাই একটু চেষ্টা করলাম সেই সুযোগটা তৈরি করে নেয়ার। যদিও পরিবারের সবাইকে একসাথে পাই নি।

আমাদের পরিবারের সদস্য এখন অনেক বেশি। সব মিলিয়ে ৮ জন। বাবা বেঁচে থাকলে ৯ জন হতো। যায় হোক, এই ৮ জনের সদস্য নিয়েই আমাদের পরিবারটা খুব সুন্দর ভাবে টিকে আছে এখনো। যদিও একেক জন একেক জায়গায় এখন।

আজ দুপুরে খাবারের সময় হুট করে প্ল্যান করলাম কোথাও ঘুরে আসা যাক। কিন্তু কুমিল্লায় পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। কুমিল্লার ভেতরে এক ধর্মসাগর পার্ক আছে, যেটার কথা আমি বেশ কয়েকদিন আগে বলেছিলাম। মাকে সাথে নিয়ে কখনো ধর্মসাগরে যাওয়া হয় নি। আজ আবার আমাদের বাসায় দুইজন মেহমানও আছেন। একজন আমার নানু, অন্যজন আমার মায়ের ছোট বোন, অর্থাৎ আমার খালা। তাই চিন্তা করলাম, উনারা যেহেতু আছেনই, তাই সবাই মিলে এই সুযোগে বিকেলে একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসা যাক। নানু অবশ্য কিছুটা অসুস্থ, তাই হাটাচলা করতে পারেন না। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও উনাকে আমাদের সাথে নেয়া সম্ভব হয় নি।

img_0.2093039191424074.jpg

বিকেলে আমি, আমার ওয়াইফ, বোন, মা ও খালা সবাই মিলে ধর্মসাগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমাদের বাড়ি থেকে ধর্মসাগর খুব বেশি একটা দূরে না। অটোতে করে গেলে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের মতো লাগে। অবশ্য পুরো কুমিল্লা শহরটাই অনেকে ছোট একটা শহর। শহরের যে কোনো এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে খুব বেশি একটা সময় লাগে না। তবে শহরটা ছোট হলেও শহরের জনসংখ্যা কিন্তু মোটেও কম না। বরং অনেক বেশি। কুমিল্লার আশেপাশের যত গ্রাম বা পৌরসভা আছে, সে সমস্ত এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ কুমিল্লা শহরে এসে ভীড় জমায়। বলে দিনকে দিন কুমিল্লার জনসংখ্যা বেড়েই চলছে। ফলে পরিবেশ দূষণ, জ্যাম বাড়ছে। আমি যখন প্রথম কুমিল্লায় আসি, অর্থাৎ ২০১০ সালে, তখনকার পরিবেশের সাথে বর্তমানের পরিবেশের আকাশ পাতাল তফাৎ। তবে হ্যা, এই ১ যুগে কুমিল্লার অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের ভেতরের বিভিন্ন দিকের রাস্তাঘাট।

img_0.7334892067597102.jpg

যায় হোক, শীতের শেষে বষন্তের আগমনী সময় প্রকৃতি এক অদ্ভুত সুন্দর রূপ ধারন করে। আজকে ধর্মসাগর যাওয়ার পর যেন প্রকৃতির সেই অদ্ভুত সুন্দর রূপটাই চোখে পড়ল। গাছের পাতা সব শুকিয়ে পড়ে আছে রাস্তায়। রাস্তায় পড়ে থাকা শুকনো মরা পাতাগুলোর দিকে তাকালে অবশ্য মনটাতে অদ্ভুত এক বিষন্নতা ভর করে।

শুক্রবারের মতো ছুটির দিনগুলোতে এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। তবে শুক্রবারটা কিছুটা হলেও আলাদা। কারণ এই দিনে বেশিরভাগ মানুষ তাদের পরিবারের সাথেই এখানে সময় কাটাতে আসে। পুরো সপ্তাহ অফিস কিংবা কাজের জন্য যারা পরিবারকে সময় দিতে পারে না, তারা এই একটা দিনে পরিবারকে সাথে নিয়ে একটু ভাল সময় কাটানোর জন্য ধর্ম সাগর পার্কে আসে।

img_0.4068949085191372.jpg

কয়েক বছর আগেও পার্কের ওদিকটা জঙ্গল হয়ে ছিল। তবে এখন নানা রকমের রাইড স্থাপন করা হয়েছে। ফলে পুরো পার্কটা এমুহুর্তে জমজমাট হয়ে থাকে সবসময়। ছোট ছোট বাচ্চাদের আনাগোনার কারণে এখানে আসলে মনটা ভাল হয়ে যায়। আর সাথে যদি পরিবারের সদস্যরা থাকে, তাহলে তো কথাই নেই।

আমরা বেশ কিছু রাইডে চড়েছিলাম।পাশাপাশি খাওয়া দাওয়া তো ছিলই। ফুচকা, পেয়ারা ভর্তা, ভেলপুরি, আইসক্রিম সহ আরো অনেক ধরনের খাবার খেয়েছিলাম। তবে সবচেয়ে ভাল লেগেছিল আইসক্রিমটা। যদিও আইসক্রিন খাওয়ার কারণে এখন গলা ঠান্ডা হয়ে বসে আছে।

img_0.3494269813617392.jpg

যায় হোক, সব মিলিয়ে বেশ ভাল সময় কেটেছে। বিশেষ করে পরিবারের সবাই সাথে থাকার কারণে ভাল লাগাটা আরো বেশি বেড়ে গিয়েছিল। অনেক দিন ধরে এভাবে সবাই একসাথে কোথাও যাই না আমরা। ফলে আজকের আনন্দটা কিছুটা হলেও বেশি ছিল।

এই সপ্তাহে মধুচন্দ্রিমা উৎযাপনের জন্য আমরা সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে যেতে পারি। ইতিমধ্যেই টিকেট কাটা হয়ে গিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমি আমার পরবর্তী গল্পটা আমাদের মধুচন্দ্রিমা নিয়ে লিখতে পারি। সে পর্যন্ত বিদায়...

পরিবার নিয়ে পরিবারের সাথে... | Ecency