কিছুক্ষণ আগে অফিস থেকে মেইল দিয়ে জানিয়ে দেয়া হলো ১৪ তারিখ থেকে পূর্নাঙ্গ লকডাউন ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে আপাতত অনির্দিষ্ট কালের জন্য অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। তবে অফিস বন্ধ থাকলেও অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না। জরুরী কাজের জন্য সর্বক্ষণ বাসায় ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অফিসের সাথে কানেক্টেড থাকতে হবে।
এর আগে গত পহেলা এপ্রিল সীমিত পরিসরে লকডাউনের ঘোষণা করেছিল সরকার। তবে সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টিকে হাস্যকর মনে হয়েছিল আমার কাছে।সে সিদ্ধান্তের মধ্যে যে সরকারের সমন্বয়হীনতার উপস্থিতি ছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এবারের সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও যৌক্তিক মনে হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত আমি জানি না পূর্ণ লকডাউনে যাবার মতো প্রস্তুতি কিংবা সামর্থ্য আমাদের আদৌ আছে কিনা।
লাস্ট এক মাসে হুট করে আমাদের দেশে করোনার সংক্রমন কয়েক গুন বেড়ে গিয়েছে। গতকালকেও নতুন করে ৯ হাজার প্লাস করোনায় আক্রান্ত পেশেন্ট শনাক্ত হয়েছে। আর মৃত্যুর সংখ্যা তো ৭৮ এর মতো। দিন দিন সংখ্যাটা বাড়তেছে। ফলে আগামী কিছুদিনের মধ্যে প্রতিদিনের মৃত্যুর সংখ্যা যে তিন অংক পার হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই।
তবে আমাদের দেশে করোনার চেয়েও পেটের খিদে বেশি ভয়ংকর। লকডাউনের প্রভাবে চাকরিজীবি খুব কম মানুষকেই সাফার করতে হবে। তবে যারা দিনমজুর বা এরকম আছেন, তাদের জন্য এইটা খুব ভয়ংকর ব্যাপার। লকডাউনের ফলে তাদের পরিবারকে যে ফিনেনশিয়াল ক্রাইসিসে পড়তে হবে, সে বিষয়েও আশা করি আমাদের কোনো সন্দেহ নাই।
ইভেন আগামীকাল যে আমি আমার চাকরি হারাবো না, সে গ্যারান্টি কে দিতে পারে? গত এক বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এরকম ঘটনা ঘটতে দেখেছি আমি। সে তুলনায় আমাদের দেশের সক্ষমতা অনেক কম। পশ্চিমের অন্যান্য ধনী দেশগুলো যেভাবে তাদের দেশের জনগনকে পুরো সময়ে সাপোর্ট করেছে, আমাদের দেশের পক্ষে সেটা সম্ভব না। আমাদের নিজের রাস্তা আমাদের নিজেদেরই বানাতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব দেয়ার আশা করাও বোকামি।
গতবছরের লকডাউনে কিছু ঘটনা আমার ভাল লেগেছিল। কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া অনেক ছাত্রছাত্রী নিজেদের সুবিধামতো ফান্ড তৈরি করে এদেশের গরীব মানুষদের আর্থিক কিংবা খাবার দাবার দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছিল। আমরা আমাদের এলাকায় এমন কিছু করার চেষ্টা করেছিলাম, তবে পুরোপুরি সফল হতে পারি নি। এবার চাকরির জন্য ঢাকায় আটকে যাওয়ায় এবার হয়তো চেষ্টা করতে পারব না। তবে আমি আশা করি, গতবারের মত এবারও আমার দেশের ছেলে মেয়েরা মানুষকে সাহায্য করার জন্য ঠিকই মাঠে নেমে পড়বে।
বাংলাদেশি হাইভ কমিউনিটির কাছে আমি একটা আবদার রাখতে পারি। যদিও এটা খুব বড় কোনো প্লার্টফর্ম না। তবুও সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, প্রতিদিন একটা মানুষ কিংবা একটা পরিবারকে আমরা সাহায্য করতে পারি। এই কমউনিটিতে যারা আছেন, তারা বিষয়টা চিন্তা করে দেখতে পারেন। একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারার চেয়ে সুন্দর কিনিস আর কিইবা হতে পারে?
যায় হোক, আগামী সপ্তাহের লকডাউনের প্রভাব কেমন হবে, তা এখনো জানি না। তবে আশা করি সবাই সুস্থ ও সুন্দর থাকবেন। ভাল থাকেবন, আশেপাশের মানুষদের ভাল রাখবেন। করোনার সেকেন্ড ওয়েব শুরু হয়ে গেছে। দোয়া করি যেন কেউ স্বজন হারানোর শোক না পান। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।