অবশেষে ভ্যাকসিন নিয়ে ফেললাম। এর আগে নিব নিব করে আসলে নেয়া হয় নি। কয়েক মাস আগে যখন গণটিকা কার্যক্রম চলছিল, তখন অবশ্য একবার রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। কিন্তু গাজীপুরে টিকাকেন্দ্র দূরে হওয়ায় ও হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকায় শেষ পর্যন্ত আর ভ্যাকসিন নিতে পারি নি। তবে এবার গ্রামে এসে আর সেই সুযোগটা মিস করি নি। কারণ করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রম ইতিমধ্যেই ভয়ংকর ভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে পুরো পৃথিবীতে।
আগামী কিছুদিনের মাঝে বাংলাদেশে হয়তো রাষ্ট্রীয়ভাবে বেশ কিছু বিধি নিষেধ এর আওতা আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাইরে চলাফেরা করার ক্ষেত্রে টিকা কার্ড সাথে রাখা বাধ্যতামূলত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। যদিও আমার জানা মতে বাইরের উন্নত দেশগুলোতে আরো এক বচর আগে থেকেই এই নিয়মটা তৈরি করা হয়েছে। আজ এক বছর পর হলেও অবশেষে বানলাদেশকে এই নিয়মের আওতায় নিয়ে আসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সরকার।
করোনার থার্ড ওয়েভে এবার ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশেই কম দেখা যাচ্ছে। যদিও হুট করে পুরো পৃথিবীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুন বেড়ে গিয়েছে শেষ কয়েক সপ্তাহে। করোনার ফার্স্ট ওয়েভের পিক সময়টাতে প্রতিদিন সারাবিশ্বে যেখানে সর্বোচ্চ ৫-৬ লাখ করে লোক নতুন করে আক্রান্ত হতো, যেখানে গত কাল প্রায় ৬ গুন বেড়ে সেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে। আমাদের ভাগ্য ভাল এই যে ফার্স্ট ভ্যারিয়েন্টের মতো এতটা মৃত্যুঝুঁকি নেই এইবার। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এখনই এই ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ ওমিক্রনকে এতটা হালকা ভাবে নেয়ার সময় আসে নি। যে কোনো মুহুর্তেই পরিস্থিতি আবারও হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
তাই পরিস্থিতি যেন হাতের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশিত পরামর্শগুলো মেনে চলতে হবে। আমরা সবাই জানি যে আমাদের দেশের স্বাস্থখাতের অবস্থা ভয়াবহ রকমের ভঙ্গুর। এমতাবস্থায় নিজের নিরাপত্তা সবার আগে নিজেকেই নিতে হবে। এখনো যারা ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন নি, তাদের অতি দ্রুত নিজেদের ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর যারা ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়ে ফেলেছেন, তারা যেন বাকি ডোজগুলোও নিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন।
যায় হোক, আজকে অনেক দিন পর প্রিয় একটা খাবার খেলাম। যেহেতু অনেক দিন খাওয়া হয় না, তাই এই ফলটড় স্বাদ একেবারে ভুলেই গিয়েছিলাম। আমাদের এলাকায় এটাকে মেষ্টা ফল বলা হয়। যদিও বাংলাদেশের বেশিরভাগ জায়গায় এটাকে চুকাই বলা হয়। এটার স্বাদ টক ধরনের। বিভিন্ন ধরনের তরকারি বা সবজিতে মেষ্টা ব্যাবহার করলে সে তরকারি স্বাদে কিছুটা টক ভাব আসে, যা খাবারের স্বাদ অনেক বাড়িয়ে দেয়।
যদিও এখন বাজারে এই ফলটা তেমন একটা পাওয়া যায় না। তবে আমাদের গ্রামের বাড়িতে গাছ আছে অনেক। আজ সকালে সেখান থেকেই এই মেষ্টা ফলগুলো নিয়ে এসেছিলাম। আর সত্যি বলতে কি, এতদিন পর এটা খেয়ে ভালই লাগছিল।
তবে সকালের দিকে বাড়ি থেকে বের অবার পর গ্রামের পরিবেশ দেখে বেশ ভালই লাগছিল। সারারাত শিশির পড়ার কারণে সকাল বেলায় পরিবেশটা অনেক সুন্দর থাকে। মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেকে শিশির ফোটায় নিজেকে আরো সুন্দর করে তুলেছে।
প্রকৃতির এসব ছোট ছোট ব্যাপারগুলো আমাকে খুব টানে। মাঝে মাঝে মনে হয় সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে যদি একেবারের জন্য প্রকৃতির ভেতর হারিয়ে যেতে পারতাম। এমন ইচ্ছেটা ছোট বেলা থেকে খুব ছিল আমার মাঝে। জানি না কখনো পূরণ হবে কিনা। তবে আশা রাখতে তো দোষ নেই। কারণ মানুষ বাঁচেই তো আশায়। আশা না থাকলে তো মানুষ বেঁচে থাকার কোনো উদ্দেশ্যে পাবে না, স্বাদ পাবে না। থাকবে না কোনো চ্যালেঞ্জ। জীবন হয়ে যাবে মাঝ নদীতে মাঝি ছাড়া সেই নৌকার মতো, যার নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য নেই। উত্তাল মাঝ নদীতে ঢেউ এর তালে তালে শুধু দুলেই যাচ্ছে আজীবন। কারণ, যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই, তাই না?
তবে গ্রামে আসার পর এই প্রথম আজ আকাশে মেঘের ভেলা চোখে পড়ল। এতদিন আকাশটা একেবারেই পরিষ্কার ছিল। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই আকাশে তারার মেলা চোখে পড়তো। কিন্তু আজকের আকাশটা যেন একেবারেই আলাদা। সন্ধ্যার পর আকাশে একটা তারাও চোখে পড়ে নি। তার বদলে শুধু সাদা সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াতে দেখা যাচ্ছিল। আকাশের এই রূপটাও কন্তু দেখতে খুব একটা খারাপ লাগে না।
যায় হোক, আজকের দিনটা মোটেও খারাপ কাটে নি। কাল রাতে হুট করে জীবন নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ থেকে নতুন করে জীবন শুরু করার চিন্তা করছি। আগের বেশ কিছু প্ল্যান ছিল, সেগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন কিছু প্ল্যানকে গ্রহন করছি। জানি না কতটুকু সফল হব, তবে চেষ্টা করতে তো দোষ নেই। আর এই চেষ্টা করার জন্য পুরো বছরটাকেই গ্রহন করলাম। এই বছরে আমার নতুন প্ল্যানের বাইরে অন্য কোনো প্ল্যান নেই। দেখা যাক, কী হয়...