হায়া সোফিয়া: গির্জা, মসজিদ না-কি জাদুঘর?

Words
404
Reading
2 min
Listen
Play
6y

FB_IMG_1594440996754.jpg

হায়া সোফিয়া পৃথিবীর প্রাচীন গির্জাগুলোর মাঝে অন্যতম, যা তুরস্কে অবস্থিত। ধারনামতে আনুমানিক ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে রোমান বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ানের আমলে এটি তৈরি করা হয়। ইতিহাসে এটি চার্চ অভ হায়া সোফিয়া নামেই পরিচিত। একটা সময় পর্যন্ত এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা। প্রায় ১৪০০ বছর গির্জা হিসেবে ব্যবহার করা হলেও ১৪৫৩ সালে ইস্তামবুল অটোমান সম্রাজ্যের অধীনে আসার পর এটাকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর প্রথমবারের বিজয়ী মুসলিনেরা এটির ভেতর নামাজ আদায় করেছিলেন।

images-230.jpg

বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে থেকে চার্চ অভ হায়া সোফিয়া অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আসার পর এটি নামকরন করা হয় ইম্প্যারিয়াল মসকো। যদিও এটি হলি মসকো অভ হায়া সোফিয়া" নামে পরিচিতি পাওয়া শুরু করে। অটোমানরা গির্জার ভেতর ও চারপাশে নানা ধরনের সংস্কার করে। গির্জার গায়ের নানা চিত্র, খ্রিস্টান প্রতিকৃতি ও সোনালি মোজাইকগুলো সিমেন্টের আস্তরনের নিচে চাপা পড়ে। তার উপরিভাগ কোরআনের বানী দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। অর্থাৎ দেখেও বুঝার উপায় নেই যে একসময় এখানেই একটা গির্জা ছিল।

যায় হোক, অটোমান সম্রাজ্য যতদিন ছিল, হায়া সোফিয়াকে ততোদিনই মসজিদ হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছিল। প্রায় কয়েকশো বছর ধরেই এটি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

FB_IMG_1594441913629.jpg

এরপর ১৯৩৪ সালে আধুনিক তুরস্কের জাতির পিতা কামাল আতার্তুকের সময় তুরস্ককে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পুরো দেশকে নতুন করে সংস্কারের চেষ্টা করা হয়। সেসময়েই সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক হায়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পাঁচশো বছর পর সিমেন্টের আস্তরন সরিয়ে আবারও তুলে নিয়ে আসা হয় বাজরেন্টাইনদের প্রাচীন সব নকশা, চিত্রগুলো। খুব প্রাচীন ও অসাধারণ স্থাপত্যশিল্পের কারণে খুব অল্প সময়েই সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে এটি অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়। প্রতিবছর প্রায় ৩৭ লক্ষ এটি দেখতে আসেন।

images-280.jpg

তবে তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত গতকাল হায়া সোফিয়ার জাদুঘর মর্যাদা নাকচ করে দেন। আদালত রায়ে বলেছে, “ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, এই স্থাপনা মসজিদ হিসেবেই বরাদ্দ ছিল। এর বাইরে অন্য কিছু হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।” যদিও মসজিদের পূর্বে এটি গির্জা হিসেবেই প্রায় দেড় হাজার বছর ব্যাবহার করা হয়েছিল।

গতবাল আদালতের রায়ের পর সে দেশের সরকার এটিকে মসজিদ হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। প্রায় ৮৬ বছর পর হায়া সোফিয়ার ভেতর থেকে শোনা গেল আজানের ধ্বনি। তবে এটি নিয়ে তুরস্কের জনগনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হায়া সোফিয়াকে মসজিদে নামাজ পড়তে পেরে অনেকে খুশি হলেও আরেকটি অংশ মনে করছে এতে সাম্প্রদায়িকতা শুরু হবার সুযোগ থাকতে পারে।

images-199.jpg

তুরস্কের বাইরে জাতিসংঘের পাশাপাশি কিছু দেশও হায়া সোফিয়াকে জাদুঘর হিসেবেই রাখার জন্য অনুরোধ করেছিল। তবে তুরস্কের সরকার ও প্রসাশন কারো অনুরোধকেই গ্রাহ্য করে নি। সবকিছু এভাবেই চললে এখন থেকে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে স্থায়ী ভাবে মসজিদ হিসেবেই ব্যাবহার করা হবে।

All pictures collected from Hagiya Sofia

হায়া সোফিয়া: গির্জা, মসজিদ না-কি জাদুঘর? | Ecency