কর্মব্যস্ত জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জ!

Words
635
Reading
3 min
Listen
Play
5y

1628320353305-01.jpeg

আজকে ৪ দিন হল নতুন অফিসে জয়েন করলাম। সবকিছু মিলিয়ে ভালই চলছে। তবে এখানকার পরিবেশটা আমার খুব ভাল লাগছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকটা পুরানো বিল্ডিং আছে, সেগুলো আমার কাছে বেশি ভাল লাগছে। সময় পেলে আমি পুরানো বিল্ডিংগুলোর সামনে গিয়ে বসে থাকি। কেমন যেন এমটা অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

IMG_20210807_131122.jpg

আমার অফিস রুমটা আমার পছন্দ হয়েছে। যদিও আমার আগের অফিস রুমটা আরো সুন্দর ছিল। নতুন অফিসের দেয়ালের রঙ সবুজ। এই রঙ টা আমার তেমন পছন্দের না। তবে এখানে অবশ্য খারাপও লাগছে না। আমার ডেক্সটাও সুন্দর আছে। তবে আমার নিজের মন মতো করে সাজাতে হবে। কিন্তু অন্যান্য জায়গায় এত কাজের চাপ যে, নিজের কাজগুলোই সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে করে উঠতে পারছি না।

গত তিন দিনের চেয়ে আজকের কাজের পরিমানটা কিছুটা বেশিই ছিল। ফ্যাক্টরি ভিজিট করে গিয়ে দেখি ফায়ার এক্সটেনগুইসার গুলোর মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। পরে পুরো ফ্যাক্টরির সব ফায়ার এক্সটেনগুইসারগুলো নতুন করে রিফিল করতে পাঠালাম। প্রতি বছর সরকারী পরিদর্শকেরা ফ্যাক্টরি ভিজিট করে এগুলো চেক করে থাকে। কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে উনারা নিজেদের দায়িত্ব যে সঠিক ভাবে পালন করে না, তা বুঝাই যাচ্ছে।

IMG_20210807_130712.jpg

IMG_20210807_131054.jpg

তবে রিফিউলিং করতে পাঠানোর সময় ফ্যাক্টরির ভেতর থেকেই বোতলগুলো খালি করে দিতে চেয়েছিলাম। আমার এই সিদ্ধান্তটা অবশ্য ভাল ছিল না। আরেকটু হলে এক্সিডেন্ট ঘটতে পারতো। বোতল খালি করার সময় গ্যাসের প্রেসারে একজনের হাত থেকে বোতলটা ছুটে চলে অনেক দূর পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। ফায়ার এক্সটেনগুইসারের একেকেটা খালি বোটলের ওজন প্রায় ১২ কেজির মতো। আর ভর্তি বোতলের ওজন ২৫ কেজি প্রায়। তো বুঝতেই পারছেন, ওই বোতলটা যদি হুট করে কারো গায়ে লাগত, তাহলে হয়তো খারাপ কিছু ঘটলেও ঘটতে পারতো।

ঢাকায় যখন ছিলাম, তখন অবসর সময়গুলো আড্ডা দিয়ে ভালই পার হতো। কিন্তু এখানে আসার পর নিজেকে কিছুটা একা একা লাগছে। আড্ডা দেয়ার মতো মানুষ এখনো খুঁজে পাই নি। যদিও একা থাকতে আমার ভালই লাগে, কিন্তু তবুও মাঝে মাঝে তো মানুষের সঙ্গও লাগে, তাই না? সারাদিন অফিস শেষ করার পর রুমে গিয়ে একা একা বসে থাকতে কারই বা ভাল লাগে? তার উপর গতকাল নিজে নিজে রান্নাও করতে হয়েছে ডিনারের সময়।

IMG_20210807_131215.jpg

তবে এখানে কাজের প্রেসার বেশি। চ্যালেঞ্জও আছে খুব। এই বিষয়টা আমার ভাল লাগে। নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে এই কয়েকদিনে। পুরো ফ্যাক্টরি ঢেলে সাজানোর প্ল্যান নিয়েছি আমি। আরো কিছু কর্মী নিয়োগের জন্য সুপারিশও করেছি। এসব নিয়ে দুই একদিনের মধ্যে আমাদের অফিসের মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আমি আমার যাবতীয় পরিকল্পগুলো উত্থাপন করব। যদি আমাকে আমার সুবিধা মতো কাজ করতে দেয় এবং আমার রিকোয়ার্মেন্টগুলো পাশ করে, তাহলে খুব সুন্দর করেই কাজ করতে পারব আমি।

তবে এতসব কাজের মাঝেও আমার ফটোগ্রাফির শখটা কিন্তু ঠিকই রয়ে গেছে। আর এজন্যই সুযোগ পেলে টুকটাক ছবিও তুলে ফেলি আমি। এই লেখার সাথে আমি আমার কিছু ফটোগ্রাফিও এড করে দিয়েছি। একদম শুরুতে সিঁড়ির যে ছবিটা দেখা যাচ্ছে, সেটা আমাদের ফ্যাক্টরির ভেতরেরই ছবি।

IMG_20210807_131139.jpg

মূল ফ্যাক্টরির পেছনে পুরানো একটা দুই তলা ওয়্যার হাউজ আছে, যদিও বর্তমানে সেটি ব্যাবহৃত হচ্ছে না। আমি দুই দিন আগে সেখান থেকে ঘুরে এসেছি। বিল্ডিংটা বাইরে থেকে বেশ পুরানো মনে হলেও ভেতরে মোটামুটি ছিমছাম। আমি ম্যানেজমেন্ট এর কাছে এপ্লিকেশন করেছি, যেন এখানে আমাকে একটা রুম দেয়া হয়। যদি রুমটা পেয়ে যাই, তাহলে একদম মনমতো পুরো রুম সাজিয়ে নিতে পারব। এধরনের পরিবেশে থাকতে আমার এমনিতেও খুব ভাল লাগে।

IMG_20210806_192441.jpg

অফিসের ভেতর বেশ কিছু টবে ফুল গাছ ছিল। যত্নের অভাব সেগুলোও মরে গেছে। কিছু ফুল গাছের চারা কেনার প্ল্যান আছে আমার। গতকাল আশেপাশের কিছু নার্সারির খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম আমি। খুব জলদি ফুল গাছের চারা আনানোর ব্যাবস্থা করতে যাচ্ছি আমি। ছোটবেলায় বাগান করার খুব শখ ছিল আমার। সে হিসেবে গাছ লাগানোর কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে আমার। ছোটবেলার সেই সব অভিজ্ঞতাকে এখন চাকরিজীবনে কাজে লাগানোর পালা শুরু হয়েছে।

আমার লেখা পড়ে বুঝতেই পারছেন, কী পরিমান ব্যাস্ত সময় পার করছি আমি। এত ব্যাস্ততার মাঝেও বাড়ির জন্য কিছুটা খারাপ লাগছে আমার। না না, কিছুটা না, বরং অনেক বেশি খারাপ লাগছে। কুমিল্লা ছেড়ে আসার সময় মন খারাপ ছিল আমার। আম্মু এবং ছোট বোন অসুস্থ ছিল। তাদের এভাবে রেখে আসতে মোটেও ইচ্ছে হচ্ছিল না। অথচ আমার কাছে অন্য কোনো অপশনও ছিল না। কিছুক্ষণ আগে বাড়িতে কথা বললাম, আম্মু এখন কিছুটা সুস্থ আছে।

কর্মব্যস্ত জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জ! | Ecency