ই
কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগর কন্যা। যেখানে সুর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুইটাই দেখা যায়। হাতে সময় থাকলে আরামসে একটা ট্যুর দিয়ে আসতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, ভুলেও কখনো সরকারি বন্ধের সময় যাবেন না।
(আমাদের লঞ্চ)
ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাবার উপায় দুইটা। প্রথমটা হল লঞ্চে, আর দ্বিতীয়টা বাসে। তবে বাসের চেয়ে লঞ্চ ভ্রমনটাই সবচেয়ে মজাদার। মাঝরাতে মাঝ নদীতে বসে নদী দেখার মতো মজা আর কিছুতে নেই।
(সদরঘাট)
লঞ্চে করে কুয়াকাটা দুইভাবে যাওয়া যায়। সদরঘাট থেকে সরাসরি পটুয়াখালি লঞ্চ ভাড়া ৩০০, তারপর ওখান থেকে কুয়াকাটা বাস ভাড়া ১৪০ টাকা। তবে পটুয়াখালির লঞ্চগুলা ছোট ছোট। সে তুলনায় বরিশালের লঞ্চগুলা অনেক বড়। সদরঘাট থেকে বরিশালের লঞ্চ ভাড়া ২০০ আর বরিশাল থেকে কুয়াকাটা ডিরেক্ট বাস ভাড়া ২৪০। যেভাবেই যান না কেন, খরচ আর সময় একই লাগবে। অবশ্য লঞ্চের কেবিন ভাড়া নিলে খরচটা আরেকটু বেশি পড়বে। সেক্ষেত্রে যাত্রার কিছুদিন আগেই কেবিন বুক করে রাখতে হবে।
অন্যান্য ট্যুরিস্ট স্পটের স্থানীয়দের মতো কুয়াকাটার স্থানীয়রা না। আমার কাছে খানিকটা রুড মনে হয়েছে। এরা দামাদামি করা পছন্দ করে না মে বি। হোটেলের রুম ভাড়া দুই হাজার চাইছে। নিলে নেন, না নিলে ভাগেন। তবে এই রুমগুলো কোন ভাবেই ৫-৬০০ টাকার বেশি নেয়ার কথা না।
সমুদ্র সৈকতে যাবার পর বাইকওয়ালারা আপনার পেছনে পেছনে ঘুরবে পুরা কুয়াকাটা ঘুরিয়ে দেখার জন্য। এদেরকে পাত্তা দিবেন না। এরা আপনাকে যেসব জায়গার কথা বলবে, সবগুলো আশেপাশেই আছে। আপনি হেঁটে হেঁটে আরামসে সবগুলো একটা একটা করে দেখে নিতে পারবেন। হুদাই টাকা নষ্ট করার কোন দরকার নাই। তবে ২৫০ টাকা দিয়ে ট্রলারে করে সমুদ্রের বুকে ৪ ঘন্টার জন্য ঘুরে বেড়াতে পারেন। এইটা সবচেয়ে বেশি ভালো হবে।
কুয়াকাটাতে দেখার মত শুধু এই সমুদ্র সৈকতই আছে। এটা ছাড়া ৩০০ বছরের পুরানো একটা নৌকা সংরক্ষণে আছে। যে কুয়ার নাম অনুসারে কুয়াকাটার নাম হয়েছে, সেটাও দেখতে পাবেন। ভাগ্য থাকলে সৈকতে লাল কাঁকড়ার দল দেখতে পাবেন। এছাড়া চর বিজয়, ফাত্রার চর, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ইত্যাদি ইত্যাদিও দেখে আসতে পারেন।
(তিনশত বছরের পুরানো নৌকা)
(সেই বিখ্যাত কুয়ার সামনে)
(বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে)
আর হোটেলে খাওয়া দাওয়ার সময় আগে দাম ঠিক করে নিবেন। ট্যুরিস্ট দেখলেই এরা মনে করে পকেটে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আসছে সবাই। যা তা দাম চেয়ে বসে। বুঝে না যে এদের চেয়েও বড় ফকির আমরা। :/
(সামুদ্রিক ইলিশ ভাজা দিয়ে ডিনার)
যায় হোক, লঞ্চে ভ্রমণের সময় ডেকে করে গেলে সাথে বিছানার চাদর নিয়ে নিবেন। লঞ্চে উঠার আগে রাতের খাবার, নাস্তা, পানি নিয়ে নিবেন। সদরঘাট থেকে পটুয়াখালির লঞ্চ ছাড়ে ৬টার দিকে। আর বরিশালের লঞ্চ ছাড়ে ৯ টার দিকে। অবশ্যই আগে গিয়ে চাদর বিছিয়ে জায়গা দখল করে রাখতে হবে। হাতের ব্যাগ, ওয়ালেট সব নিজ দায়িত্বে সাবধানে রাখতে হবে। স্থানীয়দের সাথে বাজে বিহ্যাভ করা যাবে না। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা যাবে না।
আজকের মতো বিদায়। পরের বার অন্য কোনো ট্যুরের গল্প নিয়ে আবারও হাজির হবো। সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন সবাই।