This post is from a low-reputation account and contains an unverified outbound link. Be cautious before clicking external links.

তিন লেখকের লেখা

Words
391
Reading
2 min
Listen
Play
8y

  চাদেঁর গুহার দিকে – বিনয় মজুমদার

চাদেঁর গুহার দিকে নির্নিমেষে চেয়ে থাকি, মেঝের উপরে
দাড়িয়েঁ রয়েছে চাঁদ, প্রকাশ্য দিনের বেলা, স্পষ্ট দেখা যায়
চাদেঁর গুহার দিকে নির্নিমেষে চেয়ে থাকি, ঘাসগুল ছোট করে ছাঁটা।
ঘাসের ভিতর দিয়ে দেখা যায় গুহার উপরকার ভাঁজ।
গুহার লুকোনো মুখ থেকে শুরু হয়ে সেই ভাঁজটি এসেছে
বাহিরে পেটের দিকে। চাঁদ হেঁটে এসে যেই বিছানার উপরে দাঁড়াল
অমনি চাঁদকে বলি,’ তেল লাগাবে না আজ’ শুনে চাঁদ বলে
‘মাখব নিশ্চয়, তবে একটু অপেক্ষা কর’ বলে সে অয়েল ক্লথ নিয়ে
পেতে দিল বিছানায়, বালিশের কিছু নিচে, তারপর হেঁটে এসে চলে গেল
নিকটে তাকের দিকে,একটি বোতল থেকেবাম হাতে তেল নিয়ে এল
এসে তেল মাখা হাতে ভুট্টাটি চেপেধরে।
যখন ধরল তার আগেই ভুট্টাটি খাড়া হয়ে গিয়েছিল।
চাঁদ আমি দুজনেই মেঝেতে দাঁড়ানো মুখোমুখি
এক হাতে ঘসে ঘসে ভুট্টার উপরে চাঁদ তেল মেখে দিল। 

.

 তিনটি কাঠবিড়ালী – বিষ্ণুদে

 অনেক দিনের অনেক যত্নে কমিয়েছি সন্ত্রাস।
এদিকে আমার ছুটি শেষ হ’ল প্রায়,
আজ তিনটেতে গাছ থেকে নেমে বসেছিলো জানলায়।
এত ভীরু এত বিনীত কেন যে! এরাই তো ছিল খাস
সমুদ্র-জয়ী সীতা-সন্ধানী সেতুবন্ধের সঙ্গী;
দীন সজ্জন সাহসী উত্সাহিত
মজুরেরই মত ভঙ্গী।
এরা কেন ভয়ে ডালে-ডালে ঘোরে আজ?
এরা কোনও কালে করেনি তো লাফঝাঁপ
রামরাজত্বে সরকারি রামদাস!
যদিচ এদেরই কোমল অঙ্গে পাঁচ-আঙুলের ছাপ।
অনেক যত্নে নামিয়েছি আজ গাছ থেকে জানলায়
ভাবছি এখন কি ক’রে বাঁচাব এদের এ-বিশ্বাস!
হোটেল ছাড়ার সময় হয়েছে প্রায়।। 

.

 চিল্কায় সকালবুদ্ধদেব বসু

 কী ভালো আমার লাগলো আজ এই সকালবেলায়
কেমন করে বলি?
কী নির্মল নীল এই আকাশ, কী অসহ্য সুন্দর,
যেন গুণীর কণ্ঠের অবাধ উন্মুক্ত তান
দিগন্ত থেকে দিগন্তে;
কী ভালো আমার লাগলো এই আকাশের দিকে তাকিয়ে;
চারদিক সবুজ পাহাড়ে আঁকাবাঁকা, কুয়াশায় ধোঁয়াটে,
মাঝখানে চিল্কা উঠছে ঝিলকিয়ে।
তুমি কাছে এলে, একটু বসলে, তারপর গেলে ওদিকে,
স্টেশনে গাড়ি এসে দাড়িয়েঁছে, তা-ই দেখতে।
গাড়ি চ’লে গেল!- কী ভালো তোমাকে বাসি,
কেমন করে বলি?
আকাশে সূর্যের বন্যা, তাকানো যায়না।
গোরুগুলো একমনে ঘাস ছিঁড়ছে, কী শান্ত!
-তুমি কি কখনো ভেবেছিলে এই হ্রদের ধারে এসে আমরা পাবো
যা এতদিন পাইনি?
রূপোলি জল শুয়ে-শুয়ে স্বপ্ন দেখছে; সমস্ত আকাশ
নীলের স্রোতে ঝরে পড়ছে তার বুকেরউপর
সূর্যের চুম্বনে।-এখানে জ্ব’লে উঠবে অপরূপ ইন্দ্রধণু
তোমার আর আমার রক্তের সমুদ্রকে ঘিরে
কখনো কি ভেবেছিলে?
কাল চিল্কায় নৌকোয় যেতে-যেতে আমরা দেখেছিলাম
দুটো প্রজাপতি কতদূর থেকে উড়ে আসছে
জলের উপর দিয়ে।- কী দুঃসাহস! তুমি হেসেছিলে আর আমার
কী ভালো লেগেছিল।
তোমার সেই উজ্জ্বল অপরূপ মুখ। দ্যাখো, দ্যাখো,
কেমন নীল এই আকাশ-আর তোমার চোখে
কাঁপছে কত আকাশ, কত মৃত্যু, কত নতুন জন্ম
কেমন করে বলি।