"রোদ হচ্ছে, বৃষ্টি হচ্ছে, খেঁক শিয়ালের বিয়ে হচ্ছে...!" ছোট বেলায় রোদ আর বৃষ্টি একসাথে দেখলেই ভাবতাম, দূরের ঐ পাহাড়ে বোধহয় শিয়ালের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। বন্ধুরা সবাই সুর মিলিয়ে একসাথে চিল্লিয়ে উঠতাম। ইচ্ছে হতো এক দৌড়ে ঐ পাহাড়ে চলে যেতে৷ কিন্তু সুযোগ তো ছিল না।
ইদানিং আকাশের মনে রঙ জমেছে মনে হয়। প্রতিদিনই নানা ধরনের মেঘের দেখা পাওয়া যায়। বিচিত্র আকৃতির এসব মেঘগুলো কিছুক্ষণ পরপরই রঙ পালাটায়, আকার পালটায়৷ তার উপর আবার ইদানিং আকাশটা খুব পরিষ্কার দেখা যায়৷ দেখতে খুব একটা খারাপ লাগে না৷
ছোটবেলায় আকাশের মেঘের দিকে তাকিয়ে নানা কিছু কল্পনা করতে চেষ্টা করতাম। সাদা, কালো মেঘগুলোকে কখনো বিশাল কোনো পাহাড়ের চূড়া মনে হতো৷ আবার কখনো বা বিশাল কোনো দৈত্য দানব৷ কখনো কখনো সিনবাদের বিশাল তলোয়ার৷ এখন আর এসব কিছু মনে হয় না। কোথায় যেন পড়েছিলাম, বড়দের চেয়ে ছোটদের মনের কল্পনা শক্তি বেশি। কথাটা একদম সত্যি। তা না হলে ছোটবেলায় আকাশে এত কিছু দেখতে পেতাম, কিন্তু এখন পাই না কেন?
মেঘগুলো বেশিক্ষণ কিন্তু একই রকম ভাবে থেকে যেত না৷ কখনো কখনো বড় কোনো মেঘ ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যেত। আবার কখনো বা ছোট মেঘগুলো একসাথে মিলে মিলে বড় হয়ে যেত। আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াতো এগুলো৷ ছোটবেলায় আমার অনেকগুলো প্রিয় কাজের মাঝে এটাও একটা ছিল। চুপচাপ বসে বসে মেঘের এসব বিচিত্র কারুকাজ খেয়াল করা। এখন তো আগের মতো আর সময় হয়ে উঠে না৷ তবে সুযোগ পেলে আকাশের এইসব অপরুপ রূপ ও মেঘের বিচিত্র রঙের খেলা দেখা বাদ দিতেও পারি না৷
তবে ছোটবেলায় মেঘ ও বৃষ্টি নিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা গল্প শুনেছিলাম, যেগুলো অনেক দিন পর্যন্ত বিশ্বাস করে বসে ছিলাম। এমনই এক গল্পের কথা শেয়ার করা যাক আজ৷ এই গল্পটা কার থেকে শুনেছিলাম ঠিক মনে পড়ছে না৷ আকাশের ভেসে বেড়ানো মেঘগুলো নাকি ভাসতে ভাসতে সিলেটের দিকে চলে যায়৷ ওখানে বিশাল বিশাল উচু সব পাহাড় আছে৷ মেঘগুলো গিয়ে সেই পাহাড়ে ধাক্কা খায়৷ আর তাতেই নাকি বৃষ্টি শুরু হয়ে৷ গল্পটা আংশিক সত্য। আসলে মেঘগুলো গিয়ে পাহাড়ে ধাক্কা খায় না৷ বরং মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলেই বৃষ্টিপাত কিংবা বজ্রপাত হয়৷
আজকের আকাশের এই অপরুপ সাজের কাহিনী কী, তা আমি জানি না৷ তবে খুব সুন্দর লাগছিল দেখতে৷ মোবাইল ক্যামেরায় অবশ্য সেই সৌন্দর্য্যের ছিটেফোটাও তুলে ধরা সম্ভব না৷ যদি ভাল মানের একটা ক্যামেরা থাকতো, তাহলে হয়তো আকাশ ও মেঘের আংশিক সৌন্দর্য্যের ছবি সবার সাথে শেয়ার করতে পারতাম৷ কিন্তু ক্যামেরা যেহেতু নেই, তাই মোবাইলই আমার একমাত্র ভরসা৷ সাথে আছে স্ন্যাপসিড নামের সেই এপটা, যার মাধ্যমে টুকটাক ছবি সব এডিট করি আমি।
দুপুর পর্যন্ত আকাশের রঙ ছিল নীল, যার ফাঁকে ফাঁকে তুলোর মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু বিকেলের পর থেকে আকাশের রূপ পুরোদমেই পালটে গেল। নীল আকাশের পরিবর্তে হয়ে গেল সাদা, আর মেঘের রঙ সাদা থেকে হয়ে গেল কালো। সূর্য অবশ্য টুকটুকে লাল হয়ে গিয়েছিল। কালো মেঘের ফাঁকে রক্তিম আভা হয়ে ভেসে থাকা সূর্যটাকে তখন মনে হয় ভয়ংকর সুন্দর।
পৃথিবীর এই সৌন্দর্যটা আর কতদিন দেখতে পাবো জানি না৷ তবে আমি সৌন্দর্য্যের পিপাসু। আমার কাছে পৃথিবীর সবকিছুই সুন্দর৷ তবে অসুন্দরও আছে। যা কিছু মানুষের জন্য ক্ষতিকর, সেসব ছাড়া বাকি সব কিছুই আমার জন্য সুন্দর৷ আর সেই সুন্দর জিনিসকে ভালবাসতে আমার কোনো দ্বিধা নেই৷