বিকাশ থেকে নাহিদ ফোন দিয়েছিল। স্যরি, নাহিদ না, তরিকুল নামের কেউ একজন। ভদ্রলোকের ভয়েস সুন্দর, ব্যবহারও ভালো। একাউন্ট ভ্যারিফাই করার জন্য ভ্যারিফিকেশন কোড পাঠালো, আমিও বললাম, কিন্তু মিলে নাই। আবার পাঠালো, এবারও মিলে নাই। তৃতীয় বার, চতুর্থবারেও না মেলার পর পঞ্চম বারে এসে ভদ্রলোক স্যার ডাকা বাদ দিয়ে গালিগালাজ শুরু করে দিল।
আমি অবশ্য ঠান্ডা মাথার মানুষ। এত সহজে রেগে যাই না। ভাইকে কিছুক্ষণ ধর্মীয় হাদিসের জ্ঞান দেয়ার পর ভাই বিনয়ের সাথে ক্ষমা চাইলো, আমিও ক্ষমা করে দিলাম। উনার ভয়েস খুব সুন্দর, রাগ করে থাকা পসিবল না। ভাইয়ের বাড়ি চট্টগ্রাম, আর চট্টগ্রামের গালি শুনতে ভাল্লাগে আমার। ফমান আছে আর cuds এর রেকর্ডিং টা যদি না শুনে থাকেন, তাহলে আমার কথা বুঝতে পারবেন না।
সে যায় হোক, ভাইএর সাথে অনেক কথা হল। বলল হালিশহরে থাকে, মিথ্যা হবার চান্স বেশি। হালিশহরের আশেপাশের কিছু বিকাশ এজেন্টদের সাথে উনার যোগাযোগ আছে। প্রতিদিন যারা লেনদেন করতে আসে, তাদের মধ্য থেকে কিছু লোকের নাম্বার বাছাই করে উনার কাছে পাঠায় দেয়া হয়। বিনিময়ে পার্সেন্টিজ পায়!
সপ্তাহে নাকি ২০-৩০ হাজার টাকা করে ইনকাম করা যায়। একটা লোকের সারা মাসের পরিশ্রমের টাকা এরা প্রায় কিছু না করেই হাতিয়ে নিচ্ছে। এই ভাই এর মতে, দেশে নাকি বেকুবের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেছে। নতুবা এত এত বিজ্ঞাপন দেখার পরেও কেন মানুষ ওদের ফাঁদে পা দেয়!
মোবাইলে লেনদেন করার ক্ষেত্রে আমাদের আরো সাবধান হওয়া দরকার। প্রতিনিয়ত মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবুও আমরা না বুঝে ফ্রডদের ফাঁদে পা দিই। আমাদের আরেকটু সচেতন হতে হবে। লেনদেন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অন্যের মুখের কথা বিশ্বাস না করে নিজে নিজেই যাচাই করার চেষ্টা করতে হবে।
সবশেষে... নিজে সচতন হই এবং অন্যকেও সচেতন করি। কারণ কমবেশি আমাদের সকলের কাছেই এধরনের প্রতারকদের আনাগোণা আছে। আজকে আমি হয়তো প্রতারকের প্রতারনা ধরতে পেরেছি, কিন্তু সবাই তো আর পারবে না।