একটা জাতি ছিল মাদইয়ান। এদের ব্যাবসায়ীরা লেনদেনের সময় ওজন কম দিত। সিন্ডিকেট কইরা দাম বাড়াইতো। ছিনতাই, ধর্ষণ ছিল সাধারন ব্যাপার স্যাপার। এরা স্বীকারই করতো না যে এগুলা খারাপ কাজ। ফলে একবার এমন হইছে যে কয়েকদিন টানা গরম ছিল। গরমে সবাই অতিষ্ট। ৩-৪ দিন পর হুট কইরা আকাশে মেঘের দেখা পাওয়া গেল। সবাই তো সেই খুশি। ঠান্ডা হাওয়া বাতাস খাইতে সবাই বাইরে চইলা আসলো। কিন্তু আকাশ থেইকা সেইদিন পানির বদলে অগ্নিবৃষ্টি পড়া শুরু করল। আগুন আর আগুন... সবাই জান বাঁচাইতে যে যেদিকে পারে দৌড়াইতেছে। কিন্তু লাভ হয় নাই। প্রচন্ড ভূমিকম্প আইসা সবাইরে মাটির সাথে মিশাইয়া দিছিল।
আদ জাতিতে ইঞ্জিনিয়ারের অভাব ছিল না। পাথর কাইটা বড় বড় বিল্ডিং বানাইতো। এরা ভাবতো এইসব বিল্ডিং এ এরা সারাজীবন থাকতে পারবে। এদের পেটে পেটে অহংকার চইলা আসলো। নিজেদের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি মনে করা শুরু করল। দূর্বলের উপর অত্যাচার করা শুরু করলো। মোট কথা অহংকার তাদের চিন্তা-ভাবনা, বিবেক নষ্ট কইরা দিছিল। একবার তাদের এলাকায় খরা দেখা দিল। টানা ৩ বছরের খরা আইসা তাদের সব অহংকার ধ্বংস কইরা দিল। খরা শেষে এমন এক ভয়ংকর ঝড় আসল যে সেই ঝড়ে তাদের পুরা এলাকা মুহুর্তেই ধ্বংস হইয়া গেল। তাদের অহংকারের বড় বড় স্থাপনা, ইমারতগুলা মুহুর্তের মাঝেই নাই হইয়া গেলো!
শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতির সাথে সামুদ জাতি জীবন যাত্রার মানও উপরের দিকে উঠে গেছিল। কিন্তু জীবন যাত্রার মানের বিপরীতে তাদের নৈতিকতা মানবিকতা উল্টা নিচের দিকে নাইমা গেছিল। সমাজের সব বড় বড় চরিত্রহীনদেরকে তারা তাদের নেতা বানায় রাখছিল। তারা কথা দিয়ে কথা রাখতো না। তারা স্বয়ং আল্লাহর সাথে কথা দিয়াও কথার বরখেলাপ করছিল। একদিন ফেরেস্তা আইসা দিল চিৎকার। মরুভূমির মাঝখানে হঠাৎ ঝড় আর ভূমিকম্প, সাথে বজ্রপাতের আওয়াজ। ভয়ে পাগলের মতো দৌড়াইতে দৌড়াইতেই এরা সব মইরা গেলো...
অবশ্য সাদুমের গল্প আমরা সবাই জানি। সুজলা সফলা, শস্য শ্যমলা নগরী বলতে যা বুঝায় আর কি। এমন এক পাপাচারে লিপ্ত হইছিল, যেইটা নাকি তাদের আগে অন্য কোনো সম্প্রদায় করে নাই। বার বার সতর্ক করা হইছিল, লাভ হয় নাই। একদিন তাদের উপর উল্কা পিন্ড ফালানো হইছিল, পুরা জমি উল্টায় দিয়া মাটিতে মিশায় দিছিল এমন ভাবে যেন এখানে কোনো কালেই কোনো জাতি ছিল না।