গ্রামের পরিবেশ ভাল লাগে না, এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে এদেশে। তবে হ্যাঁ, শহরের পরিবেশে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটানো মানুষ ২-৩ দিন কিংবা এক সপ্তাহ হয়তো গ্রামের পরিবেশ খুব বেশি উপভোগ করবে। এরপর সময় যত পার হবে, ধীরে ধীরে গ্রামের প্রপগি আগ্রহও কমে যাবে। কিছু কিছু জিনিস দূর থেকেই বেশি সুন্দর। কাছে গেলে সেই সৌন্দর্য্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
আমি গ্রামে একটানা খুব বেশি একটা সময় কখনো কাটানোর সময় পাই নি। তাই গ্রামের পরিবেশ সবসময় আমার মনের।ভেতর আলাদা একটা ফ্যান্টাসি তৈরি করে। এই ফ্যান্টাসি কখনো নষ্ট হবে কিনা জানি না। তবে এখন পর্যন্ত এই বয়সে এসেও গ্রামের পথ, ঘাট, পুকুর কিংবা সবুজে হারিয়ে যেতে আমার খিব একটা মন্দ কখনোই লাগে নি।
এমুহুর্তে আমি আছি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার শাহপুর গ্রামে। এই গ্রামের নামকরন কিভাবে করা হয়েছিল, তা এখনো সঠিক ভাবে জানি না আমি। তবে এতটুকু বলতে পারি, শাহ নামক কোনো বংশের নামানুসারেই এই গ্রামের নামকরন করা হয়েছিল। আগের সময় বিভিন্ন বড় বড় বংশ কিংবা খ্যাতি মানুষের নামানুসারেই মূলত বিভিন্ন এলাকার নামকরন করা হয়ে যেত। এক্ষেত্রে শাহপুরও ব্যাতিক্রম না।
এর আগে এই গ্রামে বেশ কয়েকবার আসা হয়েছে। তবে কখনোই থাকা হয় নি। তবে এবারের আসাটা কিছুটা ব্যাতিক্রম। গতকাল বিকেলে কুমিল্লা থেকে এখানে আসি আমি। আগামীকাল বিকেলের দিকে আবার কুমিল্লায় ফিরে যাবো। সে হিসেবে প্রায় আড়াই দিনের মতো আমি এখানে আছি। আমার ঘুরে দেখা বিভিন্ন গ্রামের মতো সুন্দর না এই গ্রামটা। অবশ্য নামে গ্রাম হলেও পৌর এলাকা থেকে খুব বেশি একটা দূরে না বিধায় এখানকার সৌন্দর্য্য অনেকটাই ম্লান এখানে।
যায় হোক, গ্রামের সৌন্দর্য্য যেমনই হোক না কেন, তাতে অবশ্য আমার কিছু যায় আসে না। কারণ আমি এই গ্রামে মূলত ব্যাক্তিগত অন্য একটা উদ্দেশ্যে এসেছি। আর সেজন্যই মূলত গতকাল ট্রেইন থেকে নেমে সবার আগে পাশের একটা ফুলের দোকানে গিয়ে তিনটা গোলাপ ফুল কিনে ফেলেছিলাম। কারণ আমরা সবাই জানি যে মেয়েরা উপহার হিসেবে ফুল পেতে অনেক বেশিই পছন্দ করে।
আপনারা হয়তো এতক্ষণে বুঝেই ফেলেছেন, আমার এই গ্রামে আসার উদ্দেশ্যটা কী হতে পারে। তাই আর সেই বিষয়ে কিছু লিখছি না। তবে এই প্রথম কোনো গ্রামে যাওয়ার সময় মনের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল। বার বার মনে হচ্ছিল কেউ একজন আমার পথ চেয়ে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। এই অনুভূতিটা আর লিখে প্রকাশ করা কোনো ভাবেই সম্ভব না।
আজ প্রায় অর্ধ মাস পর তার সাথে দেখা। এই সময়টা অনেকের কাছেই হয়তো খুব একটা বেশি না। কিন্তু আমার কাছে কেন যেন অনেকটা লম্বা সময় বলেই মনে হলো। অবশ্য ধীরে ধীরে এই অনুভূতিগুলো একটু একটু করে ক্ষয়ে যাবে। কয়েক বছর পর হয়তো এই সময়টাকে এত লম্বা সময় বলেও মনে হবে না।
সে যায় হোক, বাসায় এসে যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে বেশি সারপ্রাইজড করেছে, সেটা হল পিজ্জা। কোনো এক অদ্ভুত কারণে পিজ্জা নামের খাবারটা আমার খুব পছন্দের একটা খাবার হয়ে গেছে। কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারণে কখনই রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে তেমন একটা খাওয়া হয় নি। মাঝে মাঝে বন্ধুরা মিলে ফুডপান্ডায় অর্ডার করেছি, কিন্তু সেক্ষেত্রে জনপ্রতি একটা স্লাইস এর বেশি কখনো খাওয়া সম্ভব হয় নি। কিন্তু এখন তো সময় চেইঞ্জ হয়ে গেছে। চোখের সামনে নিজের জন্য আস্ত একটা পিজ্জা দেখার পর আমার চোখ মুখ যে কিরকম উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছিল, তা শুধুমাত্র আমার সামনে উপস্থিত থাকা মানুষটাই দেখতে পেয়েছিল।
হাতে সময় খুব বেশি একটা নেই। কিভাবে কিভাবে যেন সময়গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। গতকাল বিকেলে এসেছিলাম, আবার আগামীকাল বিকেলের দিকেই ফিরে চলে যেতে হবে। মাঝখানের এই সময়টুকু কিভাবে পার হয়ে গিয়েছে, বুঝে উঠতে পারি নি।
বিকেলের দিকে অবশ্য গ্রামের ভেতরের দিকে টুকটাক হাঁটাহাটি করেছিলাম। এই গ্রামটা আমাকে তেমন একটা মুগ্ধ করে নি। তবে মুগ্ধ না করলেও সমস্যা নেই। আমার যেটাতে মুগ্ধ হবার কথা ছিল, আমি সেটাতেই মুগ্ধ হয়ে আছি প্রথম থেকেই...